“চলুন, আস্তাবলে কে আগে যায় দেখি।” কামুক হাসি হেসে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসল বেলা। ওর চেস্টনাট ঘোটকীর ধারে কাছেও আসতে পারবে না। বুড়ো খোঁজা।
পরবর্তী তিনদিনে অ্যারন ফ্রাইডম্যানের জীবন অতিষ্ট করে তুলল বেলা। সুইমিং পুলে ওয়াটার পোলো খেলা, ডিনার টেবিলের নিচে অ্যারনের ঊরুতে হাত রাখা, লনে শুয়ে ওর সামনে বিকিনির টপ ঠিক করা; অ্যারনের মাথা খারাপ হবার যোগাড়। উপরন্তু হান্টিং ল্যান্ড রোভারে উঠার সময় সাহায্য করতে গিয়ে নিজের স্বচ্ছ প্যান্টি দেখারও সুযোগ করে দিল বেলা। বারান্দায় ডান্স করার সময় অলস ভঙ্গিতে ঘুরতে থাকা বেলা’র কোমর দেখে তো রীতিমতো দমবন্ধ করে ফেলল অ্যারন।
ড্রাগনস ফাউন্টেন ছেড়ে গ্যারির সাথে ট্রান্সভ্যালে যাবার আগের দিন নিজের রুমে অ্যারনকে অনুমতি দিল বেলা; এমনকি করিডোরে দাঁড়িয়ে গুড নাইটও জানালো। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে পরস্পরকে কিস করতে গিয়ে নিজের আকুতিও আবিষ্কার করল বেলা। অ্যারনের মতই সেও প্রচণ্ড ভাবে কামনা করছে তার সান্নিধ্য। চাইছে না থামুক ওর স্কার্টের নিচে ঘুরে বেড়ানো সেই স্পর্শ। পিয়ানিস্টদের মতো হালকা চালে দুলছে অ্যারনের স্পর্শ।
“আজ রাতে দরজা খোলা রাখবে না?” ফিসফিস করে বেলা’র কানে কানে বলল অ্যারন। বহুকষ্টে নিজেকে সামলে অ্যারনকে দূরে সরিয়ে দিল বেলা।
“তুমি পাগল?” ফিসফিস করেই জানালো, “ঘর ভর্তি সব আমার পরিবারের লোকজন বাবা, ভাই, দাদিমা আর ন্যানি।”
“হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি- তুমি আমাকে পাগল করে দিয়েছ। আই লাভ ইউ; আই ওয়ান্ট ইউ। আর সইতে পারছি না এই নির্যাতন। এভাবে আর পারছি না।”
“আমি জানি। আমারও একই অবস্থা। জোহানে বার্গে চলে আসব, ভেবো না।
“কবে? ওহ, প্লিজ বলো কবে ডালিং?”
“তোমাকে ফোন করে জানাবো। নাম্বার রেখে যাও।”
***
৫. সিনেটের সিভিল সার্ভিস
সিনেটের সিভিল সার্ভিস পেনশনের এনকোয়ারি কমিটিতে কাজ করছে ইসাবেলা। পরের মাসে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাই আরো দু’জন সদস্যসহ ট্রান্সভ্যাল যেতে হল। জোহানেসবার্গে হোলি এবং গ্যারির বাসায় উঠে সকালবেলা ফোন করল অ্যারনের কাছে।
ছোট্ট একটা রেস্টোরেন্টে দেখা করল দু’জনে। ক্রেফিস আর ককটেল খেতে খেতে হালকা চালে জানাতে চাইল নিউক্লিয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউড সম্পর্কে।
“ওহ, আর বলো না। সবকিছু আসলেই অনেক বোরিং। এন্টি পার্টিকেল আর প্রাথমিক সব কণা হাসতে হাসতে এড়িয়ে যেতে চাইল অ্যারন।” তুমি জানো কোয়ার্ট নামটা জেমস জায়েসের উক্তি থেকে এসেছে, “থ্রি কোয়ার্কস ফর মাস্টার মার্ক, কোয়ার্ট বলা উচিত আসলে।”
“বাহু, বেশ মজা তো।” টেবিলের নিচে অ্যারনের উরুতে হাত রাখল বেলা; অ্যারনও হাত ধরল, “তোমার কাজ নিশ্চয়ই বেশ কঠিন?”
