“ওহ মাই লাভ, আমি জানতাম যে কোনো একটা কারণ নিশ্চয়ই আছে। অবশ্যই আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।”
“আমি জানি, ডার্লিং, আমি জানি।”
“আমাদের জন্যে তোমাকে শক্ত হতে হবে।”
“তোমার নামে শপথ কেটে বলছি, ঈশ্বর জানেন আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি, কবে থেকে সবকিছু কেবল বুকের মাঝে জমিয়ে রেখেছি।” ভীষণ ভাবে মাথা নাড়ছে বেলা। “প্লিজ আমাকে আদর করো রামোন। কবে থেকে তোমার জন্যে অপেক্ষা করছি। আর পারছি না। চলে যাবার আগে আমাকে আদর করো।”
হারিকেনের মতো হাওয়া এসে বেসামাল করে দিল দু’জনকে।
রামোন চলে যাবার পর দু’পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর মতো শক্তিটুকুও পাচ্ছে না বেলা। টাইলসের দেয়াল ঘেষে বসে পড়ল মেঝের উপর। বাথরুম ভরে গেল পানিতে। মাথায় যেন কিছুতেই ঢুকছে না। শুধু দুটো নাম রামোন। আর নিকি।
“ওহ্ থ্যাঙ্ক গড।” ফিসফিস করে নিজেকে শোনাল বেলা, “ভয়গুলো সব আসলেই মিথ্যে। রামোন এখনো আমাকে ভালবাসে। আবার আমরা তিনজনে একসাথে হবো। কোনো একদিন, কোনো না কোন ভাবে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
বহু কষ্টে উঠে দাঁড়াল বেলা। “এখন আমাকে ধৈর্য ধরতে হবে; ওদের যেন সন্দেহ না হয়…” শাওয়ার নিল টলতে টলতে।
শুধু অন্তর্বাস পরে দাঁড়িয়ে আছে বেলা, এমন সময় একবারও নক না করে দরজা খুলে রুমে ঢুকে পড়ল এয়ারপোর্ট থেকে এসকর্ট করে আনা দুই নারীর একজন। এমনভাবে বেলা’র শরীরের দিকে তাকালো যে তাড়াহুড়ো করে স্কার্ট পরে নিল বেলা।
“কী চান?”
“বিশ মিনিটের মাঝে এয়ারপোর্টে যেতে হবে।”
“নিকি কোথায়? আমার ছেলে?”
“চলে গেছে।”
“আমি আরেকবার ওকে দেখতে চাই, প্লিজ।”
“সম্ভব না। বাচ্চাটা চলে গেছে।”
রামোনের সাথে দেখা হবার পর থেকে মনের মাঝে যে ক্ষীণ আশার জন্ম হয়েছিল তা সাথে সাথে উবে গেল।
আবারো শুরু হচ্ছে সব দুঃস্বপ্ন। নিজেকে বোঝাল বেলা, “আমাকে শক্ত হতে হবে। রামোনকে বিশ্বাস করতে হবে।”
এয়ারপোর্টে যাবার সময় কটিনার ব্যাক সিটে বেলার পাশে বসল কেজিবি’র সেই নারী সেনা। এয়ার কন্ডিশনড় না থাকায় কেজিবি’র গায়ের গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ল। সাইড উইন্ডো খুলে দিতেই ঠাণ্ডা বাতাসে জুড়িয়ে গেল অন্তর।
ইন্টারন্যাশনাল ডিপারচার টার্মিনালে গাড়ি থামার পর প্রথমবারের মতো কথা বলে উঠল কেজিবি; হাসিয়েন্দা ছাড়ার পর এতক্ষণ টু শব্দও করেনি। বেলা’র হাতে তুলে দিল ঠিকানা বিহীন খাম।
“এটা আপনার জন্য।”
হ্যান্ডব্যাগ খুলে খামটাকে রেখে দিল বেলা। কটিনা থেকে বের হয়ে স্যুটকেস তুলে নিল; ড্রাইভার সাথে সাথে দরজা আটকে চলে গেল গাড়ি নিয়ে।
হাজারো প্যাকেজ-টুর ট্রাভেলারদের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেকে বড় একা মনে করল বেলা, নিকি আর রামোনকে দেখার আগেও যেন এতটা একা ছিল না।
