এরপরই জানালার বাইরে শনে’র অতিপ্রিয় কণ্ঠস্বর শুনতে পেল বেলা, অন্ধকারে বোনে’র নাম ধরে ডাকছে : “বেলা, কোথায় তুমি?”
জানালার কাছে নড়ে উঠল রামোনের দেহ। গ্রেনেডের আলোয় নিশানা ঠিক করল রামোন। দেখতে পেয়েই চিৎকার করে উঠল বেলা : “লুক আউট, শন! ম্যান উইদ আ গান!”
দু’বার গুলি করল রামোন। কিন্তু জানালার কাছ থেকে কোনো প্রতি উত্তর এলো না। বেলা বুঝতে পারল শন্ বেলা আর নিকি’র কথা ভেবে গুলি করার সাহস পাচ্ছে না।
বিছানা থেকে গড়িয়ে নেমেই মেঝেতে হামাগুড়ি দিতে লাগল বেলা। কোনো কিছু না ভেবেই কেবল দরজার দিকে যাচ্ছে। ওকে নিকি’র কাছে পৌঁছাতেই হবে।
মাঝপথেই টের পেল গলা’র উপর পিছন থেকে চেপে বসেছে রামোনের হাত। জোর করে দাঁড় করিয়ে দিল বেলা’কে। সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠল বেলা : “শন! ও আমাকে ধরে ফেলেছে।”
“কুত্তী” কানের কাছে হিসহিস করে উঠল রামোন, “আমার সাথে চালাকি!” আর তারপরেই গলা উঁচিয়ে শনকে শোনাল, “আমি ওকে মেরে ফেলব! গুলি করে মাথা উড়িয়ে দেব!”
টানতে টানতে বেলা’কে নিয়ে জোর করে সিঁড়ির উপর বসিয়ে দিল রামোন, “আগে বাড়, শয়তানি” হাঁটতে থাক। আমি জানি শন কে। তোকে শিল্ড হিসেবে ধরলেও গুলি করবে না। মুভ!” রামোন গলা টিপে ধরাতে নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হল। কিন্তু বেলা অসহায়। রামোন ওকে ধরে নিকি’র ঘরের দিকে দৌড়াচ্ছে। কমুনিকেশন রুমে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। রাতের আকাশে টাওয়ারের মতো উঁচু হয়ে গেল খড়ের ছাউনির শিখা।
দৌড়ে গিয়ে নিকির ঘরে ঢুকতেই দেখা গেল মেঝেতে মাঝখানে বসে আছে আদ্রা আর নিকি। নিজের শরীর দিয়ে নিকি’কে ঢেকে রেখেছে আদ্রা।
“পাদ্রে!” ভয়ে আর্তচিৎকার শুরু করল নিকি।
“আদ্রা’র সাথে এসো।” খেঁকিয়ে উঠল রামোন।” ওর কাছেই থাকবে, আমার পিছু পিছু এসো।”
দল বেঁধে ঘর থেকে বের হয়ে কারপার্কের কাছে গেল রামোন। পিছন থেকে বেলা’কে ধরে রেখেছে রামোন আর মুক্ত হাত দিয়ে মাথায় ঠেকিয়ে রেখেছে পিস্তল। “আমি ওর খুলি উড়িয়ে দেব” নাচতে থাকা তাল গাছের ছায়ার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল রামোন, “সুতরাং দূরেই থাকো।”
“প্লিজ পাদ্রে, মাম্মা’কে মেরো না” ফুঁপিয়ে উঠল নিকি। “চুপ, একদম চুপ!” আবারও খেঁকিয়ে উঠল রামোন। এরপর বলে উঠল, “তোমার কুত্তাগুলোকে ডেকে পাঠাও শন, যদি বোন আর বোনপো’কে মারতে না চাও।”
মুহূর্তখানেক পর অন্ধকার থেকে শোনা গেল শ’নের কণ্ঠস্বর : “হোল্ড ইউর ফায়ার স্কাউটস! ব্যাক অফ স্কাউটস।”
সবাইকে হটিয়ে জিপের কাছে নিয়ে গেল রামোননিঃশ্বাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে বেলা। কানের কাছে পিস্তলের নল এত ঠেসে বসে গেছে যে নরম চামড়া কেটে গলা অব্ধি রক্ত গড়িয়ে পড়ল।
