ঐ ঘটনার পর মিনটাকা আর নিজে থেকে নতুন কাউকে তার বার্তা বাহক হিসেবে খুঁজে নেয় নি এবং এভাবে আর কাউকে নির্মম মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় নি। তথাপি তার একজন লিবিয়ান দাসী, থানা, যে মিনটাকার ভালোবাসার গভীরতা সম্পর্কে জানত তার বার্তা বহন করার জন্য এগিয়ে এসেছিল। সে মেয়েদের মধ্যে ততোটা সুন্দর নয় কারণ তার এক চোখ টেরা ছিল এবং নাকটা ছিল বড়। কিন্তু সে আনুগত্যে ছিল সৎ ও বিশ্বস্ত। তার পরামর্শে মিনটাকা তাকে একজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিল যে পরবর্তী দিনে থেব ভ্রমণ করবে। লোকটা থানাকে সাথে নিয়ে গেল, কিন্তু তিন দিন পর সে অ্যাভারিসে ফিরে এল, সীমান্ত প্রহরীদের রথের পাশের কাঠামোর সাথে কব্জি ও গোড়ালি বাঁধা অবস্থায়।
মানশি থেকে যাবার পথে টর্ক থানার সাথে মিলিত হয়। সে তাকে মৃত্যুদন্ড দিল, তবে ভালোবাসাময় মৃত্যু। তাকে একটি রেজিমেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হল যারা মানাশিতে দায়িত্বে ছিল। চারশর বেশি লোক তার সাথে আনন্দে মেতে উঠল, তততক্ষণ পর্যন্ত যখন তিন দিন পর সূর্যাস্তের সময় সে রক্তপাতে মারা গেল।
তিন দিন ধরে মিনটাকা বিরামহীনভাবে তার জন্য কাঁদল।
*
ফারাও টর্ক উরুক ও রাজকন্যা মিনটাকা অ্যাপেপির বিয়ে হিকস্ রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হল, যা ছিল হাজার বছর পুরানো এবং পূর্বদিকের এক হাজার ক্রোশ দূরের বৃহৎ বৃক্ষহীন অ্যাশিরিয়া পর্বত পেরিয়ে কোন এক প্রান্তর থেকে তা এসেছিল, যেখান থেকে তাদের পূর্ব পুরুষেরা এ মিশর দখল করতে এসেছিল।
বিয়ের দিনের সকালে ২০০ জন আত্মীয়স্বজন ও রাজকুমারী মিনটাকার শোমশ্রেণীর সদস্যরা রাজকীয় প্রাসাদে জড়ো হলো। এ প্রাসাদেই সে অ্যাভারিসে ফেরার পর থেকে বন্দী হয়ে আছে। রক্ষীদের পক্ষ থেকে কোন বাধা ছিল না, এমনকি তারা কোন আকস্মিক হামলার আশংকাও করছিল না।
তার গোষ্ঠীর সদস্যরা রাজকন্যা মিনটাকাকে তাদের সাথে করে পূর্ব দিকে নিয়ে চলল। কান ফাটানো চিৎকার, মুগুর ও কাঠের অস্ত্রের ঝনঝনানি আওয়াজে কানে তালা লাগার উপক্রম। যে কোন ধারালো অস্ত্র অনুষ্ঠানে ছিল নিষিদ্ধ।
বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হলে বরের নিজের স্বজাতির একটা দল এগিয়ে এল তার নেতৃত্ব দিতে। এদিকে চিতা বাঘের অনুসারী লোকেরা পালিয়ে যাওয়ার আবশ্যকতা দেখাল না এবং যখনই তারা দৃষ্টি সীমায় এলো তারা পিছু ঘুরল এবং উল্লাসিতভাবে নিজেরা দ্বন্দ্বে যুক্ত হলো। যদিও কোন তলোয়ার ও ছুরি আনার অনুমতি ছিল না তবুও দুজন আঘাত পেল এবং কিছু লোকের খুলি ফেটে গেল। এমনকি বরও কাঁটা ও ক্ষতের হাত থেকে বাঁচল না। শেষে টর্ক তার প্রত্যাশিত পুরষ্কার দাবি করল। সে এক হাতে মিনটাকার কোমর ধরে টেনে নিল এবং তার রথে উঠাল।
