ধকধক করে জ্বলছে ভিকির চোখ, হাতের চাবুক তুললেন রালেইকে মারবেন বলে।
কিন্তু কোনো কষ্ট ছাড়াই তার কব্জি ধরে চাবুকটাকে খসিয়ে সিঙ্কের উপর ফেলে দিলেন তাবাকা।
“একে সরাও এখান থেকে।” ইশারায় টেবিলের উপর শুয়ে তাকা রক্তাক্ত দেহটাকে দেখালেন রালেই। “এরপর পুরো জায়গা পরিষ্কার করে ফেলে। শ্বেতাঙ্গ লোকটা যতদিন আছে, এমন আর কিছু যেন না দেখি বাড়ির ভেতরে। বুঝতে পেরেছ?”
কাৎরাতে থাকা লোকটাকে টেবিল থেকে তুলে ধরে ধরে দরজার দিকে নিয়ে গেল ভিকি’র দুই বডিগার্ড।
এবারে ভিকি’র দিকে নজর দিলেন তাবাকা। “তোমার নামের সাথে কতবড় সম্মান জড়িয়ে আছে জানো না? এরকম যা তা কাজ করলে আমি নিজের হাতে তোমাকে খুন করব। এখন যাও, রুমে যাও।”
মদ খাওয়া সত্ত্বেও বেশ দৃঢ় ভঙ্গিতেই রুম ছেড়ে চলে গেলেন ভিকি। এভাবে যদি মিডিয়ার কাছে নিজের ইমেজটাকেও ধরে রাখতে পারে!
মাত্র কয়েক বছরেই এতটা বদলে গেছে ভিকি। মোজেস গামার সাথে বিয়ের সময় এই বহ্নি শিখাই ছিল স্বামী আর লড়াইয়ের প্রতি নিবেদিত। এরপরই আমেরিকার বামগুলো তাকে খুঁজে পেয়ে দেদারসে অর্থ আর প্রশংসা বিলোতে থাকে।
তখন থেকেই শুরু হয়েছে অধঃপতন। লড়াইটা যদিও কম ভয়াবহ নয় আর রক্তের নদী বিনা স্বাধীনতা পাওয়া যায় না; তারপরেও ভিকি গামা এখন যেন আনন্দ লাভেই বেশি ব্যস্ত থাকে; তাই খুব সাবধানে ভেবে বের করার সময় হয়েছে যে এই নারীকে নিয়ে কী করা যায়।
***
৪. কারপার্কে
কারপার্কে নিজের পরিত্যক্ত ভ্যালিয়ান্টের কাছে আবার মাইকেলকে ফিরিয়ে আনা হল। এবারে ভ্যানের সামনে ড্রাইভারের পাশে বসেছেন তাবাকা। আর পেছনে হামাগুড়ি দিয়ে ছিল মাইকেল। নিজের পুরনো গাড়িটাকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মাইকেল তো রীতিমতো বিস্মিত।
“কেউ এটা চুরি করার কষ্টও করেনি!”
“না” একমত হলেন রালেই। আমাদের লোকেরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। নিজেদের জিনিস আমরা ভালই দেখ ভাল করতে পারি।”
হ্যান্ডশেক করে মাইকেল ঘুরতে যেতেই থামালেন রালেই, “আপনার তো একটা প্লেন আছে তাই না মাইকেল?”।
“আরে ধূর!” হেসে ফেলল মাইকেল। “পুরনো একটা সেঞ্চুরিয়ন, এরই মাঝে তিন হাজার ঘণ্টা উড়ে ফেলেছে।”
“আমাকে একটু উপকার করতে হবে তাহলে।”
“আমি রাজি। বলুন কী করতে হবে?”
“বৎসোয়ানায় যাবেন?” জানতে চাইলেন তাবাকা।
“প্যাসেঞ্জার নিয়ে?”
“না। একা যাবেন-একাই ফিরবেন।”
“দ্বিধায় পড়ে গেল মাইকেল। “এটাও কী লড়াইয়ের অংশ?”
