“নানা, তুমি এত বাজে বকো না। কিভাবে ভাবলে আমি এমন করব?”
“বিশ বছরের অভিজ্ঞতা।” সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকম সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বললেন, “আর কোন ঝামেলা বাড়িয়ো না, বাছা।”
“প্রমিজ করছি, করব না।” পেটের কাছে ছেলেকে ধরে মিষ্টি স্বরে জানাল ইসাবেলা। মনে হল, আহারে যদি তোমাকে বলতে পারতাম। ছোট্ট মানুষটা তো এখনো ট্রাউজার পরতে পারে না।
“থিসিস কেমন হচ্ছে?” জানতে চাইল বাবা। এরই মাঝে যে শেষ করে ফেলেছে, বলতে পারল না বেলা। কারণ স্পেনে থাকার এটাই তো অজুহাত।
“প্রায় শেষ।” নিকি আসার পর থেকে এ ব্যাপারে কিছুই ভাবেনি বেলা।
“ঠিক আছে। গুড লাক্।” এরপর খানিক চুপ থেকে শাসা জানালেন, “মনে আছে তুমি আমার কাছে কী প্রমিজ করেছ?”
“কোনটা?” না বোঝার ভান করল বেলা। ভেতরে ভেতরে খানিকটা অনুতপ্তও হলো। ভালোভাবেই জানে যে বাবা কিসের কথা বলছেন।
“প্রমিজ করেছিলে যে কখনো কোনো সমস্যায় পড়লে একা একা কিছু করবে না, আমার কাছে আসবে।
“হ্যাঁ, মনে আছে।”
“তুমি ঠিক আছে তত বেলা, মাই বেবি?”
“আমি ঠিক আছি, বাবা, জাস্ট ফাইন।”
মেয়ের কণ্ঠস্বরে আনন্দের ঝিলিক শুনে নিশ্চিত হলেন শাসা।
“হ্যাপি ইস্টার, আমার ছোট্ট বেবি।”
মাইকেলের সাথে টানা পয়তাল্লিশ মিনিট কথা হল। এমনকি নিকি পর্যন্ত ফোনে শুনিয়ে দিল নিজের খলবলে আওয়াজ।
“বাসায় কবে ফিরবে, বেলা?” অবশেষে জানতে চাইল মাইকেল।
“জুনের ভেতরেই রামোনের ডির্ভোস নিশ্চিত হয়ে যাবে। স্পেনে সিভিল ম্যারেজ সেরে ওয়েল্টেভ্রেদেনের গির্জায় বিয়ে করব। তুমি কিন্তু দু’জায়গাতেই থাকবে।”
“বাধা দেয়ার চেষ্টা করে দেখ।” বোনকে চ্যালেঞ্জ করল মাইকেল।
***
টেবিলের পাশে নিকি’র প্র্যাম রেখে পছন্দের সী-সাইড রেস্টোরেন্টে ডিনার করল সবাই মিলে।
ওদের সাথে আদ্রাও ছিল। এতদিনে বেলা’র ছোট্ট পরিবারের অংশ হয়ে গেছে এই নারী। রামোনর হাত ধরে হাঁটছে বেলা। এতটা খুশি আর কখনো বোধ করেনি জীবনে।
বাসায় পৌঁছাতেই চেঞ্জ করার জন্য নিকি’কে নিয়ে গেল আব্রা। এই বার আর ক্ষেপে গেল না বেলা।
সামনের বেডরুমের জানালা আটকে রামোনের কাছে এলো বেলা।
নিকি জন্ম নেবার পরেও তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। তুমি তো জানই যে আমি কাঁচের মতো ঠুনকো নই। ভেঙে পড়ব না।”
মিটি মিটি হেসে ভালই উপভোগ করছে রামোন। জানে অনেকদিন ওর আদর থেকে বঞ্চিত মেয়েটা।
“আমার মনে হয় তুমি সবকিছু ভুলেই গেছ।” রামোনের পিঠে ধাক্কা দিল বেলা, “চলো তোমাকে মনে করিয়ে দেই।”
“তুমি আবার ব্যথা পাবে না তো।” বেলার জন্য সত্যি উদ্বিগ্ন হল রামোন।
“যদি কেউ ব্যথা পায় তো সে হবে তুমি দোস্ত। নাও এবার সিটবেল্ট বাঁধা। টেক-অফের জন্য প্রস্তুতি নাও।”
একটু পর। বন্ধ রুমে ঘর্মাক্ত অবস্থায় পাশাপাশি শুয়ে আছে দুজনে। রামোন বলতে বাধ্য হল, “আগামী সপ্তাহে চার দিনের জন্য আমাকে বাইরে যেতে হবে।”
তাড়াতাড়ি উঠে বসল বেলা। “ওহ্ রামোন এত জলদি!” প্রতিবাদ করতে গিয়ে মনে হল একটু বেশি দখলদারি করছে বেলা। তাই নতমুখে জানতে চাইল, “প্রতিদিন ফোন করবে, ঠিক আছে?”
