“ভালোই কাজ দেখিয়েছে বাছা” ককশ শব্দে বলে উঠলেন শাসা। হাসতে চেষ্টা করলেন কিন্তু চোখের পট্টি ঢিলে হয়ে কানের নিচে ঝুলছে। কাঁপা কাঁপা পট্টি আঙুলে আবার জায়গামতো বসিয়ে দিলেন শাসা।”কাম অন, নেভিগেটর” মিটিমিটি হাসলেও গ্যারি নিজেও ভয় পেয়েছিল। “একটা কোর্স তো বলো।”
“নতুন কোর্স ২৬০ ডিগ্রী।
“কী অবস্থা বেটির?”
“বাতাসের মতই।” নতুন হেডিংয়ে ঘুরে গেল গ্যারি। আটলান্টিকের উপর দিয়ে তীর বেগে উড়তে লাগল লিয়ার।
“লেন” সিটে বসেই ঘুরে গিয়ে কেবিনের দিকে তাকালেন শাসা, টেকনিশিয়ানদের পান্ডুর চেহারা থেকে এখনো পুরোপুরি কাটেনি ভয়। “মিগগুলোর কী খবর, কিছু জানো নাকি?”
পেঁচার মতো চোখে তাকিয়ে রইল লেন; বুঝতে পারছে না বেঁচে আছে না কি?”
“আরে হলো টা কি তোমার?” শাসা’র ধমক খেয়ে তাড়াতাড়ি কন্ট্রোল প্যানেলেনের উপর উপুর হয়ে পড়ল লেন।
“হ্যাঁ, এখনো কনট্যাক্ট পাওয়া যাচ্ছে। মিগ লিডার টার্গেট ডেস্ট্রয়েডের রিপোর্ট করছে। ফুয়েল শর্টেজের কারণে ঘটিতে ফিরে যাচ্ছে।”
“বিদায় ফিদেল। থ্যাংস লর্ড।” বিড়বিড় করল গ্যারি। লিয়ারকে নিচেই রাখল যেন তীর থেকে কোনো রাডার সহজে খুঁজে না পায়। “ল্যান্সার কোথায়?”
“নিশ্চয় ঠিক সামনে।” মাইক্রোফোনে বুড়ো আঙুল চেপে ধরলেন শাসা।
“ডোনাল্ড ডাক, ম্যাজিক ড্রাগন বলছি।”
“গো এহেড, ড্রাগন।”
“চিকাম্বা। আবারো বলছি চিকাম্বা। ডু ইউ কপি দ্যাট? ওভার।”
“রজার, চিকাম্বা। আবারো বলছি চিকাম্বা। কোনো সমস্যা হয়েছিল নাকি? দক্ষিণ পূর্বে পম পম এয়ার ট্রাফিকের শব্দ শুনেছি। “ওভার।”
“তেমন কিছু না। সানডে স্কুল পিকনিক। এবারে তোমার পালা। যাও ডিজনি ল্যান্ড ঘুরে এসো। ওভার।”
“উই আর অন আওয়ার ওয়ে, ড্রাগন।”
“পা ভেঙে দিও, ডাক। ওভার অ্যান্ড আউট।”
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে পাঁচটায় লিয়ার নিয়ে উইন্ডহক এয়ারপোর্টে নামল গ্যারি। সিঁড়ির পাদদেশে এসে গোল করে দাঁড়ালো পুরো দল। এখনো কাটেনি। হতভম্ব ভাব। কাছের ইঞ্জিনটার দিকে এগিয়ে গেল গ্যারি।
“বাবা, এসে একটা জিনিস দেখে যাও।” শাসা’কে ডাকল গ্যারি।
টার্বো ফ্যান ইঞ্জিনের গায়ে অদ্ভুত আর অচেনা একটা ধাতব জিনিসের দিকে তাকিয়ে দেখলেন শাসা। তীরের মতো দেখতে লম্বা টিউবটার রং হলুদ।
“এটা আবার কী?” জানতে চাইলেন শাসা।
“এটা হলো” শাসার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে লেন, “একটা সোভিয়েত অ্যাটোল মিসাইল যেটা বিস্ফোরিত হতে পারে নি।”
“ওয়েল গ্যারি” বিড়বিড় করলেন শাসা, “ফিদেল একেবারে আহাম্মক নয়, কী বলো।”
“রাশান কারিগররা দীর্ঘজীবী হোক।” হেসে উঠল গ্যারি, “কিন্তু বাবা, একটু আগে ভাগে হয়ে গেলেও এক গ্লাস শ্যাম্পেন খাবে নাকি?”