“অবশ্যই।” হৃষ্টচিত্তে উত্তর দিলেন রালেই, “আমার জীবনের প্রতিটি কাজই হলো লড়াই।”
“কখন যাবো?” নিজের সন্তুষ্টি ঢেকে রাখতে চাইলেন তাবাকা।
যাক লন্ডনের ফ্ল্যাটে ভিডিও করা ফুটেজ ব্যবহারের হুমকি দিতে হলো না!
“কখন আপনি সময় পাবেন?”
***
বাবা কিংবা অন্য ভাইদের মতো উড়ে বেড়ানোটাকে প্রথম দিকে আমল দেয়নি মাইকেল। এখন বুঝতে পারে যে আসলে মনে মনে ওদের কারও মতো না হতে চাওয়াটাই তাকে বিতৃঞ্চ করে তুলেছে এসবের প্রতি। যেমন চায়নি বাবার ইচ্ছে মতো নিজের জীবন পরিচালনা করতে।
পরবর্তীতে অবশ্য ফ্লাই করতে নিজেরই ভাল লাগত। নিজের সেভিংস থেকেই সেঞ্চুরিয়ন কিনেছে। বুড়ো হওয়া সত্ত্বেও দ্রুতগতির আরামদায়ক প্লেনটা মাত্র তিন ঘণ্টাতেই উত্তর বৎসোয়ানায় পৌঁছে দিল মাইকেলকে।
পুরো আফ্রিকাতে এই একটাই মাত্র গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি নিয়মিত নির্বাচনও হয়। আফ্রিকার অন্যান্য জায়গার তুলনায় দুর্নীতি প্রায় নেই বললেই চলে। বর্ণবাদ কিংবা জাতি বিদ্বেষও তেমন নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার পর এটাই আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধিশালী দেশ।
মন’য়ে নেমে এক কামরার ছোট্ট দালানটাতে কাস্টমস আর ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে আবারো প্লেনে চড়ে বসল উত্তরে ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপের উদ্দেশ্যে।
বেশ বড় একটা দ্বীপের এয়ারস্ট্রিপে সেঞ্চুরিয়ন নিয়ে ল্যান্ড করল মাইকেল। ক্যানোতে করে জলপদ্ম ভরা লেগুন পার করে দিল দু’জন মাঝি। ক্যাম্পে পৌঁছে গেল মাইকেল। ক্যাম্পের নাম গে গুজ লজ। ছবির মতো ছোট্ট কুঁড়ে ঘরগুলোতে চল্লিশ জন অতিথি থাকার মতো ব্যবস্থা আছে। এদের কাজ হল পড়াশোনা কিংবা চারপাশের জীব জগতের ছবি ভোলা। কৃষাঙ্গ মাঝিরা এসে প্রাচীন ক্যানোতে করে নিয়ে যায় খালে।
অতিথিদের বেশিরভাগই পুরুষ। সাউথ আফ্রিকা থেকে আগত এক রাজনৈতিক শরণার্থী এই ক্যাম্পের পরিচালক। মধ্য তিরিশের ব্রায়ান সাসকিন্ড দেখতেও বেশ সুদর্শন। লম্বা সোনালি চুল রোদে পুড়ে প্রায় সাদা হয়ে গেছে। অলংকার পরতেও বেশ ভালবাসেন।
মাইকেলকে দেখেই এগিয়ে এলেন,
“গড ডার্লিং, আপনাকে দেখে সত্যিই খুব খুশি হয়েছি। রালেই আমাকে সব জানিয়েছে। দেখবেন এখানে কত ভাল লাগবে। এত মজার সব লোক আছে এখানে। ওরাও আপনাকে দেখার জন্য অধীর হয়ে আছে।”
অত্যন্ত রূপবান, তরুণ সোয়ানা স্টাফদেরকে দেখে বোঝা গেল সার্থক হয়েছে গে গুজ নাম।
উত্তেজনায় ভরপুর এক উইকেন্ড কেটে গেল ক্যাম্পে। ফেরার সময় মাকোরো ক্যানু পর্যন্ত সঙ্গে এলেন ব্রায়ান।
“বেশ ভাল লেগেছে, মিকি। মাইকেলের হাতে চাপ দিয়ে জানালেন, “আরো নিশ্চয় দেখা হবে। তবে সাবধানে টেক অফ করবেন। খানিকটা ভারিই হয়ে গেছে বোধহয়।”
