কোমর সমান পানিতে সিঁড়ির শেষ ধাপের উপর বসে কঁকি দিয়ে উঠল ইসাবেলার শরীর; মনে পড়ে গেলো ট্যাংকের মাঝে ছেলের ডুবে যাবার দৃশ্য। তারপরেও নিজেকে সামলে হেসে ফেলল, নিকিকে প্রশংসা জানিয়ে বলে উঠল,
“ওহ, ওয়েলডান নিকোলাস।”
হাপাতে হাপাতে মায়ের কাছে এসে হঠাৎ করে কোলে উঠে গেল।
“তুমি বেশ সুন্দরী। তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে।”
যেন মূল্যবান কোনো ক্ৰিসালস্ট একটু আঘাতেই ভেঙে যাবে; এমনভাবে ছেলেকে জড়িয়ে ধরল বেলা। ছোট উষ্ণ দেহটাকে ধরে ভেতরে ভেতরে গুমড়ে উঠল বেলার হৃদয়। “নিকোলাস, মাই বেবি, আমি তোকে কত ভালবাসি, কত মিস করি!”
চোখের পলকে কেটে গেল পুরো বিকেল। এরপর এলো আদ্রা, “নিকোলাসের ডিনারের সময় হয়েছে। আপনি ওর সাথে খেতে বসবেন সিনোরিটা?
আঙ্গিনাতে ওদের জন্যে পাতা টেবিলের উপর বসে আল ফ্রেসকো খেলো-মাতা-পুত্র। নিকোলাসের জন্য এলো ফ্রেস কমলার রস আর বেলার জন্য শেরী। ইসাবেলা ব্রিমের কাটা বেছে দিলেও নিকোলাস একাই খেল।
নিকোলাস যখন আইসক্রীম খাচ্ছে, তখন চোখের সামনে সব ঝাপসা দেখতে শুরু করেছে বেলা। কানের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে শুনতে যেন ফেটে পড়ল নিকোলাসের মুখ।
চেয়ার থেকে পড়ে যাবার আগেই বেলা’কে ধরে ফেলল আদ্রা। পেছনের দরজা দিয়ে আঙ্গিনাতে নেমে এলো রামোন; সাথে কেজিবি’ ফিমেল মেম্বার।
“তুমি বেশ লক্ষ্মী হয়ে ছিলে, নিকোলাস। এখন আদ্রার সাথে ঘুমাতে যাও।”
“উনার কী হয়েছে?”
“কিছুই হয়নি।” জানাল রামোন। “উনার ঘুম পেয়েছে। তোমারও তো ঘুম পেয়েছে নিকোলাস।”
“হ্যাঁ। পাদ্রে। হাই তুলতে তুলতে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মছুল নিকি। আদ্রা ওকে নিয়ে যেতেই কেজিবি নারী সেনাদের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল রামোন।
“রুমে নিয়ে যাও।”
ডিনার টেবিল থেকে খালি শরীর গ্লাস তুলে রুমাল দিয়ে ওষুধের শেষ কোণাটুকুও মুছে ফেলল রামোন।
***
অদ্ভুত একটা বেডরুমে ইসাবেলার ঘুম ভেঙে গেল। কেমন যেন শান্তি শান্তি লাগছে। ঘুম ঘুম চোখে কাঁধের উপর টেনে নিল চাদর।
হঠাৎ করেই খেয়াল হল যে চাদরের নিচে ওর শরীরটা পুরোপুরি নগ্ন। মাথা তুলতেই দেখতে পেল বাথরুমের দরজার পাশে পরিষ্কারভাবে ওর ভাজ করা কাপড় রাখা আছে। লাগেজ র্যাকে সুটকেস।
চোখের কোণে কেউ একজনকে নড়তে দেখে পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠল দৃষ্টি। বেডরুমে ওর সাথে একজন পুরুষও আছে। চিৎকার করার জন্য মুখ খুলতেই তাড়াতাড়ি লোকটা ওকে চুপ করার জন্য ইশারা করল।
“রাম-” নাম উচ্চারণ করার আগেই দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে ওর মুখে হাত চাপা দিল রামোন।
হা করে তাকিয়ে রইল হতভম্ব। বাকরুদ্ধ বেলা। ভেতরে উৎলে উঠেছে। আনন্দ। রামোন!
