সৈকতের কম্পাউন্ডে পৌঁছাতেই স্পিডোমিটারের দিকে তাকাল বেলা। এয়ারস্ট্রিপ থেকে সৈকত মাত্র ৩.৬ কি.মি-যা ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক কাছে। মনে মনে শঙ্কিত হয়ে উঠল যে রেসকিউ অপারেশনটা কতটা বিপদজনক হতে যাচ্ছে। শ’নের ভাবনার চেয়েও দ্রুত পৌঁছে যাবে রিইনফোর্সমেন্ট।
গার্ড হাউজে লাগেজ নিয়ে গেল জোসে। আগের বারের দেখা দুই নারীই এবারো আছে। তবে তাদের অভিব্যক্তি আগের চেয়ে বেশ সহজ।
“আমি তোমাদের জন্য গিফট এনেছি। সুগন্ধের কথা না ভেবে সাইজ দেখেই মেয়ে দুটোর জন্য দুইটা পারফিউমের বোতল এনেছে বেলা। আনন্দের চোটে একে অন্যের গায়ে এমন স্প্রে করা শুরু করল যে রুমের বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়াই কষ্ট হয়ে পড়ল। বেশ কয়েক মিনিট পার করে তারপর বেলা’র লাগেজ সার্চ করতে আসল কেজিবি’র দুই নারী।
এবার ক্যামেরা নিয়ে কেউ কিছু বলল না; যদিও কসমেটিকস্ নিয়ে বেশ ঘাটাঘাটি করল। নিজের লিপস্টিক ট্রাই করে দিল বেলা। মেয়েরা তো যার পরনাই খুশি। ঠোঁটে লাগিয়ে আবার বেলা’র কম্প্যাক্টের আয়নায় চেক করে নিল। মনে হল যেন বহুদিনের পুরোন বান্ধবীরা আজ একত্রিত হয়েছে।
নিকোলাসের গিফট বক্স চেক করতে তাই তাদের তেমন আর আগ্রহ দেখা গেল না। সকার বল তুলে নিয়ে একজন শুধু বলল,
“আহ, পেলে এটা বেশ পছন্দ করবে।” পাম্পে হাত দিতেই বেলার বুক ধুকপুক করে উঠল।
“বলের জন্য।” বুঝিয়ে দিল।
“বুঝতে পেরেছি। বাতাস ভরার জন্য, তাই তো।” খানিক বার কয়েক চাপ দিয়ে আবার বক্সে রেখে দিল পাম্প।
‘“আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য দুঃখিত সিনোরা। আমরা কেবল আমাদের ডিউটি পালন করছি।”
“অফ কোর্স। কোন সমস্যা নাই, আমি বুঝতে পেরেছি।” একমত হলো বেলা।
“আপনি দু’সপ্তাহ থাকবেন। ভালই হলো। আপনি আসবেন শুনে পেলে তো বেশ উত্তেজিত। ও খুব ভালো ছেলে। সবাই ওকে বেশ পছন্দ করে। ওকে নিয়ে গর্ব করে।”
ঘর পর্যন্ত বেলা’র লাগেজ বয়ে আনতে সাহায্য করল মেয়েটা। গতবারেও এই ঘরেই ছিল বেলা।
এরই মাঝে সুইমিং ট্যাঙ্ক পরে বিছানার উপর বসে আছে নিকোলাস।
“কাম। মাম্মা। চলো সাঁতার কেটে আসি।”
ভোদরের মতো সাঁতার কাটছে নিকি; ওর সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বেলা’র জান বের হয়ে গেল।
সন্ধ্যায় মাতা-পুত্র দুজন একসাথে বসার পর গিফট বক্স খুলল বেলা। সকার বলটা বেশি পছন্দ করলেও মায়ের আনা বই আর কাপড়-চোপড় দেখেও খুশি হল নিকি। সনি ক্যাসেট প্লেয়ার আর মিউজিক ক্যাসেটও নিয়ে এসেছে বেলা।
“রক এন রোল করতে পারো?” জানতে চাইল বেলা। প্লেয়ারে বাজিয়ে দিল জনি হ্যাঁলিডে।
আদ্রা এসে ডিনারে ডাকার আগ পর্যন্ত বাদিং স্যুট পরেই খুব নাচল মা আর ছেলে। আদ্রা বরাবরের মতই চুপচাপ থাকলেও পাত্তা দিল না বেলা। নিকি’কে শোনাবে বলে একগাদা হাতির জোকস শিখে এসেছে।
নিকি’কে একটা শোনানোর পর ছেলে মাকে পাল্টা একটা জোকস বলল। জোসের কাছ থেকে শিখেছে। শুনে তো বেলা’র ভিরমি খাবার জোগাড়। “তুমি জানো এর মানে কী?” ভয়ে ভয়ে জানতে চাইল বেলা। “অফকোর্স। স্কুলে বড় একটা মেয়ে আমাকে দেখিয়েছে।” সোজা সাপ্টা উত্তর দিল নিকি। এ নিয়ে আর কথা না বাড়ানোই সমীচিন, ভাবল বেলা।
নিকি ঘুমোতে যাবার পর আদ্রা’র কাছে ফিসফিসিয়ে জানতে চাইল বেলা : “রামোন কোথায়, দ্য মারকুইস? এখানে আছে?”
