প্যাসেঞ্জার সিটের নিচে গোপন কম্পার্টমেন্টে একবারও না তাকিয়ে টেক অফ করল মাইকেল।
ল্যানসেরিয়া এয়ারপোর্টের কাস্টমস পার হবার সময় তো দম বন্ধ হয়ে আসছিল। যদিও ভিত্তিহীন ছিল ভয়। আগেও বহুবার দেখা হওয়াতে কাস্টমস অফিসার ওকে ভালোভাবেই চেনে। তাই লাগেজ কিংবা সেঞ্চুরিয়ন চেক্ করার কোন কষ্টই করল না।
সে রাতেই ল্যানসেরিয়ার হ্যাঙ্গারে কৃষাঙ্গ পাহারদার সেঞ্চুরিয়ন থেকে ভারি একটা বক্স নিয়ে বেড়ার ফাঁক দিয়ে তুলে দিল নীল ডেলিভারি ভ্যানের ড্রাইভারের হাতে।
ড্রেকস ফার্মের নবস হিলের রান্নাঘরে ক্রেটের সীল পরীক্ষা করে দেখলেন তাবাকা। পুরোপুরি ইনট্যাক্ট। কেউ কার্গোতে হাতও দেয়নি। সন্তুষ্ট হয়ে ঢাকনা খুলে ফেললেন তাবাকা। পাওয়া গেল সন্তুর কপি পবিত্র বাইবেল। আরেকটা পরীক্ষায় উৎরে গেল মাইকেল কোর্টনি।
পাঁচ সপ্তাহ পরে আবারো গে গুজু ক্যাম্পে এলো মাইকেল। এবার ফেরার পথে নিয়ে এলো রাশিয়ায় তৈরি বিশটা মিনি লিম্পেট মাইন ভর্তি বাক্স। পরের দুই বছরে আরো নয়বার আসতে হল এই ক্যাম্পে। ল্যানসেরিয়া এয়ারপোর্টে সাউথ আফ্রিকান কাস্টমস্ পার হতে আর কোনো খারাপ লাগে না।
পাঁচ বছর পরে আবারো দেখা হল রালেই তাবাকা’র সাথে। মাইকেলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আফ্রিকান ন্যাশন্যাল কংগ্রেসের সামরিক শাখায় যোগ দান করার জন্য।
“কয়েকদিন ধরেই আসলে ভাবছিলাম।” রালেইকে উত্তর দিল মাইকেল। “শেষ পর্যন্ত মনে হল কলম আসলে যথেষ্ট নয়। বুঝতে পেরেছি কখনো কখনো তলোয়ার’ও ধরতে হয়। এক বছর আগে হলেও হয়ত আপনার কথায় রাজি হতাম না। কিন্তু এখন, সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশ নেয়ার জন্য আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।”
***
“অল রাইট বেলা-” দৃঢ় ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকম। “তুমি রাস্তার ওই মাথা থেকে শুরু করবে-আমি এই মাথা থেকে। এরপর শফারের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ক্লোনকি, আমাদেরকে মোড়ের কাছে নামিয়ে দিয়ে যাও। লাঞ্চটাইমে আবার নিয়ে যাবে।”
বাধ্য ছেলের মতো হলুদ ডেইমলার’কে স্লো করল ক্লোনকি।
গাড়ি থেকে নেমে এলো দুই নারী। “তুমি নিশ্চয়ই চাইবে না যে ভোটাররা তোমাকে এত দামি আর বিশাল কোনো ওয়াগনে চড়তে দেখুক।” বুঝিয়ে বললেন সেনটেইন। নাতনীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুব সাবধানে চোখ বুলিয়ে দেখলেন।
শ্যাম্পু করা লাল রঙা চুলগুলো মাথার উপরে চূড়া করে বাঁধা। ময়েশ্চারাইজার ক্রীম লাগানো মুখখানা দেখতে স্কুল গার্লদের মতো লাগছে। সন্তুষ্ট হলেন সেনটেইন।
