সকলে এবার রামোনের দিকে তাকাল। উত্তরটা আগেই তৈরি করে রেখেছে কর্নেল জেনারেল।
“কমরেড আপনাদের সবার কথাতেই যুক্তি আছে। কিন্তু এএনসি হোক কিংবা সোভিয়েত রাশিয়া উত্তেজনা একদিনেই ফুরিয়ে যাবে। তাই আমার মনে হয় খানিকটা করে তথ্য চাউর করে দেখা যাক কী ঘটে।”
সবাই চিন্তায় পড়ে গেল। রামোন বলে চলল, “আমার মনে হয় নিজেরা না বলে এই ঘোষণা দেবার দায়িত্ব আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠের উপর ছেড়ে দিলেই ভালো হবে; যা ইউনাইটেড স্টেটসহ শাসন করে পুরো পশ্চিমা বিশ্ব।”
দ্বিধায় পড়ে গেলেন ইউদিনিচ, জেরাল্ড ফোর্ডঃ ইউনাইটেড স্টেটসের প্রেসিডেন্ট?”
“না, কমরেড মিনিস্টার। গণমাধ্যম। আমেরিকার সত্যিকারের সরকার। ফ্রিডম অব স্পিচের মতো শক্তিশালী আর কোনো অস্ত্র নেই। আমরা কোনো প্রেস কনফারেন্স কিংবা অ্যানাউসমেন্ট কিছুই করব না। যা করার করবে আমেরিকান টেলিভিশন নেটওয়ার্কস। খানিকটা গন্ধ ছড়িয়ে দিলে তারা নিজে থেকেই খুঁজে বের করবে। খরগোশের গর্ত। এটা যে কতটা কার্যকরী তা তো আপনারা নিজেরাই জানেন, হাউন্ডের মতো তাদের উত্তেজনা বেড়ে যাবে যখন জানতে পারবে যে শিকার পুরোপুরি একা। “ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম” নামে আদর করে ডাকে যারা তাদের সরকার। সরকারের মিত্র আর ক্যাপিটালিস্ট সিস্টেমের সবচেয়ে ক্ষতি করতে পারে। অথচ তাদেরকেও সাহায্য করে এই সিস্টেম।”
এক দৃষ্টিতে খানিক তাকিয়ে থেকে হেসে ফেললেন ইউদিনিচ “আমি শুনেছি আফ্রিকাতে আপনাকে নাকি সবাই ফক্স ডাকে কমরেড জেনারেল।”
“দ্য গোল্ডেন ফক্স।” বোরোদিন শুধরে দিতেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল ইউদিনিচ।
“নিজের নামের সার্থকতা আপনি যথেষ্টই প্রমাণ করেছেন কমরেড জেনারেল। তাহলে আরো একবার আমাদের হয়ে কাজ করে দিক আমেরিকা আর ব্রিটেন।”
***
স্কাইলাইট অপারেশনের সফলতা শতগুণে বাড়িয়ে দিল লাল গোলাপের মূল্য। কিন্তু কিছু সমস্যাও দেখা দিল।
দক্ষ হাতে এখন মেয়েটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সাথে উৎসাহও দিতে হবে। স্কাইলাটের জন্য ওকে এখনই পুরস্কার অর্থাৎ নিকোলাসের কাছে আসার সুযোগ দিতে হবে।
সম্প্রতি তার মাঝে বসতি করা বুর্জোয়া মনোভাবের কারণে দায়িত্বের অবহেলা করতে মোটেই রাজি নয় রামোন। ভালই জানে যে প্রয়োজন পড়লে নিকোলাসকেও উৎসর্গ করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না।
তার আগ পর্যন্ত কোনো ভাবেই নিকোলাসকে কোনো বিপদের মুখে পড়তে দেয়া যাবে না। বিশেষ করে লাল গোলাপ কিংবা অন্য কেউই যাতে ছেলেটাকে রামোনোর কাছ থেকে নিয়ে যাবার চেষ্টা না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তাই আবারো স্পেনে হাসিয়েন্দার কথাই মনে এলো। কিন্তু যদি দক্ষিণ আফ্রিকার এজেন্টের মাধ্যমে মাদ্রিদে ব্রিটিশ অ্যামবাসিতে নিকিকে নিয়ে চলে যায় লাল গোলাপ? না স্পেনও নিরাপদ নয়।