“হ্যাঁ, তা বলতে পারো।” কয়েক ইঞ্চি উপরে উঠে গেল অ্যারনের আঙুলগুলো।
“হুম, বুঝতে পেরেছি।” চোখ বড় বড় করে ফেলল বেলা, “ডিনারের পর ডান্স করবে?”
“তার বদলে কফি খেতে আমার অফিসেও যেতে পারি।”
“আমার আসলে তেমন ক্ষিধে নেই। ক্রে ফিস্ খেয়েই পেট ভরে গেছে। পরের কোর্সটা বাদ দেই। কী বলো?”
“ওয়েটার, বিল প্লিজ।”
পোলিনডাবাতে কম্পাউন্ডের ভেতরে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে অ্যারনের ফ্ল্যাট আছে। ফ্যাসিলিটির মেইন রিসার্চ আর রিঅ্যাকটর এরিয়ার মতো এখানে সিকিউরিটি তেমন কড়া না হলেও ভিজিটর বুকে সাইন করতে হল বেলা’কে। তাকে’ও ভিজিটর পাশ দিয়ে দিল গার্ড।
বহুদিন পুরুষ সঙ্গ থেকে বঞ্চিত বেলা’কে তৃপ্ত করে দিল অ্যারন। প্রথমে খানিক ভদ্র আচরণ করলেও বেলা’র আকাঙ্ক্ষা টের পেয় সে নিজেও বেশ তৎপর হয়ে উঠল।
শীর্ষ সুখের সন্ধিক্ষণে জানতে চাইল তৃপ্ত বেলা :
“তোমার রাশি কী?”
“বৃশ্চিক।”
“আহ্, সে জন্যেই-বৃশ্চিক রাশির জাতকেরা প্রেমিক হিসেবে অসাধারণ। কোন দিন?
“সাতই নভেম্বর।”
ডিম আর হাসি দিয়ে সকালবেলা একসাথে ব্রেকফাস্ট সারল দুজনে। অ্যারনের পাজামা পরে ওকে অফিসের জন্য বিদায় জানাল বেলা।
“মেইন গেইটের গার্ডের সাথে আমি কথা বলে নেব। তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বের হতে হবে না।” বেলা’কে কিস করল অ্যারন, “আর যদি লাঞ্চ পর্যন্ত ও থেকে যাও, আমি কিছুই মনে করব না।”
“নাহ, উপায় নেই।” মাথা নাড়ল বেলা। “আজ আমার অনেক কাজ।”
অ্যারন চলে যেতেই ভালভাবে দরজা আটকে দিল বেলা। স্টাডিতে সেটা আগেই দেখেছে। এটাকে লুকিয়ে রাখার কথা কেউ ভাবেইনি। অ্যারনের ডেস্কের পাশে চৌকানো একটা বাক্সের গায়ে ছয় সংখ্যার কম্বিনেশন ল।
হাঁটু ভাঁজ করে বসে পড়ল বেলা।
“নভেম্বরের সাত তারিখ” বিড়বিড় করে আপন মনেই হিসাব করে নিল,
“আর বয়স তেতাল্লিশ কিংবা চুয়াল্লিশ। তার মানে ১৯৩১ কিংবা ১৯৩২
চারবারের চেষ্টাতে ক্লিক করে ভাগ্য খুলে গেল।
“সত্যিকারের ব্রিলিয়ান্ট লোকগুলো কেন এত বোকা হয়?” হেসে ফেলল বেলা। তবে পুরু স্টিলের দরজাটা খোলার আগে সিলের গায়ে আঙুল বোলালো বেলা। একপাশে ছোট্ট একটা সেলোটেপ। “নাহু একেবারে বোকা তো নয়।”
বোঝাই যাচ্ছে যে অ্যারন বাসাতেই কাজ করতে পছন্দ করে। ফাইলগুলো সুন্দরভাবে গোছানো আছে। বেশির ভাগই অবশ্য আর্মসকোরের পরিচিত সুবজরঙা ফাইল।
মাদ্রিদ এয়ারপোর্টে লাল গোলাপকে এই অ্যাসাইনমেন্ট দেবার পর থেকে নিউক্লিয়ার উইপন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছে বেলা।
