নিকি’কে বিছানায় তুলে দিতে এসে ছেলে’র গালে চুমো খেল বেলা। মুহূর্তখানেক শক্ত করে মাকে জড়িয়ে ধরে রাখল নিকি।
“তুমি আবারো চলে যাবে, মাম্মা?”
“যদি সম্ভব হয় তুমি আসবে আমার সাথে?” পাল্টা প্রশ্ন করল বেলা।
“পাদ্রে আর আদ্রা’কে ছেড়ে?” গভীর ভাবনায় মগ্ন হয়ে গেল নিকি এবারেই প্রথম রামোনের কথা বেলা’কে বলল নিকি বেলা নিজেও চিন্তায় পড়ে গেল। ছেলেটার গলার স্বরে কি ভয় নাকি শ্রদ্ধা নিশ্চিত হতে পারল না বেলা।
তাড়াহুড়া করে শুধু বলল : “নিকি আজ রাতে-যদি কিছু হয় তুমি ভয় পেওনা, ঠিক আছে?”
“কী হবে?” আগ্রহ নিয়ে উঠে বসল নিকি
“জানি না। হয়ত কিছুই না।” নিরুৎসাহিত হয়ে আবার বালিশের উপর শুয়ে পড়ল নিকি।
“গুড নাইট, নিকি।”
ঘরগুলোর মাঝখানের অন্ধকারে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে ছিল আদ্রা। এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল বেলা।
‘আদ্রা।” ফিসফিস করে বলে উঠল, “আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই, আজ রাতে…” শেষ করতে পারল না বেলা।
“আজ রাতে?” আদ্রা বেলা’কে তাড়া দিলেও কোনো কথা না শোনায় বলে উঠল : হ্যাঁ, আজ রাতে উনি আসবেন। উনি জানিয়েছেন যেন আপনি অপেক্ষা করেন। আগে আসতে না পারলেও আজ রাতে অবশ্যই আসবেন।”
হঠাৎ করেই তীব্র আতঙ্কে হেঁয়ে গেল মন। “ওহ গড় তুমি নিশ্চিত?” এরপরই সামলে নিল নিজেকে-”যাক ভালই হলো, আমি অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম।
আদ্রা’কে রেসকিউ অপারেশনের বিষয়ে সাবধান করার সমস্ত চিন্তা মাথা থেকে দূর হয়ে গেল। মনের মাঝে কেবল একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে-কেমন করে রামোনের মুখোমুখি হবে?
“আমাকে এখন যেতে হবে” আবারো অন্ধকারের মাঝে হারিয়ে গেল আদ্রা। বেলা ভেবেছিল নাইটড্রেসের নিচে জিন্স আর জার্সি পরে তৈরি হয়ে বসে থাকবে। কিন্তু এখন আর তার উপায় নেই। নগ্ন আতঙ্কে প্রায় জমে যাবার দশা।
অন্ধকারে মশারির ভেতরে শুয়ে অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে মনে হলো, না রামোনের আগে হয়ত শন চলে আসবে; নতুবা তোর এসে বাঁচাবে ও’কে।
হঠাৎ করেই বুঝতে পারল এসে গেছে রামোন। রামোনের কথা শোনার আগেই ওর দেহের ঘ্রাণ পেল বেলা। শক্ত হয়ে গেল শরীরের সব মাংস পেশি। মনে হলো দম বন্ধ হয়ে যাবে বুঝি।
কুঁড়েঘরের মেঝেতে শুনতে পেল রামোনের পদশব্দ আর তারপরই বিছানাতে ওর স্পর্শ।
“রামোন” ফুস করে বেরিয়ে গেল বুকের সব বাতাস।
“হ্যাঁ, আমি।” রামোনের গলা শুনে যেন প্রচণ্ড ঠাক্কা খেল বেলা।
মশারি তুলছে রামোন। শক্ত হয়ে পড়ে রইল বেলা। মুখে রামোনের হাতের ছোঁয়া পেতেই মনে হলো গলা ছেড়ে চিৎকার দিয়ে উঠে। বুঝতে পারছে না কী বলবে, কী করবে। “ও জেনে যাবে” বেলা বুঝতে পারলেও বড় বেশি ভয় পাচ্ছে। তাই নড়াচড়া কিংবা কথা বলার সাহস পেল না।
