“এতে তাদের মন গলেনি মিঃ কোর্টনি। “মিলিটারি ফ্রিকোয়েন্সি ধরতে পেরে সতর্ক করে দিল লেন। “সারিমো এয়ারফিল্ড থেকে মিগ আসছে আমাদেরকে ধরতে।”
“চিকাম্বা পার হতে কতক্ষণ বাকি আছে?” জানাতে চাইল গ্যারি।
“চৌদ্দ মিনিট।” সাথে সাথে উত্তর দিলেন শাসা।
“ওয়েল ঈশ্বর, ঈশ্বর!” হেসে ফেলল গ্যারি। তার মানে মিগ ও ঠিক সামনে থেকেই আসছে। বেশ মজাই হবে কী বলো।”
রুপালি চাঁদের আলোয় ভেসে দক্ষিণে উড়ে চলল লিয়ার।
“মিঃ কোর্টনি, আমার মনে হয় মিগ আমাদেরকে ওদের অ্যাটক রাডারে পেয়ে গেছে।”
“থ্যাঙ্ক ইউ, লেন। আর এক মিনিট ত্রিশ সেকেন্ড গেলেই চিকাম্বা নদী।”
“মিঃ কোর্টনি” আতঙ্কিত লেনে’র গলা কাঁপছে, “মিগ লিড়ার টার্গেট কনফার্ম করছে। আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে স্যার।”
“আমার মনে হয় তুমি বলেছিলে যে ওরা আমাদেরকে দেখতেই পারবে না” নরম স্বরে গ্যারিকে জানালেন শাসা। “আমি ভেবেছিলাম আমরা বোধহয় ওদের অপারেশন্যাল রেঞ্জের বাইরে থাকব।”
“হেল, ড্যাড। বাদ দাও। যে কেউই তো ভুল করতে পারে।”
“মিঃ কোর্টনি” ভয়ে লেনে’র আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার জোগাড়। “খানিকটা দুর্বল হলেও টার্গেট সিগন্যাল পাচ্ছি সামনে। ছয় কি.মি দূর।”
“তুমি নিশ্চিত লেন?”
“এটা আমাদের ট্রান্সপন্ডার, কোনো ভুল নেই!”
“তার মানে চিকাম্বা নদী মুখ। বেলা এখন চিকাষা তে!” চিৎকার করে উঠলেন শাসা। “চলো গ্যারি, এবার এই নরক থেকে বেরোও।”
“মিঃ কোর্টনি মিগ উইপনস্ ফ্রি হয়ে গেছে। অ্যাটাক করতে আসছে।”
“হোল্ড অন্” ঘোষণা করল গ্যারি, “গ্রাব ইউর হ্যাটস!”
লিয়ার নিয়ে ডাইভ দিল গ্যারি।
“তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?’ কো-পাইলটের সিটু আঁকড়ে ধরে চিৎকার করে উঠলেন শাসা, “এখনি নাক ঘুরিয়ে সমুদ্রের দিকে যাও।”
“এক মাইলও যেতে পারব না, তার আগেই খতম করে দেবে।”
“ক্রাইস্ট গ্যারি। লিয়ারের পাখা খসে যাবে।”
এয়ারস্পিড ইনডিকেটর দ্রুত উপরে উঠে “নেভার এক্সিড” ব্যারিয়ার ছুল।
“কোনটা চাও বেছে নাও বাবা। লিয়ারের পাখা ভাঙ্গবে নাকি মিগের তো খাবে?”
