“হ্যাঁ।” শান্তস্বরে একমত হল রামোন। আমি জানি। কিছু ব্যাপার খেয়াল করলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। প্রথম আধা ঘণ্টাতেই আমি টের পেয়েছি।”
স্বস্তির শ্বাস ছাড়ল বেলা। রামোন জানে, তার মানে বেলার দিক থেকে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা হয়নি।
“তোমার কি খারাপ লেগেছে?”
“না, একদম না।” উত্তরে জানাল রামোন। এদের বেশির ভাগই বেশ সৃজনশীল আর উদ্যমী হয়।”
“হ্যাঁ, মিকি’ও তাই।” আগ্রহ নিয়ে বলল বেলা। “প্রথমে চমকে গেলেও এখন আমার কিছুই মনে হয় না। শুধু চাই ওকে যেন অপরাধী সাব্যস্ত না করা হয়।”
“আমার তো মনে হয় না তার কোনো সুযোগ আছে। সমাজ এরই মাঝে মেনে নিয়েছে।”
“তুমি বুঝতে পারছ না রামোন। মাইকেল শুধু কৃষাঙ্গ ছেলেদেরকেই পছন্দ করে আর দক্ষিণ আফ্রিকাতে থাকে।”
“হ্যাঁ, এবারে চিন্তান্বিত স্বরে জানাল রামোন, “এতে কিছু সমস্যা হতে পারে।”
***
দুপুরের খানিক আগে ফ্লিট স্ট্রিটের পে-বুথ থেকে ফোন দিল মাইকেল। দ্বিতীয় রিং’য়ে সাড়া দিল রামোন!
“খবর বেশ ভালো। রালেই তাবাকা এখন লন্ডনে আর তোমাকেও চেনেন। রেজ’ নামে ১৯৬০-এ তুমি কোনো অটিকেল লিখেছিলে?”
“হ্যাঁ, মেইল এর জন্য ছয়টার একটা সিরিজ। কিন্তু এ কারণে সিকিউরিটি পুলিশ নিষিদ্ধ করেছিল কাগজটা।”
“তাবাকা লেখাগুলো পড়েছেন আর পছন্দও করেছেন। তাই রাজি হয়েছেন তোমার সাথে দেখা করতে।”
“মাই গড রামোন। বলে বোঝাতে পারব না যে আমি কতটা কৃতজ্ঞ। এর মতো ব্রেক-”।
বাধা দিল রামোন। “আজ সন্ধ্যায় তোমার সাথে দেখা করবেন। কিন্তু কিছু শর্ত দিয়েছেন।”
“যে কোনো কিছু।” তাড়াতাড়ি মেনে নিল মাইকেল।
“তুমি একা আসবে। সাথে অস্ত্র তো দূরে থাক, টেপ রেকর্ডার কিংবা ক্যামেরাও থাকবে না। ছবি কিংবা ভয়েসের কোনো রেকর্ড রাখতে চান না। শেপার্ডস বুশ-এ একটা পাব আছে।” ঠিকানাটা বুঝিয়ে দিল রামোন। “সন্ধ্যা সাতটায় থেকো। এক হোড়া ফুল নিয়ে যেও-কার্নেশনস। কেউ একজন এসে তোমাকে নিয়ে যাবে।”
“রাইট, বুঝতে পেরেছি।”
“আরেকটা কথা। ইন্টারভিউ নিয়ে লেখা তোমার কপিগুলো প্রিন্টের আগেই তাবাকাকে দেখাতে হবে।”
খানিকক্ষণের জন্য চুপ মেরে গেল মাইকেল। সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী মেনে নিতে পারছে না এই শর্ত। মনে হচ্ছে ওর পেশার উপর সেন্সরশীপ ফেলা হচ্ছে। কিন্তু পুরস্কার হিসেবে পাবে আফ্রিকার মোস্ট ওয়ানটেড মানুষগুলোর একজনের ইন্টারভিউ।
“অলরাইট।” ভারি সরে উত্তর দিল মাইকেল।” উনাকেই সবার আগে পড়তে দিব।” এরপরই চন মনে হয়ে উঠল কণ্ঠ, “তুমি আমার অনেক উপকার করলে রামোন। কাল সন্ধ্যায় এসে তোমাকে সব জানাব।”
“ওয়াইনের কথা ভুলো না।”
