“তোমার জন্য একটা মেসেজ এনেছি। ভিডিও টেপ রেকর্ডিং।” এরপর মঞ্চ থেকে নেমে সারির একেবারে শেষ চেয়ারে, বেলা থেকে দূরে গিয়ে বসে পড়লেন।
মাথার উপরের বাতিগুলোর আলো কমে গেল। ইলেকট্রনিক যন্ত্রের খানিকটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আলো জ্বলে উঠল পর্দায়। সাদা টাইলসের একটা রুমে দৃশ্য দেখা গেল-হতে পারে কোনো ল্যাবরেটরি কিংবা অপারেশন থিয়েটার।
রুমের মাঝখানে একটা টেবিল টেবিলের উপর কাঁচের অ্যাকুয়ারিয়াম টাইপের ট্যাঙ্ক। উপরের কয়েক ইঞ্চি বাদে পুরো ট্যাঙ্কটাই পানিতে ভর্তি। টেবিলের উপরে ট্যাংকের পাশে একটা ইলেকট্রনিক কেবিনেট আর কিছু যন্ত্রপাতি। শুধু পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডার আর মাস্ক দুটোকে চিনতে পারল বেলা। মাস্কুটা দেখে মনে হচ্ছে একেবারে দুধের বাচ্চা কিংবা খুব ছোট ছেলে মেয়ের জন্য তৈরি।
টেবিলে ব্যস্ত হয়ে কাজ করছে এক লোক। ক্যামেরার দিকে পেছন ফিরে থাকায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। পরনে সাদা ল্যাবরেটরি কোট। এবারে ক্যামেরার দিকে তাকাতেই দেখা গেল মুখে’ও সার্জিক্যোল মাস্ক পরে আছে।
পূর্ব ইউরোপীয় টানে যান্ত্রিক স্বরে কথা শুরু করল লোকটা। মনে হলো পর্দার ভেতর থেকেও সরাসরি ইসাবেলার দিকে তাকিয়েই কথা বলছে। “তোমাকে আদেশ দেয়া হয়েছিল মালাগা কিংবা অন্য কোথাও কারো সাথে কথা না বলতে। ইচ্ছে করেই তা অমান্য করেছ।”
একদৃষ্টিতে বেলা’কে দেখছে লোকটা।
“আমি দুঃখিত। এতটা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম যে, আসতে উঠিৎ-”
“চুপ!” পেছন থেকে চিৎকার করে উঠল এক নারী। কাঁধের উপর হাত দিয়ে এত জোরে চাপ দিল যে নখ বসে গেল মাংসের ভেতর।
ওদিকে পর্দায় এখনো কথা বলছে লোকটা। “তোমাকে সাবধান করা হয়েছিল যে অবাধ্যতার কারণে তোমার ছেলের পরিণাম হবে ভয়াবহ। তাই এ ধরনের অবাধ্যতা কী ধরনের পরিণাম নিয়ে আসতে পারে তার একটা নমুনা এখনি দেখতে পাবে।”
কাউকে ইশারা করতেই পর্দায় দেখা গেল এগিয়ে এসেছে আরেক জন নারী কিংবা পুরুষ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। কারণ শুধু চোখ দুটো ছাড়া বাকি সব ঢাকা মাস্ক আর ক্যাপ দিয়ে “ইনি একজন ডাক্তার। পুরো ব্যাপারটাই তিনি মনিটর করবেন।”
দ্বিতীয় লোকটার হাতে একটা পুটুলি দেখা যাচ্ছে। ট্যাঙ্কের পাশে টেবিলের উপর পুটুলিটা’কে রাখতেই কাপড় ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে এলো ছোট্ট একটা পা। দক্ষ হাতে দ্রুত শিশ্যুটার সব কাপড় চোপড় খুলে নিল ডাক্তার। টেবিলের উপর শুয়ে শুন্যে হাত পা ছুঁড়তে লাগল নিকি।
মুখের ভেতর এক হাতের সবকটা আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে জোরে কামড়ে ধরল বেলা; নিজেকে সামলাতে চাইল যেন আবার চিৎকার করে কেঁদে না উঠে।
