“আমি ঠিক পৌঁছে যাব, কমরেড।” প্রতিজ্ঞা করল রামোন।
“তুমি আর আমি একসাথে দুনিয়াকে দেখিয়ে দেব যে কিভাবে বিপ্লব হয়।”
***
সবকিছুতেই ঝুঁকি আছে, কিন্তু সম্ভাব্য পুরস্কারের কথা ভেবে খুব সাবধানে সেগুলোকে সামাল দিতে হবে, ভাবল রামোন। ঝুঁকিগুলোকে কমানোর জন্য তাই পূর্বসতর্কতাও নিতে হবে।
সন্তানের কাছে লাল গোলাপকে নিয়ে যাবার সময় হয়েছে; যেভাবে তাকে জনোর পর সময় দেয়া হয়েছিল নিকোলাসের সথে সখ্যতা গড়ে তোলার জন্য। তিন বছর পার হয়ে যাওয়ায় খানিকটা ফিকে হয়ে যাওয়া এই বন্ধনকে আবারো দৃঢ় করে তুলতে হবে। এর মাঝে নিয়মিত ক্লিনিক আর নার্সারী স্কুলের রিপোর্ট ফটোগ্রাফ পাঠানো হলেও লাল গোলাপের উপর নিজের প্রভাব দুর্বল হয়ে গেছে বলে ভাবল রামোন।
সিমেন রাডার রিপোর্ট পাঠানোর ফলে পুরস্কৃত করে মেয়েটাকে জানিয়ে দিতে হবে যে সহযোগিতা বিনা ওর সামনে আর কোনো পথ নেই। একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো হঠকারিতা না করে বসে। ওর ভেতরে এমন একটা প্রত্যয় আর শক্তি আছে যে রামোন ‘ও ভয় পায়। খানিক সময়ের জন্যে কাজে লাগানো গেলেও চিরতরে কি দাস বানানো যাবে? এখনো নিশ্চিত নয় রামোন। খুব সাবধানে এগোতে হবে।
মাতা-পুত্রের মিলন হলে সম্ভাব্য কী কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে আগেই ভেবে রেখেহে রামোন। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হল বোকার মতো লাল গোলাপ হয় সন্তানকে নিয়ে পালাতে চাইবে।
তাই পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কে বেড়াতে যাওয়া স্প্যানিশ কনিস্ট পার্টির এক সদস্যের প্রপার্টি হাসিয়েন্দা মিটিং প্লেস হিসেবে নির্বাচন করে কেজিবি সদস্যদের পাহারা বসাল রামোন।
হাসিয়েন্দার চারপাশে আর ভেতরে পজিশন নিল বাগোন সশস্ত্র গার্ড। টু-ওয়ে রেডিও আর সন্তানকে দেখে লাল-গোলাপ অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়লে ব্যবহার করার জন্য ড্রাগসহ সমস্ত অস্ত্র ডিপ্লোমেটিক ব্যাগে ভরে মাদ্রিদে নিয়ে আসা হলো।
স্পেনকে বেছে নেয়ার আরেকটা কারণ আছে। নিকোলাসের সঠিক আস্তানা লাল গোলাপ কখনোই জানবে না। কোর্টনি পরিবারের প্রভাব আর ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রামোন জানে লাল গোলাপ যদি বাবার কাছে গিয়ে সব জানায় তাহলে কী ঘটবে। হয়ত ভাড়া করা সৈন্যদের দল কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার সিকিউরিটি ফোর্স কিডন্যাপ অভিযান চালিয়ে বসবে।
তাই ইসাবেলাকে বিশ্বাস করাতে হবে যে নিকোলাসকে স্পেনে রাখা হয়েছে। এখানে অবাক হবার কিছু নেই; নিকলাসের জন্য আর রামোনের পরিচয় স্প্যানিশ হিসেবেই জানে-সে, তাই আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে নিকোলাসের অন্য কোথাও নেবার কথা ভাবতেই পারবে না।
