দীর্ঘক্ষণ দুজনে চুপচাপ শুয়ে রইল, যতোক্ষণ না প্রাসাদের দেয়ালের বাইরে অপেক্ষায়মান জনতার চিৎকার তাদের সচেতন করল।
টর্ক নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়িয়ে তার দিকে চেয়ে বলল, তুমি আমাকে লজ্জা দিলে। তুমি আমার বীর্য বৃথা করে দিয়েছ।
পুরোপুরি বিষয়টা বোঝার আগেই টর্ক তাকে ঘাড়ের পিছন ধরে সাদা ভেড়ার চামড়ার মধ্যে তার রক্তমাখা চেহারা চেপে ধরল সজোরে।
কোন ব্যাপার না, আমি তোমার নাকের রক্ত দিয়ে তা চালিয়ে নেব।
বলেই তাকে একপাশে সরিয়ে তার রক্তাক্ত চেহারা থেকে সাদা চাদরে লাগা লাল দাগটা পরখ করল গম্ভীর সন্তুষ্টির সাথে। তারপর নগ্ন অবস্থায়ই দরজার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে দাঁড়াল সে এবং লাথি মেরে দরজা খুলল। উজ্জ্বল দিনের আলোয় চাদরটা জনতা উদ্দেশ্যে দোলালো।
মিনটাকা নিজেকে সামলে বিছানার চাদর দিয়ে শরীর মুছল এবং তার শরীরের দাগগুলো পর্যবেক্ষণ করল। তার ভয় হিংস্রতায় রূপ নিল।
তলোয়ারের খাপটা টর্ক যেখানে ফেলেছিল তা সেখানেই রয়েছে। নীরবে সে বিছানা থেকে নেমে চকচকে ব্রোঞ্জের ফলাটা খাপ থেকে বের করে হামাগুড়ি দিয়ে ছাদে যাওয়ার দরজার নিকট গিয়ে দরজার বাজুর সাথে নিজেকে মিশিয়ে লুকালো।
বাইরে টর্ক জনতার উল্লাস স্বীকার করছিল এবং দাগওয়ালা ভেড়ার চামড়াটা উড়াচ্ছে সবাইকে দেখাতে। সে এটা পছন্দ করেছে। কোন একটা চিৎকার করা মন্তব্যের জবাব দিয়ে বলল। যখন আমি তার সাথে শেষ করলাম তখন সে ছিল প্রশস্ত এবং তাকে লাগছিল ডেল্টার ভেজা ঝোঁপের ন্যায় স্নিগ্ধ ও সাহারার মতো উষ্ণ।
মিনটাকা ভারি তলোয়ারের বাট তার মুঠিতে শক্ত করে ধরে নিজেকে একত্রিত করল।
বিদায় আমার বন্ধুরা, টর্ক চেঁচাল। আমি সেই মিষ্টি ফলের আরো এক কামড় নেওয়ার জন্যে আবার যাচ্ছি।
মিনটাকা তার খালি পায়ের আওয়াজ মেঝেতে শুনল এবং তারপর তার ছায়া দেখতে পেল প্রবেশ মুখে। দুই হাতে তলোয়ারটা শক্ত করে ধরে পেটের পরিমাণ উচ্চতায় নির্দিষ্ট করল সে।
টর্ক ঘরে প্রবেশ করতেই সে নিজেকে আরো দৃঢ় করল এবং তারপর নিজের সব শক্তি দিয়ে তাকে আঘাত করতে ছুটে গেল তার তল পেট বরাবর লক্ষ্য করে।
একদা অনেক দিন আগে যখন সে তার পিতার সাথে শিকার করছিল তখন সে তাকে একটা বিশাল পুরুষ চিতাবাঘ শিকার করতে দেখেছে যেটি তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে ছিল অসচেতন। বিড়ালটা তার পিতার ধনুকের টাং আওয়াজেই সচেতন হয়ে গিয়েছিল এবং তীরটা তাকে আঘাত করার আগেই একপাশে লাফিয়ে সরে যায়। টর্কও বিপদ ও জীবন সম্পর্কে একই রকম প্রবৃত্তি ধারণ করে।