‘তা আর বলতে।” জানালেন শাসা।
***
চিকাম্বা নদী” কাঁধে কাধ ঠেকিয়ে চার্ট টেবিলের উপর ঝুঁকে আছে শন আর ইসাউ গনডেলে।
“এই তো এখানে।”
বিশেষতৃবিহীন ছোট্ট একটা লাইনের উপর আঙুল রাখল শন, “কাটাকানহার ঠিক দক্ষিণে।” ট্রলার স্কিপারের দিকে চোখ তুলে তাকাল। ভ্যান দার বার্গা’কে দেখাচ্ছে ঠিক সুমো কুস্তিগীরদের মত; এতটাই ভারি আর চওড়া শরীর।
“চিকাম্বা সম্পর্কে কী জানো ভ্যান?” জানতে চাইল শন। “এতটা কাছে কখনো যাইনি।” কাঁধ ঝাঁকাল ভ্যান। কিন্তু আপনি যতটা কাছে চান। নিয়ে যাবো।”
“শৈলশিরা থেকে মাইলখানেক দূর হলেই চলবে।”
“তাই হবে” প্রমিজ করল ভ্যান। “
“কখন?” জানতে চাইল ভ্যান। “কালকের ভেতরে দিগন্তের নিচ পর্যন্ত গেলেই ভালো। তারপর রাত নামলে ভেতরে নিয়ে যাবে। ০২০০ আওয়ার।”
স্কাউটদের জন্য রাত দুটো হলো সবচেয়ে আদর্শ সময়। ঠিক এসময়ে শত্রু তার মানসিক আর শারীরিক শক্তির সর্বনিম্ন সীমানায় থাকে।
রাত একটায় ল্যান্সারের মেসে ক্রুদেরকে ফাইনাল ব্রিফিং করল শন। সবাইকে পৃথক পৃথকভাবে চেক করে দেখল। সকলেরই পরনে জেলেদের নেভি ব্লু জার্সি জিন্স আর কালো ক্যানভাসের বাবার সোল কমব্যাট বুটস্। মাথায় কালো উলের টুপি আর ক্যামো ক্রিম কিংবা নিজস্ব রঙের প্রভাবে সকলেরই চেহারা আর হাত দুটো একেবারে কুচকুচে কালো।
ইউনিফর্ম বলতে দক্ষিণ অ্যাংগোলাতে বন্দি কিউবানদের কাছ থেকে পাওয়া বেল্ট ঝুলছে সকলের কোমরে। অস্ত্র হিসেবে প্রত্যেকের কাছে আছে সোভিয়েট একে এম অ্যাসল্ট রাইফেলস, তোকারেভ পিস্তল আর বুলগেরিয়ান এম ৭৫ অ্যান্টি-প্যার্সোনেল গ্রেডেন। ইসাউ গনডেলের সেকশনের তিনজনের কাছে থাকবে আর পি জি ৭ অ্যান্টি ব্যাঙ্ক রকেট লঞ্চার। দক্ষিণ আফ্রিকানদের সহযোগিতা পাবার ক্ষেত্রে একটা চুক্তি হলো কিছুতেই যেন তাদেরকে চিহ্নিত না করা যায়।
এবারে একজন একজন করে টেবিলের উপর রেখে গেল সমস্ত ব্যক্তিগত অলংকার আর ব্যবহার্য জিনিস। যেমন আংটি, ওয়ালেট। প্রত্যেকের জিনিস আলাদাভাবে খামে পুরে সবাইকে একটা করে ডিজিটাল রিস্টওয়াচ দিল ইসাউ গনড়ে।
এরই ফাঁকে ব্রিজ থেকে ইন্টারকমে খবর দিল ট্রলার ক্যাম্পের : “আমরা নদীমুখে থেকে সাত নটিক্যাল মাইল দূরে আছি। পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে বালুচর সময়ের চেয়ে কয়েক মিনিট আগেই পজিশনে পৌঁছে যাব।”
“গুড অন্ ইউ।” জানাল শন। এরপরই তাকাল কালো কালো মুখগুলোর দিকে। “ভেরি ওয়েল জেন্টলম্যান। জানো আমরা কিসের পেছনে ছুটছি। শুধু ব্যস্ততার ভেতরে কারো গলা কাটার সময়ে মেয়েটা আর বাচ্চাটার দিকে খেয়াল রাখবে। ও আমার বোন।” মুহূর্তখানেক সময় দিল সবার মনে কথাটা গেঁথে নেয়ার জন্য।
