“আমি প্রায় দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নিশ্চয় স্পেনেই হয়েছে। সম্ভবত গ্রানাডা’তে, ষাঁড়ের লড়াইয়ের পর…” দম হারিয়ে কাঁপতে শুরু করল যেন, তারপরেও বলতে লাগল, “আমি আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না। মানে, আমি নিয়মিতো পিল খেয়েছি। তুমি দেখেছ…” বুঝতে পারল ঠিকভাবে কিছুই বলতে পারছে না, তারপরেও শেষ করল, “জানি আমি বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম; কিন্তু তুমি কিছু ভেবো না। এখনো সময় আছে। গত বছর হ্যারিয়েটের সাথেও একই হয়েছিল। আমস্টারডামে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর পরে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গিয়ে রবিবারেই লন্ডনে ফিরে এসেছে একদম নতুন হয়ে। ও আমাকে ঠিকানা দিয়েছে, বলেছে প্রয়োজন হলে সাথেও যাবে।”
“ইসাবেলা!” তীব্র স্বরে চিৎকার করে উঠল রামোন। “চুপ করো একদম চুপ। আমার কথা শোন! ভয়ার্ত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে রইল বেলা।
তুমি জানই না যে কী বলছ। তুমি কী কসাই!”
“আই এম সরি, রামোন।” অবাক হয়ে গেল বেলা। “আমার আসলে তোমাকে বলাটা উচিত হয়নি। হ্যারিয়েট আর আমি মিলেই….”
“হ্যারিয়েট একটা শয়তানের বাচ্চা। আর ওর হাতে আমার সন্তানের জীবন তুলে দিলে তোমাকেও ছাড়ব না।”
হা হয়ে তাকিয়ে রইল ইসাবেলা। এমনটা তো আশাই করেনি।
“এটা একটা মিরাক্যল ইসাবেলা। বিশ্ববক্ষান্তের সবচেয়ে বড় রহস্য। আর তুমি একে ধ্বংস করে ফেলার কথা বলছ। ও আমাদের সন্তান, ইসাবেলা। নতুন একটা জীবন, ভালোবেসে আমরা যার সৃষ্টি করেছি। বুঝতে পারছ না?”
পাশে এসে মেয়েটার হাত ধরতেই রামোনের দৃষ্টির শীতলতা কেটে গেছে দেখতে পেল বেলা।
“তুমি রাগ করোনি?” দোনোমোনো করে জানতে চাইল-বেলা, “আমি তো ভেবেছি তুমি খেপে যাবে।”
“আমি গর্বিত। ডিয়ার।” ফিসফিসিয়ে উঠল রামোন। “আই লাভ ইউ। আমার কাছে তুমিই হচ্ছ সবচেয়ে দামি।” বেলার হাত ভাজ করে কব্জিতে ধরে পেটের উপর রাখল রামোন।” ওখানে যে আছে আমি তাকেও ভালোবাসি। ও ‘ও আমার কাছে তোমার মতই মূল্যবান।” অবশেষে জানালো, “আই লাভ ইউ।”
“ওহ, রামোন!” কেঁপে উঠল বেলার স্বর, “তুমি এত সুন্দর, এত ভালো! আর সবেচয়ে বড় মিরাক্যল হলো তোমার সাথে আমার দেখা হওয়া।”
“তুমি আমাদের সন্তানের জন্ম দিবে, মাই ডার্লিং বেলা।”
“হ্যাঁ, হাজার বার আমি হ্যাঁ-ই বলব ডার্লিং। ইউ হ্যাভ মেইড মি সো প্রাউড, সো হ্যাপি!”
অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে উত্তেজনা এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল মেয়েটার বাকি সবকিছু।
***
এতদিনে উদ্দেশ্য আর গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে তার আর রামোনের ভালোবাসা। সারাক্ষণ মগ্ন হয়ে কেবল সে কথাই ভাবে বেলা। কয়েক বার ভেবেছে ন্যানিকে জানাবে, কিন্তু তারপরেই বুঝতে পেরেছে এই বুড়ী উত্তেজনার চোটে পেট ফেটে মরে যাবে আর চব্বিশ ঘন্টার মাঝে জেনে যাবে বাবাসহ পুরো অ্যামবাসি আর দুনিয়া। তাই অপেক্ষা করছে কিছু কাজ না সারা পর্যন্ত। তবে অবাক হচ্ছে এই ভেবে যে ন্যানি কিছু টের পাচ্ছে না কেন। বুড়ীর দৃষ্টি এত তীক্ষ্ণ যে ওয়েল্টেভ্রেডেনের বাড়িতে কোনো মেইডের এমনটা হলেই বুঝে ফেলে অব্যর্থভাবে। আর বাসায় থাকলে তো সে-ই বেলাকে স্নান করিয়ে দেয়।
সন্ধ্যাবেলা দ্রুরি লেইনে ফ্ল্যামেঙ্কো ফেস্টিভ্যালের টিকেট কেটে এনেছে রামোন; কিন্তু ব্যাংকের প্রাইভেট নাম্বারে ওর কাছে ফোন করল বেলা।
“রামোন ডার্লিং, আজ রাতে বের হতে মন চাইছে না। তার চেয়ে বরং তোমারি সাথে একাকী সময় কাটাতে চাই। আমি ডিনার তৈরি করব। তুমি ফ্ল্যাটে আসতে আসতে আমি রেডি করে ফেলব, তারপরে একসাথে ভন কারান’র নতুন ডিস্ক শুনব।”
সারা সপ্তাহ ধরে এ উৎসবের জন্য অপেক্ষা করেছিল রামোন। মাঝে মাঝে স্প্যানিশ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করে। বেলা’কে তো চাপ দিচ্ছে ভাষাটা শেখার জন্য। এক সেট রেকর্ডও কিনে দিয়েছে। যাই হোক অবশেষে রাজি করাল বেলা।
অ্যামব্যাসি থেকে ফ্ল্যাট পর্যন্ত আসতে আসতে কয়েকবার গাড়ি থামিয়ে সেন্ট জেমস্ স্ট্রিট থেকে পোল রজার আর মাচেট’র বোতলসহ হ্যারোডস্ থেকে কিনে নিল দুই ডজন হুইট স্ট্যারেল অয়েস্টার আর এক জোড়া নিখুঁত বাছুরের মাংসের কাটলেট।
সামনের জানালা দিয়ে রামোনকে দেখা গেল। ব্রি-পিস স্যটে পাক্কা সাহেব দেখাচ্ছে ছেলেটাকে। এটা এমন এক অদ্ভুত গুণ যে সব পরিবেশেই চমৎকারভাবে মানিয়ে যায় রামোন, যেন জন্ম থেকেই এভাবে আছে।
শ্যাম্পেন খুলে সদর দরজায় রামোনের চাবির আওয়াজ শুনতেই দুজনের গ্লাস ভরে নিয়ে রেখে দিল বরফ কুচি দিয়ে ভরা রূপার ট্রে’র পাশে, যার উপর সাজিয়ে রেখেছে খোলা অয়েস্টার। ইচ্ছে হল দৌড়ে যায়, তা না করে লিভিং রুমে রামোন এলে পর কিস দিয়ে ভরিয়ে তুলল ছেলেটাকে।
“বিশেষ কিছু নাকী?” বেলা’র কোমরে হাত রেখেই জানতে চাইল রামোন। লম্বা টিউলিপ গ্লাসের একটা তুলে ওর হাতে দিল বেলা আর নিজের গ্লাসের কিনারা দিয়ে চোখ তুলে তাকাল রামোনোর দিকে।
“ওয়েলকাম হোম, রামোন। আমাকে বিয়ে করলে তুমি কী কী পাবে। তার ছোট্ট একটা নমুনা দেখালাম শুধু।”
রামোনের চোখ জোড়া কেঁপে উঠল; এতটা তীক্ষ্ণ আর মর্মভেদী দৃষ্টি আর কখনো দেখেনি বেলা। সবসময় স্থিরভাবেই তাকায় ছেলেটা।
ওয়াইনে একটুও চুমুক না দিয়ে গ্লাসটাকে একপাশে রেখে দিল রামোন। মনে মনে প্রমাদ গুনল বেলা।
