অ্যাপার্টমেন্ট আর ক্যামেরা সবকিছুই অলিভার কেন্দ্রিকের সম্পত্তি। এর আগেও রালেইকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে যে এহেন সাজানো নাটকে অংশ নিতে কখনো দ্বিধা করেন না কেভ্রিকের মতো মেধাবী আর বিখ্যাত লোক। যাই হোক তিনি নিজে যে সাগ্রহে একাজ করছেন তা নয়, এসব কিছুর প্রস্তাবও দিয়েছেন অলিভার স্বয়ং। এতটা আনন্দ নিয়ে পুরো কাজের উদ্ভাবন করেছেন যে বোঝাই যাচ্ছে এসব তার কতটা পছন্দের। একটাই মাত্র শর্ত দিয়েছেন যেন নিজের বিশাল কালেকশনে রাখার জন্য পুরো ভিডিও’র একটা কপি তাঁকে দেয়া হয়। আলো-আঁধারী পরিবেশেও অত্যন্ত নিখুঁত কাজ করা এই পেশাদার ক্যামেরার ফলাফল দেখে মুগ্ধ রালেই।
আরো একবার হাতঘড়ি দেখে নিলেন। দেহরক্ষী দু’জন ভালোভাবেই সামলে নিতে পারবে সবকিছু। তারা আগেও একই কাজ করেছে বহুবার। কিন্তু নিজের কৌতূহলও দমাতে পারলেন না। প্রায় আধা ঘণ্টা কেটে যাবার পর খুলে গেল বেডরুমের দরজা। আয়নার ওপাশে দেখা গেল কেন্ড্রিক আর মাইকেল কোর্টনি। দ্রুত নিজ নিজ জায়গায় চলে গেল রালেই’র দেহরক্ষীদ্বয়। একজন ভিডিও রেকর্ডারের কাছে আরেকজন ট্রাইপতে বসানো ক্যামেরায়।
ওপাশের বেডরুমে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কিস্ করল দুই পুরুষ। হালকা একটা গুঞ্জন ছড়াচ্ছে ভিডিও-রেকর্ডার।
সাটিনের চাদরের উপর শুয়ে অপেক্ষা করতে লাগল শ্বেতাঙ্গ কোর্টনি। অন্যদিকে আয়নার সামনে এসে উলঙ্গ দেহে দাঁড়িয়ে রইল কৃষাঙ্গ কেন্ড্রিক। ভাব দেখাল যেন নিজের শরীর দেখছে। অথচ ভালোভাবেই জানে আয়নার ওপাশে কারা আছে। বহু ঘণ্টা কসরৎ করে গড়ে তুলেছেন নিজের পেশি বহুল দেহ সুপুরুষ চেহারা।
গর্বিত ভঙ্গিতে আয়নার দিকে তাকিয়ে মাথা ঘোরাতেই ঝিলিক দিয়ে উঠল কানের হীরের দুল। ঠোঁট জোড়া ফাঁক করে জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে তাকিয়ে রইলেন রালেই তাবাকা’র চোখে। পুরো ব্যাপারটাতে এমন একটা ঘৃণ্য ভাব আছে যে কেঁপে উঠলেন তাবাকা। বিছানার দিকে চলে গেলেন কেন্ড্রিক। কৃষাঙ্গ পশ্চাদ্দেশের চমক দেখে হাত বাড়িয়ে দিল বিছানায় শুয়ে থাকা শ্বেতাঙ্গ।
ঘুরে দাঁড়িয়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হবার জন্য হাঁটতে শুরু করলেন তাবাকা। লিফটে করে নিচে নেমে চলে এলেন সান্ধ্য রাস্তায়। বুকের কাছে ওভারকোট শক্ত করে ধরে নিঃশ্বাস নিলেন পরিষ্কার ঠাণ্ডা বাতাসে। লম্বা লম্বা পা ফেলে এগোলেন সামনের দিকে।
***
৩. ইসাবেলার জীবন
গত কয়েক সপ্তাহে ইসাবেলার জীবন পূর্ণ করে তোলা আনন্দের খানিকটা নিয়ে লন্ডন ছাড়ল মাইকেল।
ভাইকে হিথ্রোতে নামিয়ে দিল ইসাবেলা। “মনে হচ্ছে আমাদেরকে সবসময় গুডবাই বলতে হবে, মিকি।” ফিসফিস করে জানাল মাইকেলকে, ‘তোমাকে অনেক মিস করব।”
“বিয়রে সময় দেখা হবে।”
“এর আগে তো বোধহয়। বাপ্তিস্মের প্রোগ্রামই হয়ে যাবে।” উত্তর দিতেই বোনকে হাত দিয়ে ধরল মাইকেল।
“এটা তো আগে বলনি।”
“ওর স্ত্রীর কারণে।” ব্যাখ্যা দিল বেলা। “জানুয়ারির শেষেই আমরা স্পেন চলে যাবো। রামোন চায় ওর সন্তান যেন ওখানেই জন্ম নেয়। স্প্যানিশ আইনানুযায়ী পেয়ে যাবে।”
“যেখানেই থাকো আমাকে সবসময় সবকিছু জানাবে ঠিক আছে?”
