“খুব লক্ষ্মী একজনের সাথে দেখা হবে এখন। উনি তোমাকে অনেক পছন্দ করেন। একটা উপহার’ও এনেছেন। ভদ্র ব্যবহার করবে আর মাম্মা” ডাকবে।”
“উনি কি আমাকে আদ্রার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবেন?”
“না, নিকোলাস। শুধু তোমার সাথে খানিক গল্প করতে আর উপহার দিতে এসেছেন। এরপর চলে যাবেন। যদি তার সাথে ভালভাবে আচরণ করো তাহলে সন্ধ্যায় আদ্রা উডি উডপোর কাটুন দেখতে দেবে। ঠিক আছে?”
“ঠিক আছে, পাদ্রে।” খুশি হয়ে হাসল নিকোলাস।
“এখন যাও।”
বন্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে নিচে তাকাল রামোন। নিচের আঙ্গিনাতে বেলাকে নিয়ে এসেছে কেজিবি নারী সদস্য। সুইমিং পুলের পাশের বেঞ্চ দেখিয়ে বেলা’কে আদেশ দিতেই গমগমে গলা মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পৌঁছে গেল রামোনর কাছে।
“প্লিজ এখানে অপেক্ষা করুন। বাচ্চাটাকে নিয়ে আসা হবে।”
মেয়েটা চলে যেতেই বেঞ্চে বসে পড়ল বেলা। চোখের উপর সানগ্লাস পরে নিল। ডার্ক লেন্সের ওপাশ থেকে দেখতে লাগল চারপাশ।
টু-ওয়ের রেডিও’র বোতাম টিপে দিল রামোন।
“অল-স্টেশনস্, ফুল অ্যালার্ট।”
ইলেকট্রনিক সারভেইল্যান্স ইকুপমেন্ট ছাড়াও ইসাবেলার উপর তা করা হল ৭.৬২ মিলিমিটার ড্রাগোনভ স্নাইপার-রাইফেল আর ডার্ট গান। টোনল ঢোকানো ডার্ট গান দু’মিনিটে অচল করে দিতে পারে যেকোনো মানব শরীর। তারপরেও শেষ কথা হল লাল গোলাপের মতো সম্ভাবনাময় অপারেটিভ হারাতে চায় না রামোন।
হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়িয়ে আঙ্গিনার ওপাশে তাকাল বেলা। নিচে তাকাল রামোন। টাওয়ারের ঠিক নিচেই দেখা গেল নিকোলাস আর আদ্রার মাথা।
বহুকষ্টে দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছেটাকে দমন করল বেলা। জানে তাহলে হতবাক হয়ে যাবে ছোট্ট মানুষটা।
আস্তে আস্তে সানগ্লাস খুলে ফেলল বেলা। আদ্রার হাত ধরে আগ্রহ নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে নিকোলাস।
ছেলের দুই মাস বয়সের শেষ ছবি দেখেছিল বেলা। মনে মনে নিকি’র গড়নের কথাও চিন্তা করে রেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সবকিছুই ভিন্ন। ওর গায়ের রং, দেহতত্ত্বের মাধুর্য আর ওই কোকড়ানো চুল-চোখজোড়া! ওহ, চোখজোড়া তো!
