***
সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকম শুধু যে প্রতিযোগীতার জন্য ভেন্যু ঠিক করে দিয়েছেন তাই না, প্রাইজ গিভিং সেরেমনির’র হোস্টেজ’ও তিনিই।
এস্টেটের মেইন পোলো ফিল্ডের উপর পাঁচশো অতিথি বসার মতো তবু টানানো হল। ওয়েল্টে ভ্রেদেরনর রান্নাঘর থেকে এলো সুস্বাদু, মুখরোচক সব খাবার। বিজয়ীকে নিজ হাতে পুরস্কার তুলে দিতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জন ভরসটার।
ভারউড কেবিনেটের একটা অংশের সদস্য থাকাকালীন, জন ভরসটারের ক্ষমতায় আরোহণের বিরোধিতা করেছিলেন শাসা কোর্টনি। ফল হিসেবে লন্ডনে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু পুত্রের হারানো জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য নিজের দক্ষতা আর ক্ষমতা দিয়ে লড়ে গেছেন সেনটেইন। এমনকি শাসা’র আর্মসকোরের নিয়োগ প্রাপ্তির পেছনেও কাজ করেছে সেনটেইনের হার না মানা মনোভাব, অক্লান্ত পরিশ্রম আর রাজনৈতিক আর আর্থিক প্রভাব।
ভেবে দেখেছেন, কোর্টনিদের জন্য নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করবে এস্টেটে জন ভরস্টারের আগমন। ক্ষমতাবানদের প্রায় প্রত্যেকেই আজ এখানে। উপস্থিত। এদের কেউই সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকম’কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবার সাহস না করলেও শাসা লন্ডনে থাকাকালীন অনেকেই বেশ শীতল আচরণ দেখিয়েছে। ভিড়ের মাঝে এদের দেখে তাই চিনে রাখলেন সেনটেইন।
কাকতালীয়ভাবে তাঁর আত্মতৃপ্তি যেন টের পেয়ে গেলেন সাউথ আফ্রিকান কেনেল ইউনিয়নের সভাপতি। মঞ্চের উপর উঠে দাঁড়িয়ে হাত তুলে সবাইকে চুপ করতে ইশারা করলেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিযোগিতা সম্পর্কে খানিক আলোচনার পর বিজয়ীদেরকে একে একে ডাকলেন সামনে আসার জন্য। সবার শেষে টেবিলের মাঝখানে পড়ে রইল সবচেয়ে লম্বা আর সুন্দর কারুকার্য করা রুপার ট্রফিটা।
“এখন আসরের চ্যাম্পিয়নকে ডাকার সময় হয়েছে।” তাঁবু’র চারপাশে চোখ বুলিয়ে পরিবারসহ একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো সেনটেইনের দিকে তাকালেন সভাপতি।
লেডিস অ্যাস্ত জেন্টলম্যান, আসুন সবাই, ওয়েল্টেভ্রেদেনের ড্যান্ডি ল্যাস আর মিসেস সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকমস’কে স্বাগত জানাই।”
ড্যান্ডি ল্যাসের দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে ছিল ইসাবেলা, এবারে কুকুরটাকে এগিয়ে দিল দাদীমার দিকে। হাততালি দিয়ে উঠল সমস্ত দর্শক।
ড্যান্ডির শরীরে কোর্টনিদের পারিবারিক চিহ্ন রুপার ডায়মন্ডের নকশা করা ফিটেও ব্লাঙ্কে। সেনটেইনের সাথে সাথে এগিয়ে গেল মঞ্চের দিকে। দেখে হাসতে হাসতে হাত তালি দিল দর্শকের দল।
মঞ্চের উপর প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে মনিবের নির্দেশে ডান পা বাড়িয়ে দিতেই হট্টগোলে ফেটে পড়ল জনতা। জন ভরসটার নিজেও খানিক নিচু হয়ে আদর করে দিলেন ড্যান্ডি ল্যাসকে।
এবারে রুপার বিশাল ট্রফিটা সেনটেইনের হাতে দিয়ে হাসলেন প্রধান মন্ত্রী। নিষ্ঠুর ক্ষমতা আর গ্রানাইটের মতো মনোবলের অধিকারী বিখ্যাত মানুষটার বালক সুলভ হাসির সাথে ঝিলিক দিয়ে উঠল তাঁর নীল চোখ জোড়া।
সেনটেইনের সাথে হ্যান্ডশেক করার সময় খানিকটা ঝুঁকে এসে বললেন, “এরকম নিরবচ্ছিন্ন সফলতা তোমাদের কাছে একঘেয়ে লাগে না সেনটেইন?”