আঘাতটা তখনো তার কাছে পৌঁছায়নি তার আগেই সে মোচড় দিয়ে তীক্ষ্ম ব্রোঞ্জের প্রান্ত থেকে সরে গেল। চামড়া না কেটে কিংবা এক ফোঁটা রক্ত না ঝড়িয়ে যা তার পাকস্থলির এক আঙ্গুল দূর দিয়ে সরে গেল। এদিকে টর্ক তখন সাথে সাথে তার বিশাল এক থাবায় মিনটাকার উভয় কব্জি ধরে ফেলল। সে হাতটা পিষল যতোক্ষণ না সে তার হাড়ে ব্যথা পেল এবং অস্ত্রটা মেঝেতে ছিটকে পড়ল।
সে তাকে ঘরের ভেতর টেনে নিতে নিতে একটা বিশ্রী শব্দ করে হাসতে লাগল। এলোমেলো ও ঘামে ভেজা বিছানার উপর সে তাকে ছুঁড়ে মারল। তুমি এখন আমার স্ত্রী, সে তার উপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে বলল। তুমি আমার আর সব একটা ঘোটকী কিংবা পোষা স্ত্রী কুকুরের মতই আমার সম্পত্তি। তোমাকে অবশ্যই আমাকে মান্য ও সম্মান করা শিখতে হবে।
মিনটাকা লিনেন কাপড়ে চেপে মুখ উপুড় করে শুয়ে আছে, তার দিকে তাকাতে তার রুচি হচ্ছিল না। টর্ক বিছানার পাশে পড়ে থাকা তলোয়ারের খাপটা তুলে নিল। এই আনুগত্যের পাঠটা জানা থাকলে তা তোমার নিজের জন্যে ভালো হয়। এখনকার একটু ছোট কষ্ট আমাদের দুজনকে পরবর্তী দুঃখ ও বেদনার হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা করবে।
সে খাপটা তার ডান হাতে নিল। মসৃণ চামড়া, স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতুর সুন্দর পাথরে সজ্জিত খাপটা সে তার নগ্ন পায়ের উপর এনে দোলালো। ফলে তার শুভ্র চামড়ার উপর তা একটা আঁচড় কেটে গেল এবং সেখানে উজ্জ্বল লাল রঙের দাগ ফেলল। মিনটাকা এতোটাই হত-বিহ্বল হল যে জোরে চিৎকার করে উঠল।
সে তার ব্যথায় হাসল এবং আবার খাপটা তুলে নিল। সে গড়িয়ে তার থেকে দূরে সরে যাবার চেষ্টা করল কিন্তু পরের আঘাতটা তার উঠানো ডান হাতে এবং পরেরটা তার কাঁধে আঁচড় বুলাল পর্যয়ক্রমে। এবার সে নিজেকে চিৎকার করা থেকে নিবৃত করল। বরং একটা তীর্যক হাসি দিয়ে দাঁত চেপে তার কষ্ট লুকানোর চেষ্টা করল এবং বন বিড়ালের মতো তার দিকে থুথু ছুঁড়ে মারল। এবার আরো জোরে তাকে আঘাত করল টর্ক।
টর্ক তাকে বিছানা থেকে নিচে ফেলে দিল। মিনটাকা পুনরায় তার হাত থেকে বাঁচতে মেঝেতে হামাগুড়ি দিয়ে দূরে সরে যেতে চাইল, কিন্তু টর্ক তাকে অনুসরণ করে তার পিঠ, কাধ ও নিতম্বে চাবুকের মতো আঘাত চালিয়ে গেল। তাকে নিয়মিত ছন্দে আঘাত করতে করতে সে তার উদ্দেশ্যে বলতে লাগল, তুমি আর কখনোই আমার দিকে হাত উঠাতে পারবে না, হাহ! দম পুরিয়ে যেতেই আবার জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলল, পরের বার যখন আমি তোমার কাছে আসব, হাহ্! তখন তুমি একজন স্নেহপরায়ণ স্ত্রীর মতই ব্যবহার করবে, হা-হা! নইলে তখন আমি আমার চারজন লোক দিয়ে তোমাকে ধরে তোমার উপর সওয়ার হবো হা-হা! তারপর যখন আমার দেহের স্বাদ মেটানো শেষ হবে তখন আমি তোমাকে আবার এভাবে পেটাব, হাহ্!