“ঈশ্বর!” ফিসফিস করে উঠল বেলা, “আমার বাবুটা এত সুন্দর হয়েছে দেখতে! প্লিজ, গড়, ও যেন আমাকে পছন্দ করে।”
নিকোলাসের হাত ছেড়ে দিয়ে ওকে সামনে ঠেলে দিল আদ্রা; সুইমিং পুলের পাশ দিয়ে দু’জনে এসে দাঁড়াল বেলার সামনে।
“বুয়েনস ডায়াস, সিনোরিটা বেলা” স্প্যানিশে বলে উঠল আদ্রা। “নিকোলাস সাঁতার কাটতে পছন্দ করে। আপনাদের দুজনের জন্যে সুইমিং কস্টিউম রাখা আছে। যদি চান তো ওর সাথে সাঁতার কাটতে পারবেন।” বাথ হাউজের বদ্ধ দরজার দিকে ইশারা করল আদ্রা, “ওখানে চেঞ্চ করতে পারবেন। এরপর নিকোলাসের দিকে তাকাল,
‘মা’কে অভ্যর্থনা জানাও।” ঘুরে দাঁড়িয়ে এস্ত পায়ে আঙিনা ছেড়ে চলে গেল আদ্রা।
নিকোলাস এখন পর্যন্ত একবারও হাসেনি কিংবা বেলা’র উপর থেকে চোখ সরায়নি। এবারে দায়িত্ব পেয়ে খানিক সামনে এসে ডান হাত এগিয়ে দিল।
“গুড ডে, মাম্মা। আমার নাম নিকোলাস মাচাদো আর তোমার সাথে দেখা হয়ে ভালই লাগছে।”
ইসাবেলার ইচ্ছে হল হাঁটু গেড়ে বসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে। “মাম্মা” শব্দটা যেন বেয়নেটের মতো ঢুকে গেছে বুকের ভেতরে। কিন্তু তার বদলে ছেলের সাথে হাত মেলাল কেবল।
“তুমি তো দেখতে বেশ সুন্দর হয়েছ, নিকোলাস। শুনেছি নার্সারি স্কুলেও বেশ ভালো করছ।”
“হ” মাথা নাড়ল নিকি।
“আগামী বছর ইয়াং পাইওনিয়ারদের সাথে যোগদেব।”
“তাহলে তো খুবই ভাল হবে। কিন্তু এরা কারা?”
“সবাই জানে।” মায়ের অজ্ঞতা শুনে মজা পেল নিকোলাস।” তারা সকলে বিপ্লবের সন্তান।”
ও, ওয়ান্ডারফুল। খানিকটা দ্বিধা নিয়ে তাড়াহুড়া করে উত্তর দিল ইসাবেলা, “আমি তোমার জন্য একটা প্রেজেন্ট এনেছি।”
“থ্যাংক ইউ, মাম্মা।” প্যাকেজের দিকে তাকাল নিকোলাস।
বেঞ্চে বসে ছেলের হাতে উপহার তুলে দিল বেলা। সাবধানে খুলে ফেলল নিকোলাস। আর তারপরই কেমন চুপ করে গেল।
“তোমার পছন্দ হয়েছে?” নার্ভাস ভঙ্গিতে জানতে চাইল বেলা।
“সকার বল।” অস্ফুটে বলে উঠল বেলা।
“হ্যাঁ, পছন্দ হয়নি?”
“এত সুন্দর গিফট আগে আর কেউ দেয়নি আমাকে।”
চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকাতেই ছেলের দৃষ্টিতে সত্যিকারের খুশি দেখতে পেল বেলা। এই বয়সেই কতটা রিজার্ভ ছেলেটা। কতটা ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন ওকে এরকম বানিয়ে দিয়েছে?
“আমি কখনো ফুটবল খেলিনি।” বলে উঠল বেলা। “তুমি আমাকে শিখিয়ে দেবে?”
“তুমি তো মেয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল নিকোলাস।
“তারপরেও আমি চেষ্টা করতে চাই।”
“ঠিক আছে।” এক হাতের নিচে বল নিয়ে উঠে দাঁড়াল নিকি। “কিন্তু তোমাকে জুতা খুলে ফেলতে হবে।”
মিনিটখানেকের ভেতরে কেটে গেল নিকোলাসের আড়ষ্ঠতা। বলের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে পড়ল। ছোট্ট একটা ইঁদুর ছানার মতো পুরো আঙ্গিনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, ইসাবেলা’ও ওর পিছনে ছুটছে, ওর কথা শুনছে, বেঞ্চের নিচে পাঁচটা গোল দিয়ে ফেলল নিকোলাস।
অবশেষে ক্লান্ত হয়ে দুজনেই বসে পড়ল লনের উপর। এবারে নিকি মাকে জানাল-”মেয়ে হলে-তুমি ভালই খেলেছ।”
সুইমিং কস্টিউম পরে নিল দু’জনে আর মা’কে নিজের নানা কসরৎ দেখাল নিকি। বিভিন্নভাবে সাঁতার কাটতে কাটতে একেবারে লাল হয়ে উঠল চেহারা।
