এটি আমার রাজ আজ্ঞাপত্ৰ, যা দ্বারা অ্যাপেপির বংশধর রাজকন্যা মিনটাকার সাথে ট্যামোস বংশধর ফারাও নেফার সেটির বিবাহের বিষয়টি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অধিকন্তু এটা রাজকন্যা মিনটাকার সাথে ফারাও টর্ক উরুকের বিয়ের ঘোষণা ধারণ করে। এ দাবি ফারাও নেফার সেটির পক্ষ থেকে লর্ড নাজা কর্তৃক অনুমোদিত। সে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে ক্রৌলটা তার প্রাসাদ সরকারের হাতে দিল। এই আজ্ঞাপত্রের এক হাজার কপি তৈরি করে মিশরের প্রতিটি স্থানে প্রতিটি রাজ্যে প্রদর্শন করুন।
তারপর দুই হাতে ধরে সে মিনটাকাকে দাঁড় করাল, আপনি আর বেশিক্ষণ একা থাকবেন না। আমি এবং আপনি অসিরিসের পূর্ণিমার পূর্বেই স্বামী ও স্ত্রী হবো।
*
তিনদিন পর ফারাও টর্ক উরুক তার মিলিটারি রাজধানী নিম্ন রাজ্যের অ্যাভ্যারিসে পৌঁছল এবং সাথে সাথে অক্লান্ত উদ্যোমে রাজ্যের সকল বিষয়ে নিজের কর্তৃত্ব স্থাপন করল এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করল।
হাথোর শান্তি চুক্তি এবং সামনের দিনগুলোতে শক্তি ও উন্নতির ওয়াদার কথা শুনে জনগণ আনন্দে উন্মত্ত হয়ে গেল। যাই হোক কিছু বিভ্রান্তি ও হতাশার সৃষ্টি হল যখন নতুন ফারাও প্রথমে আইন প্রণয়ন করে আরো সংখ্যক লোক আর্মিতে নেয়ার ঘোষণা দিল। এটা দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে গেল যে সে পদাতিক বাহিনী দ্বিগুণ এবং আরো এক হাজার নতুন যুদ্ধ রথ তৈরি করতে চায়।
প্রশ্ন করা হয়েছিল তবে তা টর্কের সামনে নয়, সে এখন আবার নতুন কোন শত্রু খুঁজে পাওয়ার আশা করছে যেখানে মিশর আরো একবার একত্রিত হলো এবং শান্তি এল। শস্যক্ষেত থেকে মজুর কমল এবং আর্মিতে যোগ দেওয়ার ফলে খাবারের ঘাটতি দেখা দিল। ফলে বাজর দর বাড়তে লাগল। নতুন রথ, অস্ত্র এবং মিলিটারি মালপত্রের ব্যয়ের জন্য কর বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়ল। একটা গুঞ্জন উঠল যে অ্যাপেপি তার রাগ সত্ত্বেও বর্তমান এই বদরাগী, কর খেকো ও প্রভুদের ঘৃণাকারী শাষকের ন্যায় এতোটা খারাপ ছিল না যতোটা তারা টর্ককে মনে করেছে।
সপ্তাহের মধ্যে টর্ক অ্যাভারিসের প্রাসাদকে আরো বড় ও চকচকে করার আদেশ দিল। সে তার স্ত্রী রাজকন্যা মিনটাকাকে নিয়ে এখানে থাকার ইচ্ছা পোষণ করল। প্রকৌশলীরা হিসেব করে দেখল যে এ কাজে দুই লাখ স্বর্ণমুদ্রা লাগতে পারে। গুজব আরো তীক্ষ্ণ হলো।
এদিকে সদ্য অসন্তোষের ব্যাপারে সচেতন হয়েই টর্ক সর্ব প্রভুর মন্দিরে তার নিজের অলৌকিকতা ও উত্থানের দাবি করল। সপ্তাহের মধ্যে অ্যাভারিসে সেথের মন্দিরের পাশে পছন্দসই স্থানে সে নিজের মন্দির তৈরির কাজ শুরু করল। তার মন্দির যেন তার প্রভু ভাই এর মন্দিরের চেয়ে দীপ্যমানতায় ছাড়িয়ে যায় এ ব্যাপারে টর্ক সংকল্পবদ্ধ ছিল। প্রকৌশলীরা হিসেব কষে দেখল মন্দিরের কাজ শেষ হতে কমপক্ষে পাঁচ হাজার শ্রমিকের পাঁচ বছর লাগবে এবং আরো দুলাখ স্বর্ণের দরকার হবে।