“প্লিজ। আমি ব্যথা পাচ্ছি’ হাঁপাতে হাঁপাতে কোনো রকমে বলল বেলা।
“মামাকে মেরো না” চিৎকার করেই আদ্রা’র হাত ছাড়িয়ে দৌড় দিল নিকি ইসাবেলা’র পাশে চলে আসতেই এক মুহূর্তের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল আদ্রা।
পেছনের অন্ধকারে জ্বলে উঠল হলুদ আলোর ফুল। বিশ গজ খোলা জায়গা পেরিয়ে ছুটে এলো একটামাত্র বুলেট।
উড়ে গেল আদ্রা’র মাথার একপাশ। দু’হাত ছড়িয়ে পেছন দিকে পড়ে গেল আদ্রা।
“আদ্রা!” চিৎকার করে উঠল নিকি। কিন্তু ও দৌড় দেয়ার আগেই নিকি’রকোমর ধরে ফেলল রামোন।
“না, আদ্রা থাকুক। এখন আমার কাছাকাছি থাকো নিকি।”
ওদের তিনজন ব্যতীত আশেপাশে জীবিত আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। জ্বলন্ত দালানের দেয়ালে কাত হয়ে পড়ে আছে এক কিউবান নারী সিগন্যালারের মৃতদেহ; কম্পাউন্ডের গেইটে শুয়ে আছে দু’জন প্যারাট্রুপার।
যদি কোন প্যারাট্রুপার এখনো বেঁচে থাকে সেই আশাতে স্প্যানিশে অর্ডার দিল রামোন; কিন্তু জানে এর সম্ভবনা নেই বললেই চলে। আক্রমণকারীদের সামর্থ্যও ভালোই জানা আছে। ইসাবেলা’র মুখে শোনার সাথে সাথেই ওর ভাইয়ের নাম চিনতে পেরেছে রামোন। স্কাউটদেরকে চিৎকার করে আদেশ দেয়ার সময় শনে’র গলা শুনে আরো নিশ্চিত হয়েছে। এতক্ষণে প্যারাট্রুপাররা নিশ্চয় সব শেষ হয়ে গেছে। সম্ভবত আক্রমণের শুরুতেই প্রাণ হারিয়েছে সকলে।
এরা যে কুখ্যাত ব্যালান্টাইন স্কাউটস্ এতে কোনো সন্দেহই নেই; কিন্তু রামোন অবাক হলো এই ভেবে যে এখানে তারা এলো কেমন করে। শুধু এটুকু বুঝতে পারছে যে কোনো না কোনোভাবে বেলাই তাদেরকে ডেকে এনেছে। ছায়ার পেছনেই লুকিয়ে আছে স্কাউটেরা, রামোন জানে সামান্যতম সুযোগ পেলেই আদ্রার মতো দ্রুত আর নির্ভুল একটা বুলেট পাঠিয়ে মেরে ফেলবে তাকে।
তাই তার একমাত্র ভরসা হলো সময়। জানে রালেই তাবাকা গুলির আওয়াজ শুনতে পেলেই এয়ারফিল্ড থেকে রিলীফ গেরিলা সৈন্য নিয়ে রওনা দিয়ে দেবে। কয়েক মিনিটের মাঝেই পৌঁছে যাবে এখানে। সবচেয়ে কাছেই পার্ক করে রাখা তিনটা জিপের কাছে চলল রামোন।
একে এমের সাইটস দিয়ে ওদেরকে দেখছে শন। একটা তাল গাছের নিচে শুয়ে আছে এখন। এই রেঞ্জ থেকে চল্লিশ গজ দূরে কারো খুলিতে দুই ইঞ্চি গর্ত করে দেয়া কোনো ব্যাপারই না অ্যাসল্ট রাইফেলের কাছে। আদ্রার নাক বরাবর নিশানা করে বাম কানে গুলি করেছে। খুলির একপাশ তছনছ করে দিয়ে গেছে শনে’র বুলেট।
কিন্তু রামোন মাচাদোর ক্ষেত্রে এমন নিশ্চিন্তে কিছু করার উপায় নেই। বক্সারের মতো মাথা নিচু করে বেলা আর নিকির আড়ালে হাঁটছে রামোন। তাই ঠিকমতো ওর মাথাই দেখতে পাচ্ছে না শন।
