“কি হয়েছে, রামোন?” জানতে চাইল তড়িঘড়ি করে।
বেলার হাত থেকেও শ্যাম্পেনের গ্লাস নিয়ে ওয়ালনাট টেবিলের উপর রেখে দিয়ে রামোন বলে উঠল, “বেলা।” নরম স্বরে মেয়েটার নাম ধরে ডেকে কি করল খোলা হাতের তালুতে।
“কী হয়েছে রামোন? বলো?” বুক শুকিয়ে গেল মেয়েটার।
“আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না ডার্লিং অন্তত এখন না।” বেলার পায়ের নিচের জমি কেঁপে উঠল যেন। স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। ধীরে ধীরে হেঁটে আর্মচেয়ারে গিয়ে বসে পড়ে জানতে চাইল, “কেন?” ওর সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল রামোন। না তাকিয়েই বেলা আবার জানতে চাইল, “আমি তোমার সন্তান বহন করতে পারলে আমাকে তুমি বিয়ে করতে পারবে না কেন?”
“বেলা, তোমার মতো স্ত্রী আর তোমার সন্তানের পিতা হবার জন্য আমি সব করতে পারি, কিন্তু…?”
“কিন্তু কী?”
“প্লিজ আমার কথা শোন। পুরোটা না শুনে কিছু বলল না।”
এবারে চোখ তুলে ওর দিকে তাকাল বেলা।
“আমি নয় বছর আগে মিয়ানিতে একটা কিউবান মেয়েকে বিয়ে করেছিলাম।”
চোখ বন্ধ করে ফেলল বেলা।
“কিন্তু শুরু থেকেই সব কিছু নষ্ট হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হবার আগে কয়েক মাস মাত্র একসাথে ছিলাম। কিন্তু আমরা দুজনেই ক্যাথলিক…” কথা বন্ধ করে বেলার ফ্যাকাসে গালে স্পর্শ করল রামোন। পিছিয়ে গেল বেলা। ছেলেটা জানাল, “তাই, আমরা এখনো বিবাহিত।”
“ওর নাম কী?” চোখ না খুলেই জানতে চাইল ইসাবেলা।
“কেন জানতে চাও?”
“বলো।”
“নাটালি।” কাঁধ ঝাঁকাল রামোন।
“ছেলেমেয়ে?” আবারো জানতে চাইল বেলা, “তোমাদের কয়টা ছেলে মেয়ে আছে?”
“একটাও না।” উত্তরে জানাল রামোন। “তুমিই আমার প্রথম সন্তানের মা হবে।” দেখতে পেল ফিরে এলো মেয়েটার গালের রঙ। খানিক পরে চোখ খুললেও দেখা গেল হতাশার ভার গিয়ে সবটুকু নীল কালো হয়ে গেছে।
“ওহ, রামোন, এখন কী করব আমরা?”
“আমি এরই মাঝে আমার কাজ শুরু করে দিয়েছি। স্পেন থেকে ফেরার পর; তুমি আমাকে বাচ্চার কথা বলার আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে স্ত্রী হিসেবে তোমাকেই চাই।
“ওহ, রামোন।” শক্ত করে ওর হাত চেপে ধরল বেলা।
“নাটালি এখনো মিয়ামিতে ওর পরিবারের সাথে বাস করে। কয়েকবার টেলিফোনে কথাও বলেছি। জানিয়েছে এমন কিছু নেই যার কারণে আমাকে ডির্ভোস দিতে রাজি হবে।”
হা করে তাকিয়ে থেকে অবশেষে ভয়ংকর দুঃখের সাথে মাথা নাড়তে লাগল ইসাবেলা।
“তিনটা সন্ধ্যায় ওকে ফোন করেছি আর অবশেষে এমন এক বস্তুর সন্ধান মিলেছে যা ওর কাছে ঈশ্বর আর পাপ স্বীকারের চেয়েও জরুরি।”
“কী?’
