সবকিছুর ফাঁকে ফাঁকে বোনের দিকেও ঠিকই তাকাচ্ছে মাইকেল। তাই ব্যাখ্যা দেয়ার ভয়ে অখণ্ড মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল বেলা। অবশেষে মিনি এসে পৌঁছল গন্তব্যে।
জেট ল্যাগের ধকল কাটিয়ে উঠার জন্য মাইকেল স্নান সেরে নিতে নিতে হুইস্কি আর সোডা এনে দিল বেলা। টয়লেটের সিটের বন্ধ ঢাকনির উপর বসে কথা বলতে লাগল ভাইয়ের সাথে। এভাবে ফেনায় গা ডুবিয়ে গোসল করার সময় শন্ কিংবা গ্যারির সাথে কথা বলার ব্যাপারে চিন্তাও করবে না বেলা; কিন্তু মাইকেলের ব্যাপার ভিন্ন। নগ্নতা এই দু’ভাই বোনের কাছে অস্বাভাবিক কিছু না।
“আচ্ছা তোমার সেই অনর্থক ছড়াটা মনে আছে?” অবশেষে জানতে চাইল মাইকেল।
“ডাম ডি ডাম-ডাম,
বাবা শুধোলেন ‘নেলী,
কী আছে তোমার পেটে।
যা যায়নি তোমার মুখে! “
একটুও লজ্জা না পেয়ে হাসল বেলা। এর মানেই হল সাংবাদিকে শ্যেন দৃষ্টি? কিছুই তোমার চোখ এড়ায় না, তাই না মিকি?”।
“চোখ এড়াবে?” হেসে ফেলল মাইকেল। “তোমার পেট তো আমার সাংবাদিকের প্রশিক্ষিত চোখ’কেও হারিয়ে দিয়েছিল আরেকটু হলে!”
“সুন্দর না?” যতটুকু সম্ভব পেট ঠেলে বের করে দিয়ে হাত বুলালো ইসাবেলা।
‘অসম্ভব!” ঐকমত হল মাইকেল বাবা আর নানা দেখলেও একই কথা বলবে।”
“তুমি তো বলবে না, তাই না মিকি?”
“তুমি আর আমি তো কখনো একে অন্যের সিক্রেট বাইরের কাউকে বলিনি। কখনো বলবোও না। কিন্তু শেষতক হুম ফলাফল নিয়ে তুমি কী করবে?”
“আমার ছেলে, তোমার ভাগনে-ফলাফল হলো? তোমার লজ্জা হলো না মিকি? রামোন তো বলে এ হলো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বড় রহস্য আর মিরাক্যাল।”
“রামোন! তো কালপ্রিটটার নাম হলো রামোন। আশা করছি নানা’র পুরনো আর তৃঞ্চাৰ্ত শর্টগানের হরিণ মারার গুলি এড়াবার জন্য বুলেট প্রুফ পোশাক পরে যাবে বদমাশটা।”
“ও একজন মারকুইস, মিকি। দ্য মারকুইস ডি সান্টিয়াগো-ই-মাচাদো।”
“আহ, খানিকটা কাজ হবে মনে হচ্ছে। নানা’ও হয়ত পশু মারার গুলি না নিয়ে পাখি মারার গুলি নিয়ে নেবে।”
“নানা যতক্ষণে সব জানবে, ততদিনে আমি মারকুইসা হয়ে যাবো।”
“এখন?”
“একটু সমস্যা আছে। কিন্তু বেশি দেরি নেই।” স্বীকার করতে বাধ্য হল বেলা।
“তারমানে ও এরই মাঝে বিয়ে করেছে আগেও?”
“তুমি কিভাবে জানো মিকি?” অবাক হয়ে জানতে চাইল বেলা।
“আর তার স্ত্রী তাকে এখন ডির্ভোস দিতে চাইছে না?”
“মিকি!”
“মাই লাভ, এই পাড় শয়তানগুলো সব এক গোয়ালের গরু।”
উঠে দাঁড়িয়ে তোয়ালে নিল মাইকেল।
“তুমি তো ওকে চেনোও না মিকি। ও এমন নয়।”
“বুঝতে পারছি তুমি কতটা অন্ধ হয়ে গেছ।” গায়ে তোয়োলে জড়িয়ে নিল মাইকেল।
“ও আমাকে ভালবাসে।”
“তাতো দেখতেই পাচ্ছি।”
“এমন করো না মিকি।”
“আমাকে কথা দাও, বেলা, যদি কখনো কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সবার আগে আমার কাছে আসবে। ঠিক আছে?”
