“রামোন, তুমি যে কী করো, আমি তাও জানি না। উপার্জন করো কিভাবে?”
“মার্চেন্ট ব্যাংকিং।” অস্পষ্টভাবে মাথা ঝাঁকাল রামোন। “প্রাইভেট একটা ব্যাংকের হয়ে কাজ করি। দায়িত্ব হচ্ছে আফ্রিকান বিষয় সামলানো। মধ্য আর দক্ষিণ আফ্রিকার উন্ননশীল কোম্পানিগুলোর জন্য ঋণ সরবরাহ করি।”
চিন্তার ঝড় বইছে ইসাবেলার মাথায়। কোর্টনি এন্টারপ্রাইজের টপ লেভেলে মার্চেন্ট ব্যাংকারের জন্য নিশ্চয়ই একটা জায়গা তৈরি হয়ে যাবে। সবকিছুই বেশ চমৎকারভাবে এগোচ্ছে।
“তোমার দুর্গটা দেখার চেয়ে দুনিয়াতে আর কোনো জরুরি কাজ নেই আমার, রামোন ডালিং।” ফিসফিস করে জানিয়েই মনে হলো : একটা দুর্গের কতটা দাম হতে পারে, গ্যারি’কে অনায়াসে এর কথা বলা যাবে। কোর্টনি এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান আর ফিনান্সিয়াল হেড হল গ্যারি। পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যদের চেয়ে ইসাবেলা’র সবচেয়ে কাছের এই ভাই।
“আর তোমার বাবা? আমি তো জানি যে তুমি সোমবারে ফেরার কথা প্রতিজ্ঞা করে এসেছ।” জানতে চাইল রামোন।
“বাবা’কে মানানোর ভার আমার উপর ছেড়ে দাও।” দৃঢ় স্বরে জানাল ইসাবেলা।
***
“বেলা, এটা কোনো সময় হলো কাউকে ঘুম থেকে জাগানোর?” টেলিফোনে বলে উঠলেন শাসা। “কয়টা বাজে বল তো?”
“ছয়টার বেশি বাজে, আমি এরই মাঝে সাঁতার কেটে এসেছি আর তুমি মোটেও বুড়ো হয়ে যাওনি, ড্যাডি। আমার দেখা সবচেয়ে তরুণ আর সুদর্শন পুরুষ হচ্ছ তুমি।” ইন্টারন্যাশনাল লাইনে বাবার সাথে আহলাদী করল বেলা।
“আমার তো ভয় হচ্ছে রে।” বিড়বিড় করে উঠলেন শাসা। “প্রশংসা যত বেশি আবদারও তত ভয়ংকর। কী চাস রে বেটি? এবারে কোন মতলব?”
“তুমি আসলেই খালি দোষ খুঁজে বেড়াও, বাবা।” রামোনের বুকের পশম নিয়ে খেলতে খেলতে উত্তর দিল বেলা। ডাবল বেডে ঘর্মাক্ত দেহে নিরাভরণ হয়ে শুয়ে আছে ছেলেটা। “আমি তো শুধু এটুকু জানাতে চাইলাম যে আই লাভ ইউ পাপা।”
মুখ টিপে হাসছেন শাসা। “কতটা দায়িত্বশীল এই ছোট্ট ইন্দুরটা। ভালই শিক্ষা দিয়েছি।” বালিশে হেলান দিয়ে পাশে শুয়ে থাকা নারীর কাঁধে তুলে দিলেন মুক্ত হাতখানা। ঘুমের মাঝেই কাছে সরে এলো নারীদেহ। মুখ ঘসল শাসার বুকে।
“হ্যারিয়েট কেমন আছে?” স্পেনে ইসাবেলার অভিসারকে কাভার দিতে রাজি হয়েছে হ্যারিয়েট বু-চ্যাম্প।
“ও ভালো আছে।” আশ্বস্ত করল বেলা। “এই তো এখানেই আছে। চমৎকার সময় কাটছে আমাদের।”
“ওকে আমার ভালোবাসা দিও।” জানালেন শাসা।
“ওহ, ঠিক আছে।” মাউথপিসে হাত দিয়ে ঝুঁকে রামোনকে কিস করে বেলা জানাল, ‘আজ সকালের লন্ডনের প্লেন ধরতে চাইছে না ও।”
“আহ! তো এবারে এলো আসল কথা।”
“আমি না ড্যাডি, হ্যারিয়েট ও গ্রানাডাতে যেতে চায়। বুলফাইটে আমাকেও নিতে চাইছে।” আস্তে করে চুপ হয়ে গেল বেলা।
“বুধবারে তুমি আর আমি প্যারিস যাব, ভুলে গেছ? ক্লাব ডিমানছে’তে আমার বৃক্ততা আছে।”