হাসিয়েন্দার বেল টাওয়ারের বন্ধ জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে। রামোন। ট্র্যাডিশনাল নকশায় তৈরি দালানের মাঝখানের আঙ্গিনার চারধারে মোটা সাদা প্লাস্টার করা দেয়াল। আঙ্গিনার মাঝখানে আবার সুইমিং পুল। পুলের চারধারে চারটা ফল ভর্তি পাম গাছ।
টাওয়ারে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু আঙ্গিনা নয়, আশপাশের মাঠ আঙ্গুর ক্ষেত’ও দেখতে পাছে রামোন, এস্টেটের চারপাশে আটজন গার্ড বসিয়েছে। আঙ্গিনার দিকে তাকিয়ে একেকটা জানালার ওপাশে বসে আছে প্রত্যেকে। একজনের কাছে আছে সাইপার রাইফেল, আরেকজনের কাছে ডার্ট গান। তবে মনে হয় না কাউকে রেডিওতে ডাকতে হবে।
এয়ারফেয়ার আর গার্ডদের খরচ মিলিয়ে পুরো অপারেশনটা বেশ কস্টলি হলেও মাদ্রিদের রাশান অ্যামব্যাসি থেকে গার্ড আর ভেহিকেল পাওয়ায় এবং হাসিয়েন্দার মালিক কোনো অর্থ না নেয়া গাটের পয়সা খরচ করতে হচ্ছে না এ যাত্রায়। ফিনান্স সেকশনের কড়াকড়ির কথা মনে এলে এখনো গা জ্বালা করে উঠে।
একটা কিপটে অ্যাকাউন্ট্যান্ট কিভাবে বুঝবে ফিল্ড অপারেশনের প্রয়োজন আর গুরুত্ব?
রেডিওতে নরম স্বরে শব্দ হতে থাকায় ছেদ পড়ল-চিন্তার জগতে।
“দা? ইয়েস?” মাইক্রোফোনে রাশান বলে উঠল রামোন।
“নাম্বার থ্রি বলছি, গাড়িটাকে দেখা যাচ্ছে।” জানিয়ে দিল এস্টেটের সর্ব দক্ষিণের গার্ড।
টাওয়ারের দক্ষিণ দিকের জানালায় দৌড়ে গেল রামোন। দেখতে পেল আঙ্গুর ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে আসা গাড়ির হলুদ ধুলা।
“ঠিক আছে।” নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে অ্যামবাসির ফিমেল সিগনাল ক্লার্কের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। ইলেকট্রনিক কনসোলের সামনে বসে থাকা মেয়েটার কাজ হলো নিচের আঙ্গিনার প্রতিটি শব্দ আর দৃশ্য রেকর্ড করা।
টয়লেট আর বাথরুম সহ লাল গোলাপ যেতে পারে এমন সর্বত্র গোপন ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন লাগানো আছে।
এস্টেটের গেইটের কাছে এসে মোড় নিল গাড়িটা। ডিপ্লোমেটিক প্লেট লাগানো নীল কার্টিনা এসে থামল হাসিয়েন্দার সদর দরজার সামনে।
এয়ারপোর্ট থেকে এসকার্ট করে আনা নারী অ্যামব্যাসি গার্ডের সাথে সাথে এগিয়ে এলো ইসাবেলা কোর্টনি। হঠাৎ করেই পায়ে চলা ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে টাওয়ারের বদ্ধ জানালার দিকে তাকাল বেলা। মনে হল যেন টের পেল রামোনের অস্তিত্ব। বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে মেয়েটার ঊর্ধ্বমুখ দেখল রামোন।
শেষবার দেখার পর থেকে নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে মেয়েটা। বালিকাসুলভ চপলতা ঝেড়ে ফেলে এক পুরোপুরি নারী। চলাফেরায় যথেষ্ট আত্মপ্রত্যয়ের ছাপ। এতদূর থেকেও দেখা যাচ্ছে চোখের নিচের কালি আর চোয়ালের দৃঢ়তার রেখা। এমন একটা করুণ কিছু দেখতে পেল যে মায়াবোধ করল রামোন। আগের মতো সুন্দরী না হলেও আরো আকষর্ণীয় হয়ে উঠেছে। বেলা।