“চেষ্টা করব এর চেয়েও বেশি কিছু করতে। আমি প্যারিসে যাচ্ছি, দেখি তোমাকেও নিয়ে যাওয়া যায় কিনা। লাজারে’তে একসাথে ডিনার করব দু’জনে।”
“বেশ মজা হবে, কিন্তু নিকি?”
“আদ্রা সামলাবে। নিকিও ভাল থাকবে তাই-আদ্রাও খুশি হবে।”
“আমি আসলে …” দ্বিধায় পড়ে গেল বেলা।
“মাত্র তো এক রাতের জন্য। তাছাড়া তোমারও পুরস্কার পাওনা রয়েছে।”
“ওহ্ মাই ডার্লিং।” মুগ্ধ হয়ে গেল বেলা। “তোমার সাথে থাকতে পারলে আমারও ভাল লাগবে। ঠিকই বলেছ, আদ্রা আর নিকি আমাকে ছাড়া এক রাত ঠিকই কাটিয়ে দিতে পারবে। তুমি ডাকলেই আমি চলে আসব।”
***
“প্রায় এক মাস হয়ে গেছে যে মেয়েটার ডেলিভারী হয়েছে।” তীক্ষ্ণ স্বরে চিৎকার করে উঠলেন জেনারেল জোসেফ সিসেরো। তাহলে আর দেরি কিসের? এখন থামাও এ অপারেশন। খরচ সবকিছুকে ছাড়িয়েই যাচ্ছে। কেবল!”
“জেনারেলের নিশ্চয় মনে আছে যে নিজের ফান্ড থেকেই খরচ মেটাচ্ছি আমি। ডিপার্টমেন্টের বাজেট থেকে নয়।” আলতো করে মনে করিয়ে দিল রামোন।
কাশি দিয়ে মুখের সামনে পত্রিকা মেলে ধরলেন সিসেরো। দুজনে পাশাপাশি বসে আছেন প্যারিস মেট্রোর সেকেন্ড ক্লাস কোচে। কনকর্ড স্টেশন থেকে উঠে রামোনের পাশে বসেছেন সিসেরো। পরস্পরকে চিনতে পারার কোনো ভাবই ফুটল না চেহারায়। আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে ট্রেন ছোটার আওয়াজে কিছু শুনতেও পারবে না আড়ি পাতার দল। দুজনে চোখের সামনে পত্রিকা মেলে কথা বলছে” শর্ট মিটিং এর জন্য প্রায়শই তারা এমন করে থাকে।
“আমি যে শুধু রুবলের হিসাব করছি তা নয়। প্রায় এক বছর ধরে এ প্রজেক্টের পেছনে লেগে থেকে ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য কাজের অপূরণীয় ক্ষতি করছ।”
লোকটাকে রোগ যে কতটা কাবু করে ফেলেছে দেখে অবাক হচ্ছে রামোন। প্রতিবার দেখলে মনে হয় স্বাস্থ্য আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে আর মাত্র কয়েক মাস আছে হাতে।
“এই কয়েক মাসের কাজ সামনের বছরগুলোতে কিংবা দশকগুলোতেও বলা যায় ফিরে আসবে অসাধারণ ফলাফল নিয়ে।”
“কাজ।” নাক সিটকালে সিসেরো। “এটা যদি কাজ হয় তাহলে মজা লোটা কোনটা মারকুইস? আর তাহলে মাসের পর মাস ধরে ইস্তফা টানতেও বা দ্বিধা করছ কেন?”