“বেলা?” কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছে রামোন। এস্ত পায়ে হঠাৎ করেই উঠে বসে ওকে জড়িয়ে ধরল বেলা।
“কথা বলো না” তীব্র স্বরে জানাল বেলা, “আমি আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে পারব না-আমাকে আদর করো, রামোন।”
জানে ও অস্বাভাবিক কিছু করছে না। অতীতের সুখের দিনগুলোতে প্রায়ই রামোনের কাছে এমন আবদার জুড়ে দিত বেলা-একটুও দেরি সহ্য করতে পারত না।
উঠে বসে রামোনের বুকে কান্না শুরু করে দিল বেলা। ও যেন কোনো কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগ না পায়। এমন ভাব করতে হবে যেন কিছুই বদলায়নি।
ভয়ে বুক কাঁপতে থাকলেও কিছুই বুঝতে দিল না বেলা। রামোন ওর নাইট ড্রেস খুলে নিয়ে নিজেও নিরাভরণ দেহে শুয়ে পড়ল বেলার পাশে।
“বেলা, ফিসফিস করে উঠল রামোন, “আমিও কতদিন ধরে তোমার প্রতীক্ষা করছি।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেহের খেলায় মেতে উঠল বেলা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই নিষ্ঠুর জানোয়ারটার সাথেও রতিক্রিয়া তেমন খারাপ লাগল না। আর সবশেষে নিজের উপরই ঘেন্যা হতে লাগল। মনে হলো রামোনের দেহের ভার আর তার নিজের অপরাধবোধ মিলে এখন গলা টিপে বেলা’কে মেরে ফেলবে।
“আগে তো আর কখনো এমন হয়নি” ফিসফিস করে জানাল রামোন, “আগে তো কখনো এমন করে ভালবাসনি।”
উত্তর দেবার সাহস করল না বেলা। ভয় হলো না জানি কী বেরিয়ে আসে মুখ ফসকে। বুঝতে পারল কতটা উন্মাদ হয়ে গেছে-তারপরও শর মতো সাড়া দিল রামোনের স্পর্শ পেয়ে।
বেলা’র পাশে শুয়ে নরম স্বরে কথা বলছে রামোন। জানালো ও বেলাকে কতটা ভালবাসে। বলল ভবিষ্যতের কথা; যখন ওরা তিনজন মিলে চলে যাবে কোনো নিরাপদ আর গোপন জায়গায়। এত সুন্দর করে মিথ্যে বলে রামোন; একের পর এক কল্পনা ভেসে বেড়াল বেলা’র চোখে। জানে এগুলোর এক বর্ণও সত্যি নয়। তারপরেও কেন জানি মন চাইল বিশ্বাস করতে
অবশেষে বেলা’র নগ্ন বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল রামোন। ওর কোকড়ানো চুলে হাত বোলাতে বোলাতে নিজের জন্য দুঃখই করল বেলা। এতটাই হতাশায় ডুবে গেল যে ভুলে গেল বাকি সবকিছু। আর তখনই হঠাৎ করে নারী কণ্ঠের চিৎকারে খান খান হয়ে গেল রাতের নিস্তব্ধতা।
জেগে গেল রামোন। আর সাথে সাথেই উলঙ্গ দেহে ঠিক একটা জংলী বিড়ালের মতই লাফ দিয়ে নামল বিছানা থেকে। বিছানার পাশের মেঝে থেকে হোলস্টার খুলে পিস্তল বের করল রামোন। ধাতব একটা ক্লিক শব্দ শুনতে পেল বেলা। বিস্ফোরণের আলোতে রাতের আকাশ যেন জ্বলছে। জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে আসা আলোতে রামোনের দিকে তাকাল বেলা। চোখ বরাবর পিস্তল ধরে আকাশের দিকে তাক করে রেখেছে রামোন; যে কোনো মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
