তবে বোনের নগ্ন দেহ দেখে যারপর নাই বিরক্ত। জানে স্কাউটেরাও তাকিয়ে আছে। যুদ্ধের এই জাড়াডোলের ভেতরও রামোন মাচাদো বেলাকে নিজের উলঙ্গ শরীরের সাথে এমনভাবে লেপ্টে ধরে আছে যে দেখে মাথায় রক্ত চড়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই গুলি করে বসে। একটা শট নিতে চাইলেও বেলা’র কাঁধে মাথা লুকিয়ে জিপে চড়ে বসল রামোন।
কোন মতে ড্রাইভারের সিটে বসেই বেলা আর নিকি’কে টেনে নিল পাশে। গর্জে উঠল ইঞ্জিন, গেইটের কাছে ছুটতেই পেছনের হুইল থেকে ছিটকে উঠল বালির ফোয়ারা। ফায়ার করল শন। কাছাকাছি থাকা পেছনের হুইলের নিকে। লাগল গুলি। ব্যারিয়ার গেইটের কাছে গিয়ে দুলে উঠল জিপ। ধাক্কা লাগাতে উঠে গেল একটা পোল। দুমড়ে মুছড়ে গেল গেইট। ভাঙ্গা আর্বজনা নিয়েও রাস্তায় নেমে এলো জিপ। পেছনে ভাঙ্গা পোল আর তারের বেড়া সান্টার স্নেই গাড়ির মতো ঝুলছে।
লাফ দিয়ে উঠে দ্বিতীয় জিপের দিকে ছুটল শন্। স্কাউটদের চারজনও একইভাবে দৌড়ে এসে গাদাগাদি করে উঠে বসতেই ইঞ্জিন চালু করল শন। বৃত্তাকারে ঘুরে গিয়েই ছুটল ভাঙ্গা গেইটের দিকে। রামোন আর তার বন্দিদের পিছু নিল।
যদি ইসাবেলা’র স্কেচ ম্যাপ সত্যি হয় তাহলে নদী বরাবর এই রাস্তাটা চলে গেছে এয়ারস্ট্রিপের দিকে; সেখানে রোড় ব্লক বসিয়েছে ইসাউ গনডেল।
রাস্তা দিয়ে ধেয়ে আসা যে কোনো গাড়িকে উড়িয়ে দেবে ইসাউ; সেটা যেদিক থেকেই আসুক না কেন। একটা আর পিজি রকেট ইসাবেলা আর তার ছেলেকে মাংসের তাল বানিয়ে ছাড়বে।
হর্ণের গায়ে হাতের তাল চেপে ধরল শন্। আশা করল এত দীর্ঘ হর্ণ শুনে ইসাউ হয়ত বুঝতে পেরে রকেট ছোঁড়া বন্ধ রাখবে। কিন্তু এতটা আশা করতেও ভয় হচ্ছে। গাঁজা খেয়ে শরীর গরম করে আসা স্কাউটদের হাতগুলো নিশপিশ করছে ট্রিগারের উপর।
তাই রামোনদেরকে ওভারটেক করতে হবে। হঠাৎ করেই পথটা ডান দিকে ঘুরে যাওয়ায় গতি ধীর করল শন্।
মোড়ে ঘুরে যেতেই বদলে গেল বাতাসের গতি। একপাশে সরে গেল বালি। মাত্র পঞ্চাশ গজ সামনে দেখা গেল রামোনের জিপের আলো।
সামনের সিটে বসে একহাতে গাড়ি চালাচ্ছে রামোন। অন্য হাত দিয়ে বাঁকিয়ে ধরে রেখেছে বেলা’র কাঁধ। ঘাড়ের সাথে ঝুলছে বেলা’র মাথা। এলোমেলো চুলগুলো বাতাসে উড়ছে; চোখ ঠিকরে বের হচ্ছে তীব্র ভয়। চিৎকার করে কিছু একটা বললেও বাতাসের তোড়ে কিছুই শুনতে পেল না রামোন।
ইসাবেলা’র সিট আঁকড়ে ধরে পিছনে বসে আছে নিকি। পরনে সাদা টি-শার্ট আর শটস্। চোখ ঘুরিয়ে বারবার পিছনের জিপের দিকে তাকানোতে মায়ের সাথে ছেলেটার চেহারার এত মিল দেখে অবাক হয়ে গেল শন্। ওদেরকে বিপদে ফেলেছে। যে লোকটা তাকে হাতের কাছে পাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল।
