গ্যারি এতক্ষণ অন্যপাশে ব্যস্ত থাকলেও এবারে ইসাবেলার দিকে ফিরে অ্যারনের সাথে কথা বলা শুরু করে দিল।
“বাই দ্য ওয়ে অ্যারন, তুমি যদি সত্যিই সোমবার বিকেলে পেলিনড়াবাতে ফিরতে চাও, তাহলে আমি লিয়ারে করে পৌঁছে দেব।”
নামটা শুনেই চমকে উঠল বেলা। গালদুটো যেন ঠাণ্ডা হয়ে গেল। পোলিনডাবা। “তুমি ঠিক আছ তত বেলা?” উদ্বেগ নিয়ে বলল গ্যারি।
“হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক আছি।”
“অথচ মুহূর্তের জন্য কেমন অদ্ভুত লাগছিল তোমাকে দেখতে।”
“কিছু না। গ্যারি, তোমার কল্পনা।” কিন্তু চিন্তার ঝড় চলছে বেলার মাথায়। গ্যারি আবার অন্যদিকে তাকাতেই নিজেকে সামলে নিল বেলা।
‘আমি তো আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই ভুলে গেছি প্রফেসর, আপনার পড়নোর বিষয় কী?”
“আমাকে অ্যারন ডাকা যায় না ডক্টর?”
হেসে ফেলল বেলা, “তাহলে আমাকেও ইসাবেলা ডাকতে হবে।”
“আমি একজন ফিজিসিস্ট, নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট। বেশ বোরিং, তাই না?”
“মোটেই না, অ্যারন।” হালকাভাবে ওর কব্জি ছুলো বেলা।” এটাই তো ভবিষ্যতের বিজ্ঞান, শান্তি কিংবা যুদ্ধ যাই হোক না কেন।”
অ্যারনকে ধরা অবস্থাতেই ওর দিকে খানিক ঝুঁকে গেল বেলা। অন্তর্বাস না থাকায় দেহের উপরের অংশ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে গেল। চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে রইল অ্যারন। মিনিট দুয়েক দেখার সুযোগ দিয়ে সোজা হয়ে বসল বেলা। ছেড়ে দিল আরনের কব্জি।
এই দুই সেকেন্ডেই বদলে গেছে অ্যারন ফ্রাইডম্যান। সম্মোহিত হয়ে বেলার বংশদব হয়ে গেছে যেন।
“আপনার স্ত্রী কোথায় অ্যারন?”
“প্রায় পাঁচ বছর আগে আমাদের ডির্ভোস হয়ে গেছে।”
“ওহ্, আই অ্যাম সো সরি।”
আদুরে গলায় চোখে সহানুভূতি নিয়ে তাকিয়ে রইল বেলা।
সন্ধ্যা শেষে নিজ রুমে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে মেক-আপ তুলতে তুলতে আপন মনে হাসল বেলা, “ইস্রায়েল, পেলিনডাবা, নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে…আমাকে আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।”
গত দুই বছরে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো তথ্য পাঠিয়েছে লাল গোলাপ। অবশেষে সময় এসেছে নিকোলাসের সাথে ওর সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি করার।
ডিনারের সময় জানা গেল আরনের ঘোড়া প্রীতির কথা। তাই পরের দিন খুব ভোরবেলা রাইডে যাবার প্ল্যান করল দুজনে।
“আর কতদূরে যাবে তুমি?” আয়নায় নিজেকে শুধোল ইসাবেলা। উত্তর দেবার আগে বেশ খানিকক্ষণ ভেবে নিল।
“ওয়েল, লোকটা সত্যি বেশ মজার আর মিষ্টি চেহারার অধিকারী; সবাই তো বলে যে টাকলুদের কামনা-বাসনাও বেশি হয়।” আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে চোখ পাকালো বেলা, “তুমি এত বিচ্ছু, মাতা হারি একটা।”
চৌদ্দ বছর বয়সে বড় ভাই শন মাতা হারি’কে নিয়ে একটা ছড়া শিখিয়েছিল।