“মিঃ কোর্টনি মিগ লিডার মিসাইল লক করার রিপোর্ট দিচ্ছে।” আতঙ্কে প্রায় উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে লেন।
“কী করবে গ্যারি?” গ্যারি’র হাত ধরলেন শাসা।
“আমি ওখানে যাবো।” থান্ডারস্টার্মের পাহাড়টাকে ইশারা করল গ্যারি। “মেঘের ভেতরে বাতাস অনেক জোরে বইছে। ঝড়ের ঠিক মাঝখানে গজরাচ্ছে বিদ্যুতের ঝলকানি।
“ইউ আর ক্রেজি” ফিসফিস করে উঠলেন শাসা।
“এর ভেতরে কোন মিগ আমাদেরকে ধরতে আসবে না।” জানাল গ্যারি। “চারপাশের এত এনার্জি আর ইলেকট্রিকাল ডিসচার্জের ভেতরে কোনো মিসাইল পাত্তা পাবে না।”
“মিঃ কোর্টনি মিগ লিডার একটা মিসাইল ছুঁড়েছে-আর আরেকটা। দুটো মিসাইল একসাথে আসছে…”
“প্রে ফর আস, সিনারস।” লিয়ার নিয়ে যেন মৃত্যুর মাঝে ঝাঁপ দিল গ্যারি। “আমারও তাই মনে হচ্ছে।” শাসার কথা শুনেই কিনা কে জানে কিছু একটা এসে লিয়ারকে ধাক্কা দিল। ঝড়ের মুখে ঢুকে গেল লিয়ার।
সাথে সাথে মুছে গেল সমস্ত দৃশ্য। চারপাশে কেবল তুলোর বলের মতো ধূসর রঙা মেঘ। সেফটি হার্নেসের ভেতরেও ঝাঁকি খাচ্ছে সকলে। লিয়ার নিয়ে যেন খেলছে কোনো হিংস্র পশু।
মরা পাতার মতই বাতাসে ঘুরপাক খাচ্ছে লিয়ার। কন্ট্রোল প্যানেলের ইনস্ট্রমেন্টগুলো আপনা থেকেই ঘুরছে।
***
শূন্যে পড়ে ইয়ো-ইয়ো করছে অলটিমিটারের কাটা। হঠাৎ করেই লিয়ারের উচ্চতা নেমে গেল মাত্র দুই হাজার ফুট।
বজ্রপাতে এয়ারক্রাফটের ধাতব শরীরে নাচছে নীল আলোর শিখা, যেন লিয়ারে আগুন ধরে হেছে। ঝড়ের প্রচণ্ড শক্তি মনে হচ্ছে টেনে ছিঁড়ে ফেলবে লিয়ার।
অসহায়ের মতো বসে আছে গ্যারি। জানে নিজের জান বাঁচাতে লড়ছে লিয়ার। হালকা করে স্পর্শ করে রেখেছে কন্ট্রোল হুইল। যেন ভালবাসা দিয়ে উৎসাহিত করতে চাইছে তার প্রিয় লিয়ার’কে আর চেষ্টা করছে নাকটা যাতে কোনভাবে সোজা রাখা যায়।
“এই তো ডার্লিং, হিম্মত রাখো। ইউ ক্যান ডু ইট” ফিসফিস করে লিয়ারকে শোনাল গ্যারি।
নিজের আসনের হাতল চেপে ধরে অলটিমিটারের দিকে তাকিয়ে আছেন শাসা। পনের হাজার ফুট নেমে গেছেন; তার পরেও থামছে না পতন। আর কোন ইলুট্রমেন্ট কোনো কাজ করছে না।
একদৃষ্টে অলটিমিটার দেখছেন শাসা। দশ হাজার সাত, চার হাজার। এখনো বাড়ছে ঝড়ের শক্তি। সমানে আগু পিছু করছে সবার মাথা; ভয় হচ্ছে স্পাইন্যাল কর্ড না ভেঙে যায়। সোল্ডার স্ট্রাপ গেঁথে বসাতে ব্যথা করছে মাংস।
এরই মাঝে ফিউজিলাজের সাথে লেগে কিছু একটা ভেঙে যাবার শব্দ হলো। সেদিকে না তাকিয়ে অলটিমিটারের ফোকাস করলেন শাসা।
দুই হাজার ফুট, এক হাজার জিরো। নিশ্চয় তারা মাটিতে নেমে গেছে; কিন্তু বায়ুমণ্ডলের প্রচণ্ড পবির্তনের ফলে ঝড়ের মুখে রিডিং কোনো কাজ করছে না।
হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে গেল লিয়ার। থেমে গেল ঝড়। রাডার আর স্টিকে চাপ দিল গ্যারি। সাড়া দিল লিয়ার। মেঘের পেট থেকে বের হয়ে এলো এয়ার-ক্রাফট।
অভূতপূর্ব এই পরিবর্তন। ঝড়ের কোনো শব্দই নেই আর; কেবল জেট প্লেনের মৃদু গুঞ্জন, ককপিট ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলোয় দেখে অবাক হয়ে গেলেন শাসা। কিছুতেই যেন বিশ্বাস হচ্ছে না।
সমুদ্রের ঠিক উপরে মাছের মতো ভাসছে লিয়ার। আর মাত্র শখানেক ফুট নিচে নামলেই এতক্ষণে পৌঁছে যেতেন সবুজ আটলান্টিকের অতল তলে।