হ্যাঁ মস্কো কিংবা হাভানা’তে দেখা করার ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু তাতেও তার প্রভুদের অস্তিত্ব জেনে যাবে লাল গোলাপ। তারমানে এই পথও বন্ধ।
হাতে বাকি রইল চিকাৰ্মা নদীর ধারে। টাসিও বেস। এখানে হাজার মাইলের ভেতরে কোনো বিদেশি দূতাবাস নেই। নিকোলাস তো আছেই। লাল গোলাপকে আনতেও তেমন ঝামেলা হবে না। টার্সিওতে এলে পৃথিবীর কারো সাধ্য নেই
লাল গোলাপকে রামোনের হাত থেকে বাঁচায়।
সুতরাং টার্সিওই সই।
***
ঘুম থেকে জেগে উঠলেও ইসাবেলা প্রথমে বুঝতেই পারল না যে কোথায় আছে। এরপরই বুঝতে পারল যে বদলে গেছে আইলুশিনের ইঞ্জিনের শব্দ না ঘুমানোর মতো চেষ্টা সত্তেও জাম্প সিটের উপর বসে চোখ বুজে ফেলেছিল।
দ্রুত একবার হাতঘড়ি দেখে নিল। লুসাকা ছাড়ার পর দুই ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট পার হয়ে গেছে। সিটের উপর খানিক উঠে বসে পাইলটের কাঁধের, উপর দিয়ে ইনস্টমেন্ট প্যানেল চেক করল বেলা। একই হেডিং’য়ে থাকলেও নামতে শুরু করেছে প্লেন।
ককপিটের উইন্ডস্ক্রিন দিয়ে সামনে তাকাতেই দেখা গেল অলস সন্ধ্যাতে পানির মাঝে ডুবে যাচ্ছে সূর্য।
লেক? স্মৃতি হাতড়ে এতবড় কোনো আফ্রিকান লেকের কথা মনে করতে না পারলেও আচমকা চিন্তাটা এলো মাথায়।
“দ্য আটলান্টিক! আমরা পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে গেছি।” আবারো চোখ বন্ধ করে আফ্রিকার ম্যাপ মনে করতে চাইল বেলা, “অ্যাঙ্গোলা, কিংবা জায়ারে।”
নীল আটলান্টিকের বুক চিরে ফুটে উঠেছে সাদা কোরাল সৈকত।
বেশ চওড়া আর বাদামি রঙা একটা নদীর মুখ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কঙ্গো কিংবা লুয়ান্ডা নদী নয়। হৃদের উপরে কয়েক মাইল গেলেই নদী জোড়া এসের রূপ নিয়েছে। এর সামনেই লাল কাদামাটির ল্যান্ডিং স্ট্রিপ। নদীর মোড়ে এখানে গড়ে উঠেছে খড়ে ছাওয়া কুঁড়ে ঘরের বিস্তৃত বসতি।
মাটিতে নেমে ট্যাক্সি করে স্ট্রিপের শেষ মাথা পর্যন্ত চলে গেল ক্যান্ডিড। পাইলট ইঞ্জিন বন্ধ করতেই এগিয়ে এলো কয়েকটা ট্রাক। দেখা গেল ক্যামোফ্লেজ পোশাক পরিহিত অসংখ্য সশস্ত্র সৈন্য।
“এখানেই-অপেক্ষা করুন।” জানাল পাইলট, “আপনাকে নিতে আসবে।”
ফ্লাইট ডে’কে প্রবেশ করল দুই অফিসার। এদের মাঝে একজন মেজর। ব্যাজ কিংবা ব্যাঙ্ক ছাড়া আর কোনো চিহ্ন নেই।
কোন দেশি হতে পারে ভাবতে ভাবতেই মেজর স্প্যানিশ বলে উঠল, “ওয়েলকাম সিনোরা, প্লিজ আমাদের সাথে আসুন।”
