“আমার বাবা আত্মনির্ভরশীল একজন মানুষ। আমাকে উনার কোনো প্রয়োজন নেই।”
“ভুল বলছ। তোমার বাবা খুব একা আর অসুখী একজন মানুষ। তোমার দাদীমা আর তুমি ছাড়া আর কোনো রমণীর সাথেই উনার দীর্ঘমেয়াদে কোনো সম্পর্ক গড়ে উঠেনি। আর এই প্রয়োজন মেটাবে তুমি।”
“আপনি চান আমি নিজের বাবাকে ব্যবহার করব?” ভীত স্বস্ত্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল বেলা।
“যদি তোমার সন্তানকে বাঁচাতে চাও।” মোলায়েম স্বরে একমত হলেই সিসেরো। “তোমার বাবার কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু তুমি যদি সাহায্য না করো, ছেলের মুখ আর কোনোদিন দেখবে না।”
হ্যান্ডব্যাগ থেকে রুমাল বের করে নাক মুছল ইসাবেলা।
“তার মানে বাবার কাছ থেকে তথ্য এনে আপনাকে দিতে হবে তাই তো?”
“তুমি তো বেশ তাড়াতাড়ি সবকিছু শিখে ফেলো। যাই হক, এটুকুই যথেষ্ট না। দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনালিস্ট রেজিমের ভেতর বাবার যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও গড়ে তুলবে।”
মাথা নাড়ল বেলা, “আমি তো রাজনীতির কিছুই বুঝি না।”
“উঁহু-হু বোঝ?” বেলা’কে থামিয়ে দিলেন সিসেরো।
“পলিটিক্যাল থিওরীর উপর তোমার ডক্টরেট আছে। ক্ষমতার সিঁড়ি বাবা-ই দেখিয়ে দেবেন তোমাকে।”
আবারো মাথা নাড়ল বেলা। “রাজনীতিতে বাবার অবস্থান তো আগের মতো শক্ত নেই। অতীতের কিছু ভুলের জন্য এখানে কূটনৈতিক হিসেবেও আসতে হয়েছে।”
“লন্ডনে যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখানোর বদলে গেছে এ চিত্র। এর প্রমাণ হল আর্মসকোর’এ এত বড় পদ পাওয়া। আমাদের ধারণা শীঘ্রিই দলেও ডাক পাবেন। জোর সম্ভাবনা হচ্ছে দুই বছরের মধ্যেই কেবিনেটে আবো একবার সদস্য হবার সুযোগ পাবেন। আর তাকে কাজে লাগিয়ে, লাল গোলাপ তুমি হয়ত বছর বিশেকের মধ্যেই সরকারের মন্ত্রী হয়ে যাবে।”
“বিশ বছর!” অবিশ্বাসে চিৎকার করে উঠল ইসাবেলা, “এত বছর ধরে আমাকে আপনার দাস হয়ে থাকতে হবে?”
“তুমি এখনো বুঝতে পারোনি?” এবারে অবাক হলেন সিসেরো, “শোন, লাল গোলাপ, তুমি, তোমার পুত্র, রামোন মাচাদো, তোমরা সকলেই আমাদের সম্পত্তি।”
বহুক্ষণ ধরে কালো পর্দাটার দিকে দৃষ্টিহীনের মতো তাকিয়ে রইল ইসাবেলা।
অবশেষে নীরবতা ভাঙ্গলেন সিসেরো। প্রায় বিনয়ীর সুরে জানালেন, “এখন তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসা হবে। যেখান থেকে এসেছিলে, সেখানে। নির্দেশগুলো মেনে চলো। আখেরে মা-ছেলে দুজনেরই লাভ হবে।”
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারী ইসাবেলা’কে ধরে দাঁড় করিয়ে নিয়ে গেল দরজার দিকে।
মেয়েরা বেরিয়ে যেতেই লেকচার থিয়েটারের পাশের দরজাটা খুলে ভেতরে এলো রামোন। “তুমি দেখেছ সবকিছু?” সিসেরোর প্রশ্নের উত্তরে মাথা নাড়ল মাচাদো।
“ভালোভাবেই চলছে সবকিছু। এই অপারেশন থেকে মনে হচ্ছে বেশ লাভ হবে। বাচ্চাটা কেমন আছে?”