“ঠিক আছে, বেলা, চলো। মনে আছে তো, আজ তুমি নারীদের সাথে কথা বলবে!” দিনের এই সকাল দিকটায় ঘরের পুরুষেরা বাইরে চলে যায়; বাচ্চারা স্কুলে থাকায় লোয়ার মিডল ক্লাস হাউস ওয়াইভরা ব্যস্ত থাকে গৃহকর্ম নিয়ে।
এর আগের দিন সন্ধ্যায় স্ িপয়েন্ট ম্যাসোনিক হলে পুরুষ দর্শকদের সামনে বক্তৃতা দিয়েছে ইসাবেলা। বেশির ভাগই আগ্রহ নিয়ে এসেছিল ন্যাশনাল পার্টির প্রথম নারী ক্যান্ডিডেটের কথা শোনার জন্য।
হলে’র কেউ কেউ বেলা’র ড্রেস আর মেক-আপ দেখে হুইসেল দিয়ে উঠতেই খেপে উঠল, নার্ভাস বেলা। ফলে একদিকে লাভও হলো। সাপের মতো ফনা তুলে ছোবল হানল প্রথম সুযোগেই, “জেন্টলম্যান, আপনাদের ব্যবহার কারো কোনো লাভ হবে না। বরঞ্চ খেলার মানসিকতা থাকলে, আমাকে একটা সুযোগ দিয়ে দেখুন কী হয়।”
লজ্জিত মুখে হেসে নীরব হয়ে গেল উপস্থিত দর্শক।
অন্যগুলোর চেয়ে খানিকটা দূরত্ব রেখে বানানো হয়েছে করাগেটেড টিনের ছাদঅলা নাম্বার টুয়েলভ কটেজ। সামনের বাগানে ফুটে আছে চমৎকার সব ডালিয়া। বাড়ির সামনে এসে চিৎকাররত ফক্স টেরিয়ারকে এক ধমকে চুপ করিয়ে দিল ইসাবেলা। কুকুর আর ঘোড়ার সাথে ওর কোনো সমস্যাই হয় না কোনোদিন।
দরজার কাছে এসে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে উঁকি দিয়ে দেখছে ঘরের গৃহিণী জানতে চাইল,
“ইয়েস? কী চান?”
“আমি ইসাবেলা কোর্টনি। আগামী মাসের বাই-ইলেকশনে ন্যাশনাল পার্টির ক্যান্ডিডেট। কিছুক্ষণ আপনার সাথে কথা বলতে পারি?”
“দাঁড়ান।” ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেলেও একটু পরেই মাথায় স্কার্ফ চাপিয়ে ফিরে এলো।
“আমরা ইউনাইটেড পার্টির সমর্থক।” দৃপ্ত ভঙ্গিতে ঘোষণা করল মহিলা। কিন্তু তাকে থামিয়ে দিল ইসাবেলা।
“ডালিয়াগুলো কী সুন্দর!”
বোঝাই যাচ্ছে এটা প্রতিদ্বন্দীদের গোড়া সমর্থকের আখড়া। তার নিজের পার্টিও কোনো নিরাপদ আসনে লড়তে দেবে না। এসব আসন কেবল তাদের জন্যই বরাদ্দ যারা এরই মাঝে সফল হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছে। নানা। গত সাধারণ নির্বাচনে পাঁচ হাজার মেজরটি নিয়ে এই আসন জিতেছে ইউনাইটেড পার্টি।
“যদি আমরা একে তিন হাজারে নামিয়ে আনতে পারি তাহলে পরের ইলেকশনে ওদেরকে বাধ্য করতে পারব তোমাকে আরো ভালো আসন দেয়ার জন্য।” হিসাব করে ফেলেছেন নানা।
নিজের ডালিয়ার দিকে ইসাবেলা’কে মুগ্ধ চোখে তাকাতে দেখে এবারে নরম হয়ে গেল ঘরের স্ত্রী।
“আমি কি একটু ভেতরে আসতে পারি?” নিজের সবচেয়ে চমৎকার হাসি হাসল বেলা; একপাশে সরে দাঁড়াল মহিলা।
“ঠিক আছে, কিন্তু শুধু কয়েক মিনিটের জন্য।”
“আপনার স্বামী কী করেন?”
“মোটর মেকানিক।”
“ট্রেড ফ্রাগমেন্টেশন আর ব্ল্যাক ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে উনি কি কিছু ভাবেন?” মোক্ষম জায়গায় আঘাত হেনেছে ইসাবেলা। পরিবারের সমৃদ্ধি আর ছেলে-মেয়েদের অন্নের কথা মনে পড়ে গেল।