মাথা নাড়ল বেলা। “যদি প্রয়োজন হয় সবার আগে তোমাকেই জানাব।”
ডিপারচার হলের দরজা থেকে বোনকে কিস্ ছুঁড়ে দিল মাইকেল। ভাই চলে যেতেই কেমন একা একা বোধ করল বেলা।
মালাগা উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরের ছোট্ট জেলে গ্রামে অ্যাপার্টমেন্ট ঠিক করল রামোন। দোতলা বাড়িটার চওড়া ছাদে দাঁড়ালে পাইনের মাথার উপর দিয়ে দেখা যাবে দূরের নীল ভূমধ্যসাগর। দিনের বেলা রামোন যখন ব্যাংকে থাকে, ছাদের এক কোণায় নিরাপদে বিকিনি পড়ে শুয়ে নিজের থিসিসের শেষ অংশ নিয়ে কাজ করে বেলা। আফ্রিকাতে জন্ম নেয়াই সূর্য তার বেশ পছন্দের, যা লন্ডনে থাকতে মোটেই পেত না।
লন্ডনের মতো এখানেও যখন তখন ব্যাংকের কাজে বাইরে যেতে হয় রামোন’কে। ওকে যেতে দিতে একটুও মন চায় না। কিন্তু যখন দু’জনে একসাথে থাকে, স্বপ্নের মতো কেটে যায় মুহূর্ত! মালাগা’তে ব্যাংকের ডিউটি বেশ হালকা হওয়াতে মাঝে মাঝেই পুরো সন্ধ্যা ডুব মেরে সমুদ্র তীরে ঘুরে বেড়ায় বেলা’কে নিয়ে। স্বাদ নেয় স্থানীয় সামুদ্রিক খাবার আর দেশীয় ওয়াইনের।
পুরোপুরি সেরে গেছে রামোনের জখম। “এক্সপার্ট নার্স পেয়েছিলাম আসলে।” বেলাকে জানিয়েছে ঠাট্টার সুরে। শুধু রয়ে গেছে বুকের উপর আর পিঠের একটা জায়গাতে এক জোড়া দাগ। রোদে পুড়ে মেহগনির মতো হয়ে গেছে ছেলেটার গায়ের রঙ। আর এর বিপরীতে চোখগুলো দেখায় হালকা সবুজ।
রামোনের অনুপস্থিতি আদ্রা’র সঙ্গ পায় বেলা। ন্যানির চমৎকার বিকল্প হয়ে উঠেছে আদ্রা অলিভারেস।
চল্লিশের কাছাকাছি বয়সের আদ্রা শুকনা হলেও শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী। অল্প কয়েকটা রূপালি চুল থাকলেও মাথার পেছনে খোঁপা হয় ক্রিকেট বল সাইজের। কালো বর্ণের চেহারাতে একই সাথে দয়ালু আর রসিক ভাব। বাদামি রঙা চার কোণা হাতদুটো ঘরের কাজ করতে গেলে হয়ে উঠে বেজায় শক্তিশালী। অন্যদিকে রান্না করা কিংবা বেলা’র কাপড় ইস্ত্রি করার সময় হালকা আর উজ্জ্বল। আবার একই সাথে ইসাবেলা’র পিঠে হাত বুলিয়ে দেবার সময়, পেটে অলিভ অয়েল মেসেজ করার সময় এতটা নরম আর আরামদায়ক হয়ে উঠে যে অবাকই লাগে।