“টাকা।” গলায় ব্যাকুলতা এনে বলল রামোন। “কবুতর মারা প্রতি যোগ্যতা থেকে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগটাই এখনো রয়ে গেছে। পঞ্চাশ, হাজার ডলারের বিনিময়ে ডির্ভোস ফাইল করতে অবশেষে রাজিও হয়েছে।
“ডার্লিং! “ খুশিতে চকচক করে উঠল ইসাবেলার চোখ। “ওহ্ থ্যাঙ্ক গড়! কখন? কখন মুক্তি দিবে তোমাকে?”
“এইখানেই সমস্যাটা। সময় লাগবে। আমি ওকে জোর করতে পারব না। নাটালি’কে ভালোভাবেই চিনি আমি। যদি সে তোমাকে খুঁজে পায় আর বুঝতে পারে কেন ডিভোর্স চাইছি তাহলে আরো ব্ল্যাকমেইল করবে। আগামী মাসের শুরুতে রেনো যেতে রাজি হয়েছে। মায়ের অবস্থাও তেমন ভালো না।”
“হ্যাঁ, হ্যাঁ, কিন্তু কতদিন সময় লাগবে?” অধৈর্য হয়ে জানতে চাইল বেলা।
“রেনো’তে থাকার ব্যাপারে নেভাডা স্টেট ল’র নিয়ম হল ডিভোর্স গ্রান্ট করতে তিন মাস লেগে যায়।”
“ততদিনে ছয় মাস হয়ে যাবে। ড্যাডি আর আমি ইতিমধ্যে কেপ টাউনে ফিরে যাবার সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি। ওহ্ রামোন এখন কী হবে?”
“তুমি কেপ টাউনে ফিরবে না।” সোজা-সাপ্টা জানিয়ে দিল রামোন। “আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না আর তোমার বন্ধু আর পরিবারের সকলেও জেনে যাবে ততদিনে।”
“তাহাল আমি কী করব? কী চাও?”
“আমার ডির্ভোস ফাইনাল না হওয়া পর্যন্ত আমার সাথে থাকো। আমার ছেলের জীবনের একটা দিনও মিস করতে চাই না।”
অবশেষে বেলার মুখে হাসি ফুটল। “ছেলেই হচ্ছে তাহলে তাই না?”
“অবশ্যই।” ভান করে বলে উঠল রামোন। “পারিবারিক পদবী দেবার জন্য উত্তরাধিকার তো লাগবে তাই না? আমার সাথে থাকবে তত বেলা?”
“তাহলে বাবা আর দাদীমাকে কী বলল? পাপা’কে না হয় মানিয়ে নিতে পারব কিন্তু দাদী…!” চোখ পাকালো ইসাবেলা। “সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকমস হলেন পারিবারিক ড্রাগন। তার নিঃশ্বাসে আসলেই আগুন ঝড়ে আর ভিকটিমের তো হাড় পর্যন্ত চিবিয়ে খায়।”
“আমি তোমার ড্রাগনকে পোষ মানাবো।” প্রমিজ করল রামোন।
“আমার সত্যিই মনে হয় তুমি পারবে।” দুঃশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে সন্তুষ্টি ফুটল মেয়েটার চোখে। নানা’কে কেউ খুশি করতে পারলে তুমিই পারবে, ডার্লিং।”
***
সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকমস্ ছয় হাজার মাইল দূরে থাকায় সহজ হয়ে গেল কাজটা। খুব যত্ন করে সবকিছুর ছক করল ইসাবেলা। প্রথমেই নজর দিল বাবা’র দিকে। রাতারাতি বনে গেল অত্যন্ত দায়িত্বশীল কন্যা আর নিখুঁত হোস্টেজ। কূটনৈতিক কাজে শাসা কোর্টনির শেষ কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু সোশ্যাল প্রোগ্রামের আয়োজন করল বেলা।
“যেখানেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলে সেখান থেকে ফিরে আসায় ওয়েলকাম ব্যাক। জানো তোমাকে কতটা মিস্ করেছি।” বেলা’র আয়োজনকৃত সুন্দর একটা ডিনার পার্টির পরম মন্তব্য করলেন উফুল্ল শাসা। হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে পিতা-কন্যা। হাইভেন্দ্রের সামনের দরজার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দেখছে লিমুজিনে চড়ে সর্বশেষ অতিথির প্রস্থান।
