“হ্যাঁ।” মাথা নাড়ল রামোন। “বুঝতে পেরেছি। বেবি’র কথা প্রায়ই মনে পড়েছে।” হাত বাড়িয়ে বেলা’র পেট স্পর্শ করল রামোন। কিন্তু হাতটা বেশ শক্ত আর ঠাণ্ডা। “আমি চাই আমার পুত্র স্পেনে জন্ম নিক। তাহলে স্প্যানিয়াত হবার পাশাপাশি ওর টাইটেলও ঠিক থাকবে।
মুগ্ধ হয়ে গেল বেলা। ধরেই নিয়েছিল যে তার সন্তান লন্ডনে হবে। ম্যাটারনিটি হোমে এরই মাঝে সম্ভাব্য রিজার্ভেশন দিয়ে রেখেছেন গাইনোকোলজিস্ট।
“আমার জন্য এটা করবে, বেলা? আমার সন্তানকে পরিপূর্ণভাবে একজন স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে তৈরি করে তুলবে?” রামোন জানতে চাইলে এক মুহূর্তও দ্বিধা করল না বেলা।
“অফ কোর্স। মাই ডার্লিং। তুমি যা চাও তাই হবে।” ঝুঁকে রামোনকে কি করল বেলা। এরপর পাশে রাখা বালিশের উপর শুয়ে পড়ে বলল, “তুমি যদি এরকমটা চাও, তাহলে তো জোগাড় যন্তর শুরু করতে হবে।”
“আমি এরই মাঝে অনেক কিছু গুছিয়ে রেখেছি।” স্বীকার করল রামোন। “মালাগার ঠিক বাইরেই চমৎকার একটা প্রাইভেট ক্লিনিক আছে। ওখানকার ব্যাংকের হেড অফিসে আমার বন্ধু আছে। ও আমাদেরকে ফ্ল্যাট আর মেইড খুঁজে দেবে। হেড অফিসে ট্রান্সফারের বন্দোবস্তও করে ফেলেছি। তাই বেবি হওয়ার সাথে সাথে তোমার কাছে চলে যেতে পারব।”
“শুনে তো বেশ ভাল লাগছে।” একমত হল বেলা। “তাহলে তুমি যদি ঠিক করো যে বেবি কোথায় হবে, আমিও ঠিক করব যে আমরা বিয়ে কোথায় করব। দু’জনে সমান সমান, তাই না?”
হেসে ফেলল রামোন, “হ্যাঁ সেটাই ভালো।”
“আমি চাই আমাদের বিয়ে হবে ওয়েল্টেভেদেনে। দেড়শ বছর আগে তৈরি পুরানো একটা গির্জা আছে এস্টেটে। গ্যারি’র বিয়ের সময় দাদীমা নানা এটাকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঠিকঠাক করে নিয়েছেন। পুরো গির্জা ভরে দিয়েছিলেন ফুলে ফুলে। আমিও তেমনটাই চাই। অরাম লিলি’স। কেউ কেউ ভাবে যে এ ফুলগুলো অশুভ, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার ফেরারিট ফুল আর আমি কুসংস্কারে’ও বিশ্বাসী নই…”।
ধৈর্য ধরে মেয়েটার কথা শুনছে রামোন। মাঝে মাঝে বিড়বিড় করে উৎসাহ দিচ্ছে। অপেক্ষায় আছে কখন নিজের পরের চাল চালবে; এক্ষেত্রে ও’কে বেলাই পথ দেখাল।
“কিন্তু রামোন ডার্লিং, সবকিছু রেডি করার জন্য নানা অন্তত ছয় সপ্তাহ সময় নিবে। ততদিনে আমি ছোট খাট একটা পাহাড় হয়ে যাব। বেদী থেকে নেমে এলে ওরা আমাকে নিয়ে “বেবি এলিফ্যান্ট ওয়াক” গান গাইতে থাকবে।”
“না, বেলা।” ইসাবেলা’কে থামিয়ে দিল রামোন। বিয়ের সময় তুমি পুরোপুরি স্লিম আর সুন্দরীই থাকবে। কারণ ততদিনে তো আর প্রেগন্যান্ট থাকবে না।”
বিছানার উপর বসে থাকার মতো করে উঠে বেলা জানতে চাইল, “কী বলতে চাইছ রামোন কী হয়েছে?”
“হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ধরেছ, খবর তেমন ভালো না। নাটালি’র খবর পেয়েছি ও এখনো ফ্লোরিডাতেই আছে। একগুয়ে মেয়েটার কারণে আইনি জটিলতাও বাড়ছে।”
“ওহ রামোন!”
“আমার অবস্থাও তোমার মত। বিশ্বাস করো যদি কিছু করার থাকত, আমি নিশ্চিত করতাম।”
“আই হেইট হার।” ফিসফিস করে উঠল বেলা।
“হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমারো তাই মনে হয়। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, অহেতুক ঝামেলা ছাড়া বড় কোনো ক্ষতিও হবে না। আমাদের বিয়ে হবে, তোমার অরাম লিলিও থাকবে। শুধু এ সবকিছুর আগেই আমাদের সন্তান জন্ম নেবে।”
“প্রমিজ করো, রামোন, আমার কসম-তুমি মুক্ত হবার সাথে সাথে আমরা বিয়ে করব।”
“প্রমিজ।”
রামোনের পাশে শুয়ে ভালো কাঁধের উপর মাথা তুলে দিল বেলা। মুখটা আড়াল করে রাখল; যেন বিতৃষ্ণার ভাবটা রামোন দেখতে না পায়।
“আই হেইট হার, বাট আই লাভ ইউ।” ইসাবেলার ঘোষণা শুনে তৃপ্তির হাসি হাসল রামোন। দেখতে পেল না বেলা।
***
ক্ষত ভালো না হওয়ায় আরো এক সপ্তাহ ফ্ল্যাটে বন্দি হয়ে রইল রামোন। তাই কথা বলার প্রচুর সময় পাওয়া গেল। রামোন’কে মাইকেলের কথা জানাতেই ওর আগ্রহ দেখে খুশি হয়ে গেল বেলা।
একে একে সবকিছু বলে দিল রামোনকে। মাইকেলের গুণ, ওদের মাঝের বিশেষ সম্পর্ক। এমনকি পরিবারের বাকি সদস্যদের কথা, তাদের গোপনীয়তা, দুর্বলতা এমনকি স্ক্যান্ডালের কথা। শাসা আর তারা’র ডির্ভোস। কোনো এক সময় আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের মরুভূমিতে বাস্টার্ড চাইল্ডের জন্ম দেয়া সংক্রান্ত নানা’র বিরুদ্ধে সন্দেহের কথাও জেনে গেল রামোন।
“কেউ কখনো এটা প্রমাণ করতে পারেনি। আসলে পারবেও না। নানা যা চীজু একটা!” হেসে ফেলল বেলা। “যাই হোক, তারপরেও ১৯২০ সালে কিছু তো একটা ঘটেছিল।”
একেবারে শেষে, আবারও মাইকেলের প্রসঙ্গ টেনে আনল রামোন। “যদিও এখন লন্ডনেই থাকে, তাহলে আমাদের দেখা করিয়ে দিচ্ছ না কেন? আমার ব্যাপারে লজ্জা পাচ্ছে নাকি?”
“ওহ সত্যি? সত্যি ওকে এখানে নিয়ে আসব রামোন? তোমার সম্পর্কে ওকে খানিকটা বলেছি। জানি ও’ও তোমার সাথে দেখা করতে চায় আর তোমার’ও ভাল লাগবে। ও হচ্ছে সত্যিকারের লক্ষ্মী কোর্টনি। আর আমরা বাকিরা…!” চোখ পাকালো বেলা।
বগলের নিচে বাবার ব্যার্গান্ডি থেকে বোতল একটা নিয়ে এসে পৌঁছাল মাইকেল। “আমি ভেবেছিলাম ফুল আনব,” ব্যাখ্যা দিয়ে বলে উঠল, “পরে ভাবলাম, থাক দরকারি কিছু নিয়ে যাই।”
হাত মেলাতে গিয়ে খুব সাবধানে পরস্পরকে মেপে নিল মাইকেল আর রামোন। উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে রইল বেলা, প্রাণপণে চাইছে যেন দুজনে দুজনকে পছন্দ করে।