মাথা নেড়ে বেলা জানালো; “হ্যাঁ, ঠিক আছে। তুমি এখনো আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। কিন্তু দেখে নিও কোনো সমস্যাই হবে না।
এরপর মাইকেলকে ওয়ালটন স্ট্রিটে’র মা কুইজিনে ডিনার করাতে নিয়ে গেল বেলা। ভাই লন্ডনে আসছে, জানার সাথে সাথে রিজাভেশন না দিলে হয়ত জায়গাই পেত না এই জনপ্রিয় রেস্টোরেন্টে।
“সবাই আমাকে এমন ঘুর ঘুর করে দেখছে যেন আমিই সবকিছুর জন্য দায়ী।”
“ননসেন্স। ধ্যাৎ, তুমি এত হ্যান্ডসম যে সবাই তাই দেখছে।” এরপর নিজ নিজ কাজ নিয়ে কথা বলল দুজনে। ইসাবেলা প্রমিজ করল ভাইকে নিজের থিসিস পড়তে দেবে। মাইকেল জানাল যে বর্ণবাদী আন্দোলনের উপর সিরিজ আটিকেল আর ব্রিটেনে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতির খবর লেখার জন্য লন্ডনে এসেছে।
“প্রধান সারির কয়েকজন নেতা’র ইন্টারভিউ নিতে হবে : অলিভার টাম্বো। ডেনিস ব্রুটাস…”
কিন্তু আমাদের সেন্সর তোমাকে সেসব ছাপাতে দেবে? বিশেষ করে লাভের আশায় জল ঢাললে গ্যারি তো খেপে আগুন হয়ে যাবে।”
মিটমিট করে হেসে ফেলল মাইকেল। “বেচারা গ্যারি। জীবন ওর কাছে এতটা সহজ সাদা-কালো নীতি বোধ নয় বরঞ্চ লাল আর কালো ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
ডেজার্ট শেষ করেই মাইকেল হঠাৎ করে জানতে চাইল, “মা’র কোন খবর জানো? এর ভেতর দেখা হয়েছিল?”
“মা-মাম্মি। কিছুই নয়।” তিক্ত স্বরে ভাইকে শুধরে দিল বেলা, “তুমি তো জানই এসব শব্দকে বুর্জোয়া হিসেবে ভাবে সে। কিন্তু তোমার প্রশ্নের উত্তর হলো না, তারা’র সাথে অনেকদিন ধরেই আমার কোনো দেখা সাক্ষাৎ হয় না।
“উনি আমাদের মা, বেলা।”
“বাবা আর আমাদের সবাইকে ছেড়ে ওই কালো বিপ্লবীটার সাথে চলে আসার সময় সে তো সেটা ভাবেনি। আবার ওই বাদামি বাস্টাড় টাকেও বহন করেছে।”
“বাস্টার্ড বহন করার কথা এলে তোমার ব্যাপারটাও নিশ্চয় আসবে।” নরম স্বরে বললেও বোনের চোখে আঁধার ঘনাতে দেখল মাইকেল।” আমি দুঃখিত বেলা। কিন্তু তোমার মতই সবকিছুরই নির্দিষ্ট কারণ আছে বেলা। ওনাকে তাই এভাবে বিচার করতে পারব না আমরা। তুমি তো জানেনা বাবাকে বিয়ে করা কোন সহজ কাজ নয়। আর নানা’র নিয়মানুযায়ী চলাও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। আমার ধারণা প্রথম থেকেই পরিবারে খাপ খাওয়াতে পারেননি তারা। সবসময় অবহেলিতদের প্রতিই ছিল তাঁর সহানুভূতি আর এরপর তো মোজেস গামা এলেন…”
“মিকি ডার্লিং”-টেবিলের ওপাশ থেকে ঝুঁকে এসে ভাইয়ের হাত ধরল বেলা-”তুমি হচ্ছ পৃথিবীর সবচেয়ে বুঝদার অনুকম্পী ব্যক্তি। সারা জীবন ধরে আমাদের জন্য অযুহাত খুঁজে ভাগ্যের হাত থেকে বাঁচাতে চেয়েছ। আই লাভ ইউ সো মাছ। তাই এ ব্যাপারে কোনো তর্ক করতে চাই না।”
