“এখনো শেষ হয়নি। তোমাকে ইনজেকশন দিতে হবে। ডাক্তারের আদেশ।” হালকা করতে চাইল বেলা, “এবারে তোমার মোটকু পাছু দেখাও সোনা।”
বিছানার পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে রামোনের জুতা-মোজা আর ট্রাউজার খুলে নিল বেলা।
“এবারে আনডারপ্যান্টস।” অন্তর্বাস নিচে নামিয়ে কপট স্বস্তি ফুটিয়ে বলে উঠল, “যাক বাবা, স্পেশাল সবকিছু ঠিকঠাকই আছে। নয়ত আমি পাগল হয়ে যেতাম।” এবারে হেসে ফেলে পাশ ফিরল রামোন।
অ্যাপুল থেকে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জে ভরে রামোনের পশ্চাদ্দেশে ঢুকিয়ে দিল বেলা। এরপর আস্তে করে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল শরীরের নিচের অংশ।
“এখন, ওষুধ নিয়ে এলো বেলা, “এই দুটো পিল্ খেয়ে ঘুম।”
কিছু বলল না রামোন। চুপচাপ ওষুধ খেয়ে নিতেই বেডসাইড লাইট জ্বালিয়ে ওকে কিস করে চলে এলো বেলা, “আমি সিটিং রুমেই আছি, যদি কোনো দরকার লাগে।”
***
সকাল হতেই দেখা গেল গায়ের রঙের বেশ উন্নতি হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক তার কাজ শুরু করেছে। শরীরের উত্তাপ কমে গিয়ে চোখ দুটোও পরিষ্কার হয়ে গেছে।
“ঘুম কেমন হল?” জানতে চাইল বেলা।
“পিলগুলো একেবারে ডিনামাইটের মতো ছিল। মনে হচ্ছিল চূড়া থেকে পড়ে যাচ্ছি, এখন তো গোসলও করতে পারব।”।
স্নানের সময় সাহায্য করল বেলা। ব্যান্ডেজের চারপাশ পরিষ্কার করতে করতে সাবান মাখা স্পঞ্জ নিয়ে দুষ্টুমিতে মেতে উঠল বেলা।
“আহ, শরীরের উপরের দিকে ব্যথা পেলেও নিচের দিকের সব দেখছি ভালই কাজ করছে।”
ডিয়ার নার্স, তুমি কি কাজ করছ না মজা করছ?”
“একটুখানি একটা আর বেশির ভাগই অন্যটা।” স্বীকার করল বাধ্য মেয়ে বেলা।
বিছানায় এসে বেলা’কে আবারো সিরিঞ্জে অ্যান্টিবায়েটিক ভরতে গিয়ে বাধা দিতে চাইল রামোন। সোজা কথা শুনিয়ে দিল মেয়েটা : “ছেলেরা এত ভীরু হয় না! নাও পাছা তোল!” বাধ্য হয়ে গড়িয়ে গেল রামোন। “গুড বয়। এবারে তোমার ব্রেকফাস্টের সময় হয়েছে।”
রামোনের সেবা করতে মজাই পাচ্ছে বেলা। অন্তত এই একটা জায়গায় ওকে আদেশ দেয়া যাচ্ছে আর রামোনও মেনে নিচ্ছে। রান্নাঘরে কাজ করার সময় শুনতে পেল আবারো কার সাথে যেন স্প্যানিশে দ্রুত বকবক করছে রামোন। মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝল না বেলা। শোনার চেষ্টা করতেই ফিরে এলো গত রাতের আশঙ্কাগুলো। জোর করে মাথা থেকে সন্দেহ দূর করার জন্য সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল টিউর স্টেশনের বিপরীত কর্ণারে থাকা ফল ফুলের দোকানে।
ফিরে এসেও দেখল রামোন তখনো ফোনে কথা বলছে।
ব্রেকফাস্ট ট্রে’তে সুন্দর করে গোলাপ আর পীচু সাজিয়ে নিল বেলা। বেডরুমে যেতেই চোখ তুলে তাকাল রামোন। হাসল তার সবচেয়ে সুন্দর আর রেয়ার হাসি।
বিছানার কিনারে বসে কাটা চামচ দিয়ে সাবধানে ফল খাওয়াতে লাগল রামোনকে। মুখে নিয়েই আবার ফোনে কথা বলছে ছেলেটা। খাবার শেষ হতেই ট্রে-রান্নাঘরে রেখে আসতে গেল বেলা। ধুতে ধুতে শুনতে পেল রিসিভার জায়গামতো রেখে দিচ্ছে রামোন।
তাড়াতাড়ি বেডরুমে ফিরে এসে রামোনের পাশে পা দুটাকে একপাশে মুড়ে নিয়ে বসল বেলা।
“রামোন” নরম স্বরে হলেও সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে উঠল, “এটা বুলেটের ক্ষত তাই না?”