“একেবারে সুস্থ। নার্স ওকে নিয়ে হাভানাতে পৌঁছে গেছে।”
আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে কাশতে কাশতে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে পড়লেন সিসেরো।
হয়ত…মনে মনে ভাবলেন, সারা জীবনের সাধনার ধন ডিপার্টমেন্টের ভার দক্ষ হাতেই দিয়ে যেতে পারব।
***
অ্যাম্বার জয় বুঝি এবার হেরেই গেল। মাঠের সবার ভেতর ছড়িয়ে গেল প্রত্যাশা আর টেনশন।
প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে শিকার করা পাখি ফিরিয়ে আনার সাউথ আফ্রিকার রিট্রিভার চ্যাম্পিয়নশীপের আসর বসেছে ওয়েল্টেভেদেন এস্টেটের পশ্চিমে কাবোনকেল বার্গের পাদদেশে। দুই দিন শেষে এখন টিকে আছে অবশিষ্ট চারটি কুকুর।
এবারই হয়ত বুনো হাঁস ব্যবহার করার শেষ সুযোগ পাওয়া গেল; মনে মনে ভাবলেন শাসা কোর্টনি। এ মাসের শেষ দিক থেকেই এ ধরনের কাজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ডিপার্টমেন্ট অব নেচার কনজারভেশন। এরপর থেকে বাধ্য হয়ে তাই ঘুঘু কিংবা গিনি ফাউল ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এই পাখিগুরো পানির উপর তেমন ভাসতে পারে না।
যাই হোক আসরে মন দিলেন শাসা কোর্টনি। এবার ওয়েন্টেত্রেদেন কাপের আশার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্ধী হল এই বিশার হলুদ ল্যাব্রাডার কুকুরটা। গত দুদিনে একবারও পরাজিত না হওয়া অ্যাম্বার জয়ের আজ ভাগ্যটাই খারাপ। খাঁচা থেকে বের হয়েই বাঁধের কিনারে উড়ে গেল বুনো হাঁস। এবারে গুলি করার দায়িত্ব গ্যারি আর শাসা কোর্টনি’র। বুনো হাঁস বাম দিকে গ্যারির নিশানায় যেতেই পরিষ্কারভাবে মেরে ফেলল গ্যারি। পাখি ভজ করে মাথা নিচের দিকে দিয়ে পানিতে নেমে গেল পাখিটা।
জাজ অ্যাম্বার জয়ের নাম্বার ধরে ডাক দিতেই কুকুরটাকে পাঠিয়ে দিল মালিক বান্টি চার্লস। বাঁধের দেয়ালের কাছে ভিড় করে এলো উৎসুক জনতা। কুকুরটাকে পানির কাছে নিয়ে যেতেই সাঁতরে চলে গেল বুনো হাঁসটা যেখানে অদৃশ্য হয়ে গেছে সেখানে।
কিন্তু মাঝে মাঝে পানির নিচে ডুব দিলেও প্রতিবারেই খালি চোয়াল নিয়ে ফিরে আসছে কুকুরটা। হতাশায় নাচানাচি করছে বান্টি চার্লস। কাঙিক্ষত জায়গাটা থেকে খানিকটা সরে’ও গেছে কুকুরটা। তবে হুইসল দিয়ে এটাকে ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনারও উপায় নেই। তাহলে পয়েন্ট হারাবে মালিক। এদিকে সময়ও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। বারে বারে স্টপ ওয়াচ দেখছেন তিন বিচারক। তিন মিনিটেরও বেশি সময় ধরে পানিতে আছে অ্যাম্বার জয়।
উদ্বিগ্ন মুখে লাইনের পরবর্তী কুকুর আর মালিকের দিকে তাকালো বান্টি চার্লস। তার সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ওয়েল্টেভেদেন থেকে আসা সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকম আর ড্যান্ডি ল্যাস। এদের চেয়ে মাত্র দশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও এবার বুঝি আর পারল না অ্যাম্বার জয়।