“মেয়েটা জেনে গেছে সে জায়গা।
গভীর গোপনে আছে যা,
তেইশতম অবস্থানে গিয়ে,
নিগর্তকরণ”।
“নিগতকরণ” এর মানে জানতে চাইলে দুর্বোদ্ধভাবে হেসেছিল শন। ডিকশনকারী দেখেও তেমন সুরাহা করতে পারেনি। এবারে তাই হেসে ফেলে ভাবল,
“সত্যি এতদূর যাবে? যাইড হোক তেইশতম অবস্থান পর্যন্ত যেতে হবে না। প্রথম কিংবা দ্বিতীয় কোন কৌশলেই কাজ হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। তবে মনের গভীরে ঠিকই টের পেল যে নিকি আর রামোনের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত আছে।
ঠিকভাবে ভোরও হয়নি, আস্তাবলে নেমে এলো বেলা। আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল অ্যারন। সহিসকে অ্যারনের জন্য একটা শান্ত স্বভাবের বুড়ো, খাসি করা ঘোড়া আনার অর্ডার দিল বেলা। অস্বস্তি নিয়ে ভাবলো এটাকে নিশ্চয় সামলাতে পারবে অ্যারন। কিন্তু স্বচ্ছন্দেই ঘোড়ার পিঠে উঠে বসে গেল প্রফেসর।
দিগন্তে সূর্য দেখা দিতে দিতে অনেক দূর পর্যন্ত চলে এলো দুজনে। মরুভূমির অদ্ভুত আলো খেলার জন্য মনে হল পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে বেলা।
মাথার উপর পাখা ছড়িয়ে উড়ে যাচ্ছে শকুনের দল। গতদিনের শিকারের ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সন্ত্রস্ত প্রিংকের পাল। পরিষ্কার মিষ্টি বাতাস ঠিক যেন শ্যাম্পেনের মতো নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে। বাঁধনহারা বেলা আজ কোনো কিছুতেই দমবে না।
ঘোড়া দু’টোর ওয়ার্ম আপ শেষ হতেই টবগ করে গতি বাড়ালো দু’জনেই। নেমে গেল বাঁধের নিচে শুকনো নদীর বুকে। তীরে পৌঁছাতেই দেখা গেল কর্দমাক্ত বাদামি পানি থেকে ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে মিশরীয় রাজহাঁস।
ঘোড়া থেকে নেমে নাটকীয়ভাবে স্কার্ফের কোণা দিয়ে চোখ মুছলো বেলা। উদ্বিগ্ন মুখে নেমে এলো অ্যারন।
“আপনি ঠিক আছেন তো ইসাবেলা?”
“মনে হচ্ছে চোখে কিছু পড়েছে।”
“আমি দেখব?”
অ্যারনের দিকে মুখ বাড়িয়ে দিল বেলা। আলতো করে দু’হাত দিয়ে ধরে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল অ্যারন।
“আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।”
চোখ পিটপিট করে উঠল বেলা। লম্বা আর ঘন পাপড়ি ভেদ করে সূর্যের আলো পড়ে চিকচিক করে উঠল বিশুদ্ধ নীলকান্তমণি।
“আপনি নিশ্চিত?” অ্যারনের পুরুষালি গন্ধ আর নিঃশ্বাসের মিষ্টি ভাব এসে লাগল বেলার গালে। পোড়া মধুর মতো গাঢ় রঙা চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে রইল বেলা।
আস্তে করে ওর চোখ ম্যাসাজ করে দিল অ্যারন।
“এখন কেমন লাগছে?” আবারো চোখ পিটপিট করে উঠল বেলা।
“আপনার হাতে তো যাদু আছে। এখন বেশ ভাল লাগছে।”
অ্যারনকে কিস করল বেলা।
প্রথমে খানিক হকচকিয়ে গেলেও দ্রুত নিজেকে সামলে নিল অ্যারন। বেলা’র কোমর জড়িয়ে ধরতেই কয়েক সেকেন্ড ওর স্বাদ নেয়ার সুযোগ দিল মেয়েটা। যখনই বুঝতে পালর যে অ্যারন উত্তেজিত হয়ে উঠেছে তাড়াতাড়ি সরে দাঁড়াল বেলা।