এরপরই খেয়াল করল যা একপাশে কেমন যেন কাৎ হয়ে পড়ছে রামোনের জিপ। পেছনের টায়ার ফুটো করে দিয়েছে ওর গুলি। সাথে করে নিয়ে আসা ভাঙ্গা গেইটের অংশ আর বেড়া থাকায় পথের ধুলা আর বালিতে গতি হয়ে পড়ল আরো ধীর।
দ্রুত ওদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে শন। এবারে সৈকত থেকে দূরে সরে গেছে রাস্তা। ছুটছে খাড়া নদী তীর ধরে। দ্রুতগামী দুটো গাড়ির আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে স্থির কালো পানি।
কাঁধের উপর দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে মাত্র তিন ফুট দূরে থাকা জিপটাকে দেখল রামোন। সাথে সাথে আবার মাথা নামিয়ে বেলা’কে ছেড়ে দিল। কোলের কাছে থাকা পিস্তল ছোঁ মেরে তুলে শ’নের মাথায় নিশানা করল। রেঞ্জ বারো ফুটেরও কম। কিন্তু এবড়ো খেবড়ো রাস্তাতে দুটো জিপে-ই সমানে ঝুঁকি দিচ্ছে। উইন্ডস্ক্রিনের সাইড পোস্টে লেগে অন্ধকারে হারিয়ে গেল বুলেট।
পাল্টা গুলি করার জন্য রাইফেল তাক করল একজন স্কাউট; কিন্তু ব্যারেল আকাশে তুলে দিল শন।
“হোল্ড ইউর ফায়ার” চিৎকার করে আদেশ দিয়েই ছুটল রামোনের পিছু পিছু।
শনের জিপের গুতো খেতেই দুলে উঠল রামোনের জিপ। শূন্যে পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে পিছনের সিটে গিয়ে বাড়ি খেল নিকি।
“জ্যাম্প” ইসাবেলার উদ্দেশ্যে চিৎকার করে উঠল শন। কিন্তু বেলা নড়ে উঠার আগেই আবার ওকে ধরে ফেলল রামোন।
আবার এসে রামোনের জিপের পিছনে ধাক্কা দিল শন। টেইল গেইট চুড়মাড় হয়ে যাওয়ায় রাস্তা থেকে খানিক সরে এলো রামোনের জিপ।
এক হাত দিয়ে জিপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রামোন। পেছনদিক পুরোপুরি ঝুলছে। ধুলার মেঘ এসে মনে হল শন’কে অন্ধ করে দিবে। ওদিকে সমানে চিৎকার করে যাচ্ছে বেলা আর পেছনের সিটে উবু হয়ে বসে আছে নিকি। আতঙ্কে সাদা হয়ে গেছে চেহারা।
আরেকটা মোড় এসে পড়াতে গাড়ির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা শুরু করল রামোন। শন দেখল এইই সুযোগ; নিজের গাড়ি নিয়ে রামোনের পাশেই চলে এলো। সেকেন্ড খানেকের জন্য পাশাপাশি ছুটল দুটো গাড়ি।
ছয় ফুট দূরত্বে পরস্পরের দিকে তাকাল রামোন মাচাদো আর শ কোর্টনি। বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো ঝলকে উঠল একে অন্যের প্রতি তীব্র ঘৃণা। এটা এমন এক আদিম অনুভূতি যে প্রতাপশালী দু’জন পুরুষই উপলব্ধি করল যে অপরজনকে মেরে ফেলতে হবে।
হুইলের উপর চাপ দিয়ে বাম দিকে রামোনের জিপের গায়ে নিজের গাড়ি উঠিয়ে দিল শন। একইভাবে পিছিয়ে এসে শন’কে আঘাত করল রামোন। তাল গাছের গুঁড়িতে লাগায় উঠে গেছে রামোনের জিপের পেইন্টওয়াক।
