নরম হয়ে হাসলেন ভিকি। “উনি যেটা ইচ্ছে বেছে নিতে পারেন। আমার ছেলেরা যা বলব তাই করবে।”
উঠে দাঁড়িয়ে মাইকেলের কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রাখলেন ভিকি গামা।
“আপনি এখানে থেকেই আর্টিকেল লিখুন না? আজ রাতে আমাদের সাথেই থাকুন। উপরে আমার টাইপ রাইটার আছে, ব্যবহার করতে পারবেন। আগামী কালটাও কাটিয়ে যান। ছেলেরা তো আপনাকে বেশ পছন্দ করে ফেলেছে…”
টাইপরাইটারের উপর উড়ে চলেছে মাইকেলের আঙুল। যেন তৈরিই ছিল এমনভাবে আপনা থেকেই মাথায় চলে আসছে একের পর এক লাইন। হৃদয়ের গভীর থেকেই অনুভব করল এর শক্তি। সত্যিই ভালো হয়েছে। লেখাটা। পৃথিবীকে জানাতে হবে এই “ছেলেমেয়েদের কথা।
আর্টিকেল লেখা শেষ হতেই উত্তেজনায় রীতিমতো কাঁপতে শুরু করল মাইকেল। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখা গেল প্রায় মধ্যরাত; অথচ জানে বাকি রাত একটুও ঘুম হবে না। শ্যাম্পেনের মতই রক্তে নাচন তুলেছে এই গল্প।
হঠাৎ করেই দজায় মৃদু টোকা শুনে অবাক হয়ে গেল মাইকেল। তাপরেও নরম স্বরে বলে উঠল, “দরজা খোলা আছে। ভেতরে এসো!” এক জোড়া নীল সকার শর্টস পরিহিত ছেলেটা বেডরুমে ঢুকে এগিয়ে এলো মাইকেলের দিকে।
“আমি আপনার টাইপ করার শব্দ শুনেছি। ভাবলাম হয়ত চা খেতে পছন্দ করেন।”
বিকেলের সুইমিং পুলে, মাইকেলের দেখা সবচেয়ে সুদর্শন ছেলেটা এখন দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। নিজের বয়স ষোল বলে জানালো ছেলেটা কালো একটা বিড়ালের মতই যেন নিমন্ত্রণ করছে।
“থ্যাঙ্ক ইউ।” ফ্যাসফ্যাসে গলায় উত্তর দিল মাইকেল, “ভালই লাগবে তাহলে।”
“কী লিখছেন আপনি?” চেয়ারের পেছনে এসে মাইকেলের উপর ঝুঁকে দাঁড়াল ছেলেটা, “এটাই আপনাকে বলেছিলাম আজকে?”
“হ্যাঁ।” ফিসফিস করে উঠল মাইকেল। মাইকেলের কাঁধে হাত রেখে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে লাজুকভাবে হেসে ফেলল।
“আই লাইক ইউ।”
***
ভোরভেলায় পুলের পাশে বসে মাইকেলের আর্টিকেল শুনলেন রালেই তাবাকা। শেষ হতে বহুক্ষণ পর্যন্ত কেউই কোনো কথা বলতে পারল না।
“আপনি আসলে এক অসাধারণ জিনিয়াস।” অবশেষে জানালেন তাবাকা, “আমি আর কখনো এতটা শক্তিশালী কোনো লেখা পড়িনি। এটা কি ছাপাবেন?”
“এই দেশে না।” একমত হলো মাইকেল। “লন্ডনের গার্ডিয়ান আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তাদেরকে এ লেখা দেয়ার জন্য।”
“তবে তো বেশ ভাল হয়।” খুশি হলেন রালেই। “অত্যন্ত ধন্যবাদ। যত শীঘি পারেন পুরোটা শেষ করুন। অন্তত আজকের রাতটাও এখানে থাকুন। সাবজেক্টের কাছাকাছি থাকলে হাত খুলে লিখতে পারেন দেখছি!”
