“তেল অনুসন্ধান।” সরাসরি লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন শাসা।–কুঁচকে তাকালেও আর কোনো মন্তব্য করলেন না স্যার পার্সি। যাই হোক তিনদিন পরে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ভেটো দিল ব্রিটেন। আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে এলো ঝড়।
ইস্রায়েলের উদ্দেশ্যে রওনা হবার আগে ইসাবেলাকে ফোন করল অ্যারন ফ্রাইডম্যান। গো ধরল বেলাও যেন ওর সাথে যায়।
“তুমি অনেক লক্ষ্মী, অ্যারন।”
জানালো ইসাবেলা। “কিন্তু আমাদের দুজনের জীবনধারাই ভিন্ন। হয়তো অন্য কোনো একদিন আবার আমাদের দেখা হবে।”
“আমি তোমাকে কখনো ভুলবো না। বেলা।”
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটে ফর স্টেট সিকিউরিটি সাড়াশি অভিযান চালানো বিশ্বাসঘাতকের খোঁজে। কিন্তু মাস পার হয়ে গেলেও কিছুই না পেয়ে ধরে নেয়া হল যে দেশ ছেড়ে যাওয়া চারজন ইস্রায়েল বিজ্ঞানীদের কেউ একজন নিশ্চয়ই এমনটা ঘটিয়েছে।
তদন্তের গোপন রিপোর্টটা পড়ে অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন শাসা; জানতে পারলেন তার আদরের কন্যাও একরাত কাটিয়ে এসেছে পেলিনডাবাতে।
“ওয়েল, তুমি নিশ্চয় ভাবোনি যে বেলা এখনো কুমারী নাকি? সেনটেইন চাইলেন ছেলেকে সান্তনা দিতে।
“নাহ, সেটা না।” স্বীকার করলেন শাসা। “তারপরেও এমনটা হবে ভাবিনি।”
“বেলা হয়তো একটা চেঞ্জও চেয়েছিল।”
“যাই-হোক, ভালই হয়েছে যে প্রফেসর-ব্যাটা চলে গেছে।”
“কিন্তু একেবারে খারাপ ছিল না।” খোঁচা দিলেন সেনটেইন।
স্তব্ধ হয়ে গেলেন শাসা।
“কী বলছ, লোকটার বয়স জানো?”
“বেলা’রও ত্রিশ চলছে। প্রায় বুড়ি।”
“সত্যি?” বিস্মিত হয়ে গেলেন শাসা, “বছর যে কোথা দিয়ে কেটে যায়।”
“ও’কে এখনই একটা হাজব্যান্ড খুঁজে দেয়া উচিত।”
“এত তাড়াহুড়ার তো কিছু নেই।” মেয়েকে হারাতে চান না শাসা, মন চাইছে সব এভাবেই চলুক যেভাবে চলছে।
***
খুব দ্রুত পুরস্কার পেয়ে গেল ইসাবেলা। মাসখানেকের ভেতর নিকি’র সাথে হলিডে কাটানোর অনুমতি পেয়ে গেল। ওকে আরো জানানো হলো যেন দুই সপ্তাহের ছুটি নিয়ে নেয়; দেশের বাইরে কাটানোর জন্য।
“দুই সপ্তাহ!” আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল বেলা, “উইদ মাই বেবি! আমারতো বিশ্বাসই হচ্ছে না।”
এক ফুয়ে উড়ে গেল সব অপরাধবোধ। স্কাইলাইট দুনিয়াতে হেডলাইন হয়ে যাওয়ার পর নিজেকে এই বলে সান্তনা দিয়েছিল যে মানবজাতিকে বড় একটা হুমকির হাত থেকে বাঁচিয়েছে ওর বিশ্বাসঘাতকতা।
পরিবারের সদস্যদের সাথে কিংবা পার্লামেন্টে অন্য সিনেটরদের সাথে ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করার সময় দেশপ্রেমের ফুলকি ছোটালেও গভীর গোপনে ঠিকই জানে-বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
নানা আর শাসা’কে জানালো যে হ্যারিয়েট ব্যচ্যাম্পের সাথে দেখা করতে জুরিখ যাচ্ছে। কম্বি ভাড়া করে দুই সপ্তাহ সুইজারল্যান্ডে কাটানোর কথা এই বলে শেষ করল যে,
“ফিরে আসার আগে আর কোনো সংবাদ আশা করো না।”
“তোমার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ আছে?” জানতে চাইলেন শাসা।
“অহেতুক বাজে বকো না তো বাবা-” শাসা’কে কিস করে বেলা জানাল, “আমার ট্রাস্ট ফান্ড তত তুমিই করে দিয়েছ, সিনেটের ডাবল বেতন দিচ্ছ।”
“তারপরেও লুজানের ক্রেডিট সুইসের একজনের দাম দিচ্ছি, যদি প্রয়োজন পড়ে”
“ইউ আর সো সুইট, কিন্তু আমি তো কিশোরী নই আর!”