বিদ্রোহ শুরু হলো ব-দ্বীপ এলাকায়, যেখানে এক রেজিমেন্ট পদাতিক বাহিনী যাদের এক বছরের বেশি সময় ধরে বেতন দেওয়া হয় নি। তারা তাদের অফিসারদের হত্যা করল এবং অ্যাভারিসের দিকে এগোতে লাগল। তারা স্বৈরচারের বিরুদ্ধে জনগণকে জাগার আহ্বান জানাল এবং তাদের সাথে যোগ দেবার ডাক দিল।
তিনশ রথ নিয়ে টর্ক মানাশির নিকট তাদের সাথে সাক্ষাৎ করল এবং প্রথমেই তাদের টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলল।
সে পাঁচশ বিদ্রোহীকে খোঁজা করল এবং শূলে চড়াল। একটা ভয়ংকর বনের ন্যায় মানাশি গ্রামের আদূরে অর্ধক্রোশ দূরে তাদের রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ করে সাজিয়ে রাখা হল। বিদ্রোহে নেতৃত্ব দানকারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে অনুশোচনা বর্ণনা করার জন্যে অ্যাভারিসের উদ্দেশ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া হল। দুর্ভাগ্যবশত: সে যাত্রায় কোন বন্দীই জীবিত রইল না। সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তাদের আর মানুষ বলে চেনা গেল না। রুক্ষ ভূমির উপর দিয়ে টেনে নেওয়ার সময় তাদের বেশিরভাগ চামড়া ও মাংস ছিঁড়ে গেল। মাংসের ছিন্ন টুকরো ও হাড়ের টুকরো বিশ ক্রোশ রাস্তা জুড়ে বন্য কুকুর, শিয়াল ও মাংসখোকা কাকদের আনন্দ দানের জন্য ছড়িয়ে রইল।
কেবল কয়েকশ বিদ্রোহী এই নৃশংস হত্যাকান্ড থেকে পালাতে পারল এবং মরুতে তারা অদৃশ্য হয়ে গেল। টর্ক তাদের পূর্বের সীমান্তের বেশি ধাওয়া করার কষ্ট করল না কারণ এই তুচ্ছ বিষয় ইতোমধ্যে তার অনেক মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে এবং তার বিয়েটা একমাস দেরি করিয়ে দিয়েছে। অ্যাভারিসে ফেরার জন্যে সে হিংস্র রকমের অধৈর্য আর তাই সে তিনজোড়া ঘোড়া ব্যবহার করল ফিরতে।
যখন টর্ক বাইরে ছিল, মিনটাকা দুইবার থেবসে টাইটার কাছে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তার বার্তাবাহকদের প্রথমজন ছিল হারেমের একজন খোঁজা মোটা, দয়ালু কালো লোক যাকে সে তার পুরো জীবন ধরে চেনে। উভয় রাজ্যে খোঁজাদের মধ্যে একটা বিশেষ বন্ধন রয়েছে আর এখনতো তা এক জাতি বা দেশে পরিণত হয়েছে। এমনকি এ বছরগুলোতে যখন দুই রাজ্য আলাদা ছিল, সোথ যা ঐ খোঁজার নাম টাইটাকে বিশেষ সম্মান করে গেছে এবং সে তার বন্ধু ও বিশ্বস্ত।
কিন্তু টর্কের গুপ্তচরেরা সর্বব্যাপী ছড়ানো ও বিদ্রি ছিল। তাই সোথও অ্যাসউতে পৌঁছাতে পারে নি। তাকে মৃত অবস্থায় চামড়ার থলেতে ভরে ফিরিয়ে আনা হয়। যখন তার মাথাটা ফুটন্ত পানির বড় কড়াইতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় তখনই সে মারা গিয়েছিল। তার খুলির মাংস সিদ্ধ হয়ে খুলে গিয়ে রঙিন ও চকচকে হাড় বেরিয়ে এসেছিল। তার অক্ষি কোঠরদ্বয় দামী পাথরে পূর্ণ করে মিনটাকাকে ফারাও টর্কের পক্ষে থেকে সে খুলি বিশেষ উপহার হিসাবে দেওয়া হলো।