“আমরা বরঞ্চ একে টিকিয়েই রাখতে চাই, আংকেল জন।” নিশ্চয়তা দিলেন সেনটেইন।
এরপর সেনটেইনকে অভর্থনা জানিয়ে খানিক বক্তৃতা দিয়ে তাঁবুর নিচে ঘুরে ঘুরে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের সাথে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী, তারপর এগিয়ে গেলেন একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো সেনটেইনের দিকে।
“তোমার বিজয় উদ্যাপনের জন্য আরেকটু বেশি সময় থাকতে পারলে ভালই লাগত, সেনটেইন।” হাতঘড়ির দিকে তাকালেন প্রধানমন্ত্রী।
“এরই মাঝে আপনি আমাদেরকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন, কিন্তু যাবার আগে আমার নাতনীর সাথে দেখা করবেন না?” কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা ইসাবেলাকে ডাকলেন সেনটেইন। “শাসা লন্ডনে থাকাকালীন হোস্টেজের দায়িত্ব পালন করেছে আমার নাতনী ইসাবেলা।”
ইসাবেলা সামনে এগিয়ে আসতেই প্রধানমন্ত্রীর বুলডগ মার্কা চেহারাটা মনোযোগ দিয়ে দেখলেন সেনটেইন। জানেন ত্রিশ বছর ধরে সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করলেও ইসাবেলা কোর্টনি’কে দেখে স্থির থাকতে পারবেন না। কোনো পুরুষ। চোখে আগ্রহ ফুটে উঠলেও কেমন করে ভ্রুকুটি করে তা আড়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী, এর সবই দেখলেন সেনটেইন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করার ইসাবেলা’র আগ্রহটা হঠাৎ হলেও মুগ্ধ হয়েছেন শাসা আর সেনটেইন। আর তারপরই নাতনীকে সাথে নিয়ে খুব সাবধানে এই মিটিং এর প্ল্যান করেছেন।
“ও ঠিকই পারবে।” শাসার ভবিষ্যৎ বাণী শুনেও মাথা নেড়েছিলেন সেনটেইন।
“বেলা অনেক বদলে গেছে। তোমার সাথে লন্ডনে যাবার পরেই কিছু একটা হয়েছে নয়ত যে মেয়েটা আগে ছিল বখে যাওয়া আর
“ওহ্! মা মেয়ের স্বপক্ষে বলতে চাইলেন শাসা।
“কিন্তু ফিরে এসেছে এক পরিণত নারী। তার চেয়েও বেশি। কেমন ইস্পাতের মতো কঠিন হয়ে গেছে। কিছু একটা নিশ্চিত ঘটেছে।” দ্বিধায় পড়ে গেলেন সেনটেইন। “জীবন নিয়ে এখন আর রোমান্টিক কিছুভাবে না; ঠিক যেন ভয়ংকর কোনো আঘাত পেয়ে ঘৃণা করা শিখে গেছে। সংকটে পড়ে জেনে গেছে নিজের কঠিন ভবিষৎ।”
“তুমি তো কখনো এমন উদ্ভট সব কল্পনায় বিশ্বাস করতে না।” মাকে থামাতে চাইলেন শাসা।