নিকি’র নগ্ন বুকের উপর দুটো কালো সাংশন কাপ লাগিয়ে দিল ডাক্তার। কাপের পাতলা দুটো তার নিয়ে এরপর লাগানো হলো ইলেকট্রনিক কেবিনেট। সুইচ অন্ করে দেয়ার পর প্রথম জন একঘেয়ে গলায় বলে উঠল : “বাচ্চাটার নিঃশ্বাস আর হার্টবিট রেকর্ড করা হবে।”
ডাক্তার মাথা নাড়তেই এভাবে প্রথম লোকটা গিয়ে দাঁড়াল ক্যামেরার সামনে।
“তুমি হচ্ছ লাল গোলাপ” কেমন অদ্ভুত ভঙ্গিতে নামের উপর জোর দিল লোকটা।” ভবিষ্যতে এই নাম ধরে তোমাকে যা যা করতে বলা হবে, তুমি তাই করবে।”
এরপর নিচু হয়ে এক হাতে নিকি’র দুই গোড়ালি ধরে তুলে ফেলে, আবার জানালো, “এবারে দেখ অবাধ্যতার পরিণাম।”
নিকি’কে ধরে দোলাতে দোলাতে মাথা নিয়ে পানিতে চুবিয়ে দিল লোকটা। সাথে সাথে বন্ধ হয়ে গেল নিকি’র খিলখিল আওয়াজ। ভিডিও ক্যামেরা জুম করতেই দেখা গেল পানির নিচে ছোট্ট মাথা।
উন্মাদের মতো চিৎকার করে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠতে চাইল ইসাবেলা। পেছন থেকে দুই নারী কাঁধ চেপে আবার ওকে জোর করে বসিয়ে দিল।
ওদিকে পর্দার লোকটার হাতের মধ্যে যুদ্ধ করছে নিকি। নাকের থেকে উঠে আসছে রুপালি বুদবুদ। ফুলে কালো হয়ে গেল চেহারা।
তখনো সমানে চিৎকার করছে ইসাবেলা এমন সময় পর্দার মাস্ক পরিহিত ডাক্তার হার্ট মনিটরের দিকে তাকিয়েই স্প্যানিশে চিৎকার করে উঠলঃ “থামোয় যথেষ্ট হয়েছে কমরেড়!”
সাথে সাথে নিকি’কে ট্যাঙ্ক থেকে তুলে ফেলল প্রথমজন। নিকি’র নাক মুখ থেকে গলগল করে পানি বেরিয়ে এলো। বহুক্ষণ পর্যন্ত একটাও শব্দ করতে পারল না ছোট্ট শরীরটা।
এরপর ডাক্তার ওর ভেজা মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দিয়ে বুকে চাপ দিল নিঃশ্বাস স্বাভাবিক করার জন্য। মিনিট খানেকের মধ্যে ইলেকট্রনিক মনিটরের রিড আউট নরম্যাল হয়ে গেল। নিকি আবার হাত পা ছুঁড়তে লাগল। ভয় পেয়ে মুখের মাক্স ধরে টানছে আর চিৎকার করে কাঁদছে।
মাস্ক সরিয়ে নিয়ে টেবিলের কাছ থেকে চলে গেল ডাক্তার। প্রথম লোকটাকে মাথা নেড়ে ইশারা দিতেই আবারো নিকি’র গোড়ালি ধরে ট্যাঙ্কের উপর নিয়ে গেল লোকটা। কী ঘটবে বুঝে গেল নিকি। জোরে কেঁদে উঠে, ছুঁড়তে চাইল।
“হি ইজ মাই সন!” কেঁদে উঠল ইসাবেলা, “আপনি থামুন ওর সাথে এরকম কেন করছেন!”
আবারো ছোট্ট মাথাটাকে পানিতে চুবিয়ে দিল প্রথম লোকটা। প্রাণপণে লড়াই করছে নিকি। আবারো রঙ হারালো ওর চেহারা।
চিৎকার করে উঠল ইসাবেল, “থামুন। যা যা বলবেন আমি সব করব, শুধু আমার ছোট্ট বাবুটাকে কষ্ট দেবেন না। প্লিজ! প্লিজ!”
আরো একবার ডাক্তারের তীঃ স্বর শুনে নিকি’কে উপরে তুলে ফেলল লোকটা। এবারে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে ছোট্ট দেহটা। বমি মেশানো পানি বেরিয়ে এলো খোলা মুখ থেকে। ফুলে যাওয়া নাক থেকে গড়িয়ে পড়ল রুপালি সিকনি।