মিনটাকার বাধায় ন্যূনতম অভিনয় ছিল না এবং সে তার হাতের নখ দিয়ে টর্কের চেহারার ডান দিকে আঁচড় কাটল যা অল্পের জন্যে তার চোখে লাগল না এবং সে স্থান থেকে বের হওয়া রক্তের ফোঁটা তার পোশাকের দীপ্তি নষ্ট করে দিল।
সে আপনাকে অনেক যোদ্ধ-বাজ সন্তান দিবে। তার সমর্থকরা মিনটাকার বাধার হিংস্রতায় চিৎকার করে প্রশংসা করল।
হবু বধূর তেজস্বিয়তায় আনন্দে দাঁত বের করে হেসে টর্ক বিজেতার মতো তাকে নিয়ে মন্দিরে ফিরে চলল। সেখানে তার নির্দেশে নতুন নিয়োগ পাওয়া যাজকেরা শেষ নিয়ম পালনের অপেক্ষায় আছে।
মন্দিরটা এখনো ভিত্তি প্রস্তরের গর্ত এবং লম্বা পাথরের স্তম্ভের স্তূপে উন্মুক্ত। কিন্তু এসব কিছুই বিবাহে যোগ দেওয়া অতিথিদের খুশি কিংবা বরের উচ্ছ্বাস কোন কিছুকে স্নান করতে পারল না। জলজ উদ্ভিদের তৈরি ছাউনির নিচে তারা দাঁড়াতেই প্রধান যাজক মিনটাকাকে টর্কের সাথে একটা ঘোড়ার রশি দিয়ে বেঁধে দিল।
অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্যায়ে টর্ক তার প্রিয় বৃদ্ধ ঘোড়ার গলা কাটল, যা ছিল একটা চমৎকার সুন্দর বাদামী রঙের স্টালিয়ন। এর দ্বারা সে বোঝালো যে সে তার জন্য মূল্যবান সম্পদের চেয়েও তার নববধূকে সে বেশি মূল্য দেয়। যখন পশুটা মাটিতে পড়ে লাথি মারছিল ও তার কাটা বৃহৎ ধমনী দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছিল তখন লোজন হর্ষ ধ্বনি করে উঠল এবং নব দম্পতিকে পুষ্প রথে তুলে দিল।
টর্ক প্রাসাদের উদ্দেশ্যে রথ চালালোলা এবং তার এক হাত নববধূকে শক্ত কর ধরেছিল যেন সে কোন পালানোর সুযোগ না পায়। আর্মিরা রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে রথটার চারপাশে জড়ো হয়ে থাকল এবং ককপিটে উদ্দেশ্যে চলল সবার উপহার। অন্যেরা টর্কের সামনে মদের বোল ধরল এবং সে তা গলাধরণ করল। এর বেশির ভাগই সে তার পোশাকে ফেলল যা তার কেটে যাওয়া গালের রক্তের সাথে মিশে গেল।
যখন তারা প্রাসাদে পৌঁছল টর্ক তখন রক্ত ও লাল মদে ভিজে একাকার। সে ভ্রমণ ও তার নববধূকে পাওয়ার যুদ্ধে ঘর্মাক্ত এবং চেলাই মদের নেশায় উন্মাদ ও চোখ তার বন্য কামনায় সিক্ত।
সে লোকজনের মধ্য দিকে মিনটাকাকে তাদের নতুন কক্ষে নিয়ে গেল। দরজার দাঁড়ানো রক্ষীরা বিয়ের অতিথিদের তাদের উন্মুক্ত তরবারি দিয়ে পিছু হটালো। তারা কোন গন্ডগোল করল না কিন্তু প্রাসাদ ঘিরে রইল এবং বরকে উৎসাহ দিল ও কনেকে উপদেশ দিল অশ্লীল ভাষায়।
কক্ষে প্রবেশ করেই টর্ক মিনটাকাকে বিছানায় বিছানো সাদা ভেড়ার চামড়া চাদরের উপর ছুঁড়ে মারল। তারপর দুহাত দিয়ে নিজের তলোয়ারের বেল্ট খোলার যুদ্ধে নামল। মিনটাকা বিছানায় পড়ে ভয়ে গর্ত থেকে বের হওয়া খরগোশের ন্যায় উঠে বসল।