সাথে সাথেই ভয়ংকর শীতল আর সবুজ হয়ে গেল রামোনের চোখ। ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে তাকালো বেলার দিকে।
“কিভাবে হয়েছে?” এবারেও চুপচাপ তাকিয়ে আছে ছেলেটা। বেলা বুঝতে পারল তার সাহস ফিকে হয়ে আসছে; তারপরেও শক্ত হতে চাইল।
“তুমি কোনো ব্যাঙ্কার নও, তাই না?”
“বেশির ভাগ সময়েই আমি ব্যাঙ্কার।” মোলায়েমভাবে উত্তর দিল রামোন।
“আর অন্য সময়ে? কী কর তখন?”
‘একজন দেশপ্রেমিক। দেশের জন্য কাজ করি।”
স্বস্তির তপ্ত হাওয়া বয়ে গেল বেলা’র বুক জুড়ে। সারারাত জুড়ে কত যে হাবিজাবি ভেবেছে : ড্রাগ স্মাগলার, ব্যাংক ডাকাত কিংবা অপরাধী চক্রের সদস্য হওয়াতে গ্যাং ওয়ারে আহত হয়েছে।
“স্পেন।” জানতে চাইল বেলা, স্প্যানিশ সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য তাই না?”
এবারেও কিছুই না বলে সাবধানে বেলা’কে পরখ করছে রামোন। অল্প অল্প করে ফাঁদের কাছে টেনে নিয়ে আসতে হবে।
“তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ বেলা, যদি ঘটনা এরকম হয়ও আমি তোমাকে বলতে পারব না।”
“অবশ্যই।” খুশি খুশি হয়ে মাথা নাড়ল মেয়েটা। এই বিপদজনক আর উত্তেজনাময় এসপিওনাজ দুনিয়ার আরেকটা লোক’কে চিনত সে। রামোনের আগে একমাত্র ওই লোকটাকেই ভালবেসেছিল বলে মনে করেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকান সিকিউরিটি পুলিশের সেই বিগ্রেডিয়ারই একমাত্র তার বন্য আবেগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। জোহানেসবার্গের ফ্ল্যাটে ছয় মাস উদ্দাম আনন্দে কাটিয়েছে বেলা আর লুথার ডিলা রে। স্বামী-স্ত্রী’র মতই কাটানো সেই দিনগুলোকে কোনোরকম ওয়ার্নিং ছাড়াই শেষ করে দিয়েছে লুথার। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিল বেলা। এখন বুঝতে পারে যে কতটা বোকা ছিল সেসময়। খানিক সেই মোহের সাথে কোনো তুলনা নেই তার আর রামোন মাচাদোর এই বন্ধন।
“আমি বুঝতে পেরেছি ডার্লিং। তুমি আমার উপর ভরসা করতে পারো। আর একটাও অহেতুক প্রশ্ন করব না।”
“আমি তা জানি। এ কারণেই তো প্রথম তোমাকেই ডেকেছি সাহায্যের আশায়।”
“আই এম প্রাউড অব দ্যাট। তুমি স্প্যানিশ আর আমার সন্তানের পিতা হওয়াতে নিজেকেও স্প্যানিশই মনে হয়। তাই যতটা সম্ভব তোমাকে সাহায্য করতে চাই।”