উত্তর দেবার আগে খুব সাবধানে চারপাশ দেখে নিল আদ্রা, “না। তবে শীঘিই আসবে। মনে হয় আগামী কাল কিংবা তার পরের দিন। তবে বলেছেন যে, আসবেন। এও জানিয়েছেন যে আপনাকে অনেক ভালোবাসেন।
নিজের ঘরে একাকী শুয়ে বেলা বুঝতে পারল যে রামোনের সাথে দেখা। হবে ভাবতেই কতটা ভয় লাগছে। কারণ এখন জানে ও’কে সহজভাবে আচরণ করতে পারবে কিনা সেটা নিয়েও চিন্তা হচ্ছে। কিন্তু রামোন যদি একবার ওর পরিবর্তন টের পায় তাহলে নির্ঘাৎ নিকি’কে সরিয়ে বেলা’কে বন্দি করে ফেলবে।
“প্লিজ গড, রামোনোর আগে যেন শন এসে পড়ে। শন না আসা পর্যন্ত ও’কে দূরেই রাখো।” সে রাতে আর ঘুমোতেই পারল না বেলা। মনে হলো এই বুঝি চলে আসে রামোন।
পরের দুটি দিনও আগের মতই সাঁতার কেটে মাছ ধরে আর সৈকতে টুয়েন্টি সিক্সের সাথে খেলা করে কাটিয়ে দিল নিকি আর বেলা। কুকুর ছানাটা এখন নিক্রির সাথে এক বিছানাতেই ঘুমায়। কিন্তু মানা করতে পারে না বেলা।
সোমবার রাতে, নিকোলাস বিছানায় ঘুমাতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে; এমন সময় স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই উঠে গিয়ে শেঙ্ক থেকে বাইসাইকেল পাম্পটা তুলে নিল বেলা। হ্যাঁন্ডেল ঘোরাতেই ট্রান্সপন্ডার অন হবার হালকা একটা ক্লিক শুনতে পেল। আবার আগের জায়গায় রেখে দিল পাম্প। কেপ টাউন থেকে আনা পিপারমিন্ট টুথপেস্টের গন্ধ ছড়িয়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে এলো নিকি।
বিছানার উপর মশারি ঠিক করতে গেল বেলা। হঠাৎ করে উঠে বসে দু’হাত দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরল নিকি। “আই লাভ ইউ মাম্মা।” লাজুক স্বরে। ফিসফিস করল নিকোলাস। ছেলের গালে কিস্ করল বেলা।
স্নেহের ভারে উদ্বেল হয়ে উঠল হৃদয়। কিন্তু নিজের আচরণে নিকি নিজেই এত লজ্জা পেয়ে গেল যে তাড়াতাড়ি অন্যদিকে ফিরে গলা অব্দি চাদর টেনে নাক ডাকার ভান করল।
“স্লিপ ওয়েল, নিকি।
আই লাভ ইউ টু-উইদ অল মাই হার্ট।” ফিসফিসিয়ে উত্তর দিল বেলা।