“মাঝে মাঝে মনে হয় তা হলেই ভাল হত, মাই লাভ।”
জুরিখের উদ্দেশ্যে সুইস এয়ারফ্লাইট ধরলেও নাইরোবিতে নেমে গেল বেলা। নরফোক হোটেলে চেক ইন করে নানা’কে ফোন করল; ভান করল যেন জুরিখেই আছে।
“হ্যাভ ফান আর চোখ-কান খোলা রেখো যদি কোনো মিলিওনিয়ারকে পাকড়াও করতে পারো।”
“তোমার জন্য নানা?”
“তোমার বয়সও তো কম হলো না মিসি”।
নির্দেশ মতো এয়ার কেনিয়া ফ্লাইটে চড়ে জামিয়ার লুসাকা’তে চলে এলো বেলা। এয়ারলাইন বাস ধরে পৌঁছে গেল রিজওয়ে হোটেল।
ডিনারের আগে সুইমিং পুল টেরাসে বসে জিন আর টনিকের অর্ডার দিল বেলা। কয়েক মিনিট পরে সুদর্শন আর কৃষ্ণাঙ্গ এক তরুণ এলো তার টেবিলে।
“লাল গোলাপ?”
“বসুন।” মাথা নাড়লেও ধুপধুপ করে উঠল বুক, ঘামতে লাগলো হাতের তালু।
“আমার নাম পল।” ড্রিংকের অফার প্রত্যাখ্যান করে বলে চলল কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ, “প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো রকম বিরক্ত করব না আপনাকে। কাল সকাল নয়টার মাঝে রেডি হতে পারবেন? হোটেলের সদর দরজায় ট্রান্সপোর্টে দেখা করব।”
“কোথায় নিয়ে যাবেন?”
“আমি জানি না।” উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল তরুণ, “আর আপনিও জানতে চাইবেন না।”
পরদিন কথামতো তৈরি হয়ে গেল বেলা। দোমড়ানো একটা ভক্সওয়াগানে করে ওকে এয়ারপোর্টে ফিরিয়ে নিয়ে এলো সুদর্শন কৃষ্ণাঙ্গ। কিন্তু কর্মাশিয়াল টার্মিনাল ছাড়িয়ে গাড়ি এগিয়ে গেল সংরক্ষিত সামরিক এলাকার দিকে।
ঝাঁ ঝাঁ রোদের মাঝে অ্যাপ্রন পরে দাঁড়িয়ে আছে জাম্বিয়ার অবশিষ্ট মিগ ফাইটারস স্কোয়াড্রন। মাত্র গত মাসেই চারবার দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। অর্থের অভাবে ধুঁকতে থাকা ফাইটার স্কোয়াড্রনকে সকলে তাই ডাকে “দ্য ফ্লাইং বম্বস।”
ফাইটারদের পেছনেই দেখা গেল বিশাল একটা আনমাকর্ড এয়ারক্রাফট। চারটা টার্বো-ফ্যান ইঞ্জিন অলা প্লেনটার লেজ দোতলা বাড়িয়ে চেয়েও বড়। ইসাবেলা চিনতে না পারলেও এর নাম হল আইলুশিন আই ওয়ান-৭৬ ন্যাটো যাকে ডাকে “ক্যান্ডিড”। স্ট্যান্ডার্ড রাশান মিলিটারি হেভি ক্যারিং ট্রান্সপোর্ট।