***
কী কারণে যে ঘুমটা ভেঙে গেল মাইকেল নিজেও জানে না। হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করল পাশে শুয়ে থাকা ছেলেটার উষ্ণ দেহ। ঘুমের ভেতরেই নড়ে উঠল ছেলেটা। হাত তুলে দিল মাইকেলের বুকে।
এরপরই আবারো শব্দটা শোনা যেতেই ঘুমন্ত ছেলেটার হাত সরিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল মাইকেল। নিচের তলা কিংবা বহু দূর থেকে ভয়ংকর কষ্ট পেয়ে কেউ আর্তনাদ করছে। আস্তে করে আন্ডারপ্যান্ট পরে নিঃশব্দে বেডরুম থেকে বের হয়ে প্যাসেজওয়েতে এলো মাইকেল। সিঁড়ির মাথায় গিয়ে খানিক দাঁড়িয়ে শোনার চেষ্টা করল।
আবারো অসম্ভব তীক্ষ্ণ স্বরে কে যেন আর্তনাদ করে উঠতেই সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগল মাইকেল। কিন্তু নিচ পর্যন্ত যাবার আগেই শোনা গেল তাবাকা’র গলা।
“মাইকেল, কী করছেন ওখানে?” রালেই’র তীব্র চিৎকার শুনে থতমতো খেয়ে অপরাধীর ভঙ্গিতে থেমে গেল মাইকেল।
“শব্দ শুনলাম, ঠিক যেন-”
“কিছু না। আপনার রুমে চলে যান মাইকেল।”
“কিন্তু মনে হচ্ছে”
“আপনার রুমে যান।”
তাবাকা নরম স্বরে জানালেও উনার কণ্ঠে এমন একটা কিছু ছিল যে অগ্রাহ্য করতে পারল না মাইকেল। ঘুরে আবার নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে তাবাকা আবার মাইকেলের হাত ধরে জানালেন, “মাঝে মাঝে রাতে চেনা শব্দ’ও অচেনা মনে হয়। আপনি কিছুই শোনেন নি মাইকেল। হতে পারে বিড়াল কিংবা বাতাস। সকালে কথা হবে। এখন ঘুমোতে যান।”
মাইকেল রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন তাবাকা। তারপর সোজা রান্নাঘরে গিয়ে খুলে ফেললেন দরজা।
টাইলস্ করা মেঝের ঠিক মাঝখানে অর্ধ অনাবৃত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাতির মাতা, ভিক্টোরিয়া গামা। কোমর পর্যন্ত নিরাভরণ থাকাতে ফুটে রয়েছে সুদৃশ্য স্তন।
অথচ করছেন অত্যন্ত পৈশাচিক এক আচরণ। এক হাতে ভয়ংকর আফ্রিকান গণ্ডারের চামড়া দিয়ে তৈরি চাবুক, আরেক হাতে জিনের গ্লাস। পেছনে সিংকের উপর রাখা বোতল।
রান্না ঘরে ভিকির সাথে গামা অ্যাথলেটিকস ক্লাবের আরো দুই সদস্যও আছে। মাত্র কৈশোর উত্তীর্ণ হওয়া ছেলেগুলোও কোমর পর্যন্ত অনাবৃত। রান্নাঘরের লম্বা টেবিলটার উপর শোয় আরেকটা দেহকে দু’পাশে থেকে আটকে রেখেছে দু’জনে।
বোঝা গেল বেশ অনেকক্ষণ ধরেই চলছে এই ধোলাই পর্ব। চাবুকের আঘাতে মাংস থেকে রক্ত ঝরছে কৃষাঙ্গ দেহ থেকে। শুয়ে থাকা লোকটার দেহের নিচে রক্ত জমে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে টাইলসের মেঝেতে।
“তুমি কি পাগল হয়ে গেছ?” হিসহিস করে উঠলেন তাবাকা, “বাড়িতে সাংবাদিক আছে খেয়াল নেই?”
“ও একটা পুলিশ স্পাই।” ঘোৎ ঘোৎ করে উঠলেন ভিকি। “বিশ্বাসঘাতক–টাকে আমি শিক্ষা দিয়েই ছাড়ব।”
“তুমি আবারো মদ খেয়েছ?” ভিকির হাত থেকে গ্লাস নিয়ে ঘরের কোণে ছুঁড়ে মারলেন তাবাকা। “গা গরম না করে এসব কাজে আনন্দ পাও না, না?”