বেলাকে ছেড়ে আবারো কাছের একটা দেয়ালের দিকে চলে গেল রামোন। গোঁয়ার স্টাইলে একটা অয়েল পেইন্টিং ঝুলছে। পেইন্টিংটা সরাতেই দেয়ালের গায়ে আটকানো গোপন মাইক্রোফোনটাকে দেখা গেল।
আবারো চুপ থাকার ইশারা করে কাছে এগিয়ে এলো রামোন। বেডসাইড টেবিলের ল্যাম্পের শেড় ছড়িয়ে দেখাল দ্বিতীয় মাইক্রোফোন।
এরপর বেলা’র এত কাছে এসে বসল যে ওর গালে লাগল রামোনের উষ্ণ নিঃশ্বাস।
“এসো।” কেমন লাজুক হয়ে গেল বেলা। কতদিন কেটে গেছে!
“আমি সব বলছি এসো।”
রামোনের কষ্ট মাখা দু’চোখ দেখে উবে গেল বেলা’র আনন্দ
ওর হাত ধরে বিছানা থেকে নামাল রামোন। তারপর নগ্ন অবস্থাতেই নিয়ে গেল বাথরুমে ড্রাগের কল্যাণে এখনো পুরোপুরি মতিচ্ছন্ন ভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি বেলা।
বাথরুমের গ্লাস ওয়ালড কেবিনেটের শাওয়ার ছেড়ে দিল রামোন।
এখনো ওকে স্পর্শ করতে ভয় পাছে বেলা, “এসব কী হচ্ছে? তুমিও কি ওদেরই একজন? রামোন, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। প্লিজ বলল কী ঘটছে!”
হাহাকার করে উঠল রামোন, “আমার অবস্থাও তোমার মত। আমাকে এসব করতে হচ্ছে, নিকির খাতিরে। এখন সব বুঝিয়ে বলতে পারব না–তবে এদের শক্তি আমাদের চেয়ে বেশি। আমরা তিনজনেই এদের কাছে বাঁধা। ওহ মাই ডার্লিং, আমার ইচ্ছে করছে তোমাকে সব বলি, কিন্তু সময় যে নেই।”
“রামোন। শুধু এটুকু বলল যে তুমি এখনো আমাকে ভালোবাসো।” ফিসফিস করে উঠল বেলা।
“ইয়েস, মাই ডার্লিং। জানি, তোমার উপর দিয়ে কতটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমারও ঠিক একই অবস্থা। জানি তুমি আমাকে কি ভাবছ, কিন্তু একদিন ঠিকই জানতে পারবে যে আমি সবকিছু নিকি আর তোমার জন্যেই করেছি।”
রামোন’কে বিশ্বাস করতে চাইল বেলা। মন বলছে ওর কথাই যেন সত্যি হয়।
“শীঘ্রিই হাতের মাঝে বেলার মুখখানা ধরে জানাল, রামোন, “আবার আমরা একসাথে হবো-শুধু আমরা তিনজনে। তুমি, আমি, নিকি। বিশ্বাস করো।”
“রামোন!” ফোঁপাতে ফোঁপাতে সর্বশক্তি দিয়ে রামোনের গলা জড়িয়ে ধরল বেলা। কোনো যুক্তিবোধের তোয়াক্কা না করেই আজও ওকে বিশ্বাস করে বসল।
“আর কয়েক মিনিট মাত্র একসাথে কাটাতে পারব। এর বেশি ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। নতুবা বিপদ হয়ে যাবে। তুমি জানোও না যে নিকি কতটা বিপদের মাঝে আছে।”
“আর তুমিও।” ধরে এলো বেলা’র গলা।
“আমার জীবন কোনো ব্যাপার না; কিন্তু নিকি…”
“তোমাদের দুজনেরই জীবন অনেক মূল্যবান, রামোন।” তাড়াতাড়ি বলে। উঠল বেলা।
“আমাকে প্রমিজ করো যে নিকি’র ক্ষতি হবে এরকম কিছু করবে না।” বেলা’কে কিস করল রামোন।” ওরা যাই বলুক, প্লিজ করো। আর বেশিদিন এসব সইতে হবে না। তুমি সাহায্য করলে আমি যত তাড়াতাড়ি পারি আমাদেরকে মুক্ত করতে চেষ্টা করব। কিন্তু আমাকে তোমার বিশ্বাস করতে হবে।”