“ড্যাডি, তুমি এত চমৎকারভাবে কথা বলো! ফ্রেঞ্চ লেডিসরা’ও যথেষ্ট সমাদর করে, আমি নিশ্চিত আমাকে তোমার দরকারই হবে না।”
খানিক কোনো কথা বললেন না শাসা। মাউথপিসে হাত রেখে বুকের কাছে গুটিসুটি মেরে পড়ে থাকা নারীর কাছে জানতে চাইলেন,
“কিটি, বুধবারে প্যারিস যেতে পারবে।”
চোখ খুলে উত্তরে জানাল, “তুমি তো জানো আমি শনিবারেও এইউ কনফারেন্সের জন্য ইথিওপিয়া যাচ্ছি।”
“ততদিনে আমরা চলে আসব।”
কনুই এর উপর র দিয়ে উঠে চিন্তার ভঙ্গিতে শাসার দিকে তাকিয়ে সঙ্গিনী জানাল, “ঠিক আছে শয়তান, তাই হবে।”
“ড্যাডি, তুমি শুনছ?” দুজনের মাঝে ছেদ টানল বেলা।
“তো আমার নিজের দেহ আর মাংস আমাকে ছেড়ে যেতে চাইছে, তাই না?” আহত হয়েছেন এমন স্বরে জানালেন শাসা। “দুনিয়ার সবচেয়ে রোমান্টিক শহরে একাই যেতে হবে।”
“আমি তো হ্যারিয়েটকেও মানা করতে পারি না।” ব্যাখ্যা দিল বেলা। “তুমিই তাহলে বলল কী করব?”
“মনে রেখো। ইয়াং লেডি। ভবিষ্যতে এই অকৃতজ্ঞতা মনে রেখো।”
“মনে হচ্ছে গ্রানাডাটা ভয়ংকর বোরিং হবে। তোমাকে মিস্ করব পাপা।” রামোনের পেটে, বুকে, পেটের নিচে আঙুল নিয়ে খেলা করতে করতে বলে উঠল বেলা। যেন নিজের কাজ নিয়ে সে বেশ অনুতপ্ত।
“আর তোমাকে ছাড়া আমারও ভাল লাগবে না, বেলা।” একমত হলেন শাসা। ক্রেডলে টেলিফোন সেট রেখেই কিটিকে আলতো করে ঠেলে দিলেন বালিশের উপর। “এবারে উপরে উঠে এসো শয়তান।” ঘুম জড়ানো স্বরে জানাল শাসার সঙ্গিনী।
***
রামোনের পরিচিত যে কোনো পুরুষেরই ন্যায় দ্রুত আর দক্ষ হাতে গাড়ি চালাচ্ছে ইসাবেলা। ভাড়া করা মার্সিডিজের চামড়ায় মোড়া বাঁকানো আসনে বসে খোলাখুলিভাবেই তাই পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে মেয়েটাকে।
বছরের পর বছর ধরে পূর্ণ করা অ্যাসাইনমেন্টগুলোর মতো করে এবারেও নিজের অংশ পালন করতে রামোন’কে খুব বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে না। এর পাশাপাশি আবার মেয়েটার ভেতরের শক্তি, অসম্ভব সাহস আর অখণ্ড প্রত্যয় দেখে উৎসাহ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ।
বুঝতে পেরেছে অসন্তুষ্ট আর অপূর্ণতা বোধে ভুগতে থাকা চঞ্চল মেয়েটা খুঁজে ফিরছে এমন কোনো চ্যালেঞ্জ, এমন কিছু একটা যার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা যায়।
শারীরিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়াতে মেয়েটার প্রতি মিথ্যে আগ্রহ দেখাতে রামোন’কে কোনো বেগ পেতে হয়নি। তাই ইসাবেলার দিকে যখনই তাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ হয়ে যায়। তার দৃষ্টির আকুলতা বোঝে মেয়েটা। সাপের শীতল সবুজ দৃষ্টি দেখে যেন মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে বন্য পাখি। এছাড়া ফাইলেও পড়েছে, অন্য পুরুষদের সাথে আগেও থেকেছে ইসাবেলা। কিন্তু গত কয়েকদিনে বুঝতে পেরেছে অন্তঃস্থলে মেয়েটার গভীর সত্তা এখনো অনাঘ্রাতা কুমারীরই ন্যায় আর অদ্ভুত এই সীমানায় পৌঁছাতে তাই ব্যাকুল রামোন।