তাড়াহুড়া করে কাভোগান স্কোয়ারে ফিরে এলো মাইকেল। টেলিফোন হাতে নিয়েই দিনের বাকি অ্যাপয়েন্টমেন্ট সব বাতিল করে দিল। এরপর বসল ইন্টারভিউ’র স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। প্রশ্নগুলো এমন হবে যেন তাবাকা’র মড় ঠিক রেখেই পেটের কথা বের করে নেয়া যায়। ইচ্ছে করেই সংঘর্ষ আর রক্তপাতের পথ বেছে নেয়া মানুষটার সামনে মাইকেলকে হতে হবে সিনসিয়ার, সিমপ্যাথেটিক আর তীক্ষ্ণ। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রশ্নগুলোকে নিরপেক্ষ হতে হবে। আবার একই সাথে এমন হবে যেন নিজেকে মেলে ধরেন। তাবাকা মোদ্দা কথা হল, সাদামাটা কোনো বৈপ্লবিক শ্লোগান চায় না মাইকেল। “সন্ত্রাসী” শব্দটা দিয়ে সাধারণভাবে বোঝায় এমন কোনো ব্যক্তি যে কিনা রাজনৈতিক দমননীতির কারণে এমন কোনো সংঘর্ষ ঘটায় যার নিশানা হয় বে-সামরিক জনগণ কিংবা স্থাপনা; এতে করে বেড়ে যায় নির-অপরাধ মানুষের ভোগান্তি আর মৃত্যু। আপনি কি এই সংজ্ঞাটা মেনে নিচ্ছেন? যদি তাই হয় তাহলে উমকুম্ভ সিজো’র উপরে এই লেবেল দেয়া যায়?”
প্রথম প্রশ্নটা ঠিক করে আরেকটা সিগারেট জ্বালিয়ে পুনরায় পড়তে বসল মাইকেল।
“যাক। ভালই হয়েছে। এর মানেই হচ্ছে দুই পা সোজা করে লাফ দেয়া। কিন্তু কী যেন বাদ রয়ে গেছে। আরেকটু ঘষামাজা করতে হবে। এক মনে কাজ করতে করতে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মন মতো বিশটা প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেল। স্মোকড স্যামন স্যান্ডউইচ আর এক বোতল গিনেস খেয়ে আবারো স্ক্রিপট নিয়ে রিহার্সাল করল মাইকেল।
এরপর ওভারকোট কাঁধে নিয়ে কোণার দোকান থেকে কেনা এক তোড়া কার্নেশনস হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে এলো। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝেই ট্যাক্সি নিয়ে চলল স্লোয়ান স্ট্রিট।
মানুষের দেহের উত্তাপে ঝাপসা হয়ে আছে পাব। হাতের কানেশনস তুলে ধরে মৃদু নীল রঙা সিগারেটের ধোঁয়ার মধ্যে তাকাল মাইকেল। প্রায় সাথে সাথেই বার কাউন্টার থেকে উঠে ভিড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এলো পরিষ্কার নীল উলের থ্রি-পিস স্যুট পরা এক ইন্ডিয়ান।
“মি. কোর্টনি, আমি জোভান।”
“নাটাল থেকে।” উচ্চারণ চিনতে পারল মাইকেল।
“স্টানজার থেকে।” হেসে ফেলল জোভান। “কিন্তু তাও ছয় বছর আগে।” মাইকেলের কোর্টের কাঁধ খেয়াল করে বলল, “বৃষ্টি থেমে গেছে? ভাল, চলুন হাঁটি। খুব বেশি দূরে নয়।”
মেইন রাস্তায় নেমে শখানেক গজ হেঁটে যাবার পর হঠাৎ করেই পাশের একটা গলিতে নেমে গেল জোভান। দেখাদেখি মাইকেল। এরপরই দ্রুত পা চালাল লোকটা। তাল মেলাতে গিয়ে প্রায় লাফাতে হচ্ছে মাইকেলকে।