“ওকে আমার বিশ্বাস করতেই হবে। নিজেকে আবারো মনে করিয়ে দিয়ে ডেস্কের দিকে পা বাড়ার বেলা।
ফার্স্টক্লাস লাউঞ্জের উইমেন ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা আটকে ছিঁড়ে ফেলল খাম। লাল গোলাপ,
আর্মসকোর আর পেলিনড়াবা নিউক্লিয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথভাবে বানানো নিউক্লিয়ার এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের কাজ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে জানতে পারার সাথে সাথে টেস্ট সাইট আর ডেট জানিয়ে দেবে।
এ ডাটা পাবার পরেই পুত্রের সাথে তোমার পরবর্তী সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে। তথ্যের গুরুত্বের উপর নির্ভর করবে সাক্ষাতের সময় সীমা।
সাদা পৃষ্ঠার উপর টাইপ করা মেসেজটাতে কোনো স্বাক্ষর নেই। দৃষ্টিশূন্য-ভাবে তাকিয়ে রইল বেলা।
“আরো চাই, আরো চাই।”
ফিসফিস করে উঠল বেলা, “প্রথমে রাডার রিপোর্ট। সেটা ততটা খারাপ ছিল না। ডিফেন্সিভ উইপন-কিন্তু এখন? অ্যাটম বোমা? কখনো কি এর শেষ হবে?”
মাথা নাড়ল বেলা, “আমি পারব না-বলে দেব-পারব না, ব্যাস।”
পেলিনডাবা ইনস্টিটিউট নিয়ে বাবার কখনো কোনো আগ্রহই দেখেনি। এতদসম্পর্কিত কোনো ফাইল তো দূরে থাক। প্রাইম মিনিস্টার নিজে কয়েকবার বলেছেন যে সাউথ আফ্রিকা নিউক্লিয়ার বোমা বানাচ্ছে না।
অথচ এর উপরে আবার ওকে খবর নিতে হবে প্রথম ডিভাইসটা কবে কোথায় ফাটবে। কাঁপা কাঁপা আঙুলে মেসেজটাকে ছিঁড়ে ফেলল বেলা।
“আমি পারব না।” টয়লেট সিট থেকে উঠে প্রতিটি টুকরা পানিতে ফেলে ফ্ল্যাশ করে দিল। “বলে দেব পারব না।” কিন্তু মনে মনে আবার বাবাকে কিভাবে কাবু করা যায় সেই প্ল্যান করা শুরু করে দিল।”
***
স্পেনে যাওয়ায় মাত্র পাঁচদিন দেশে ছিল না বেলা। কিন্তু ইলেকশন ক্যাম্পেইন মাঝপথে ছেড়ে যাওয়ায় অসম্ভব রেগে আছেন নানা। নির্বাচনের আগের দিন শুক্রবারে প্রধানমন্ত্রী জুন ভরসটার সী পয়েন্ট টাউন হলে ন্যাশনাল পার্টি ক্যান্ডিডেটদের সমর্থনে মিটিং ডাকলেন।
এখানে বক্তৃতা করার জন্য ছেড়ে এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ বাকি দুই প্রোগ্রাম। আর এসবই সম্ভব হয়েছে সেনটেইন কোর্টনি-ম্যালকমসের বদান্যতায়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শোনার জন্যে পুরো ভর্তি হয়ে গেল টাউন হল। কোথাও তিল ধারণের জায়গা পর্যন্ত নেই।
প্রথম বক্তা ইসাবেলা। মাত্র দশ মিনিটেই শেষ করে দিল অবশ্য! পুরো ক্যাম্পেইনে এটাই হল ওর শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা। গত কয়েক সপ্তাহে বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে মেয়েটা আর স্পেন থেকে আসার পর তো যেন প্রাণশক্তি ফিরে পেয়েছে। নানা আর শাসা দু’জনের সামনেই প্র্যাকটিকস করে এসেছে বেলা।
