দেখতে পেল দু’পাশে দু’জন দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাভাল কমান্ডো নিয়ে সিগারেট শেয়ার করে খাচ্ছে ইসাউ। কথা শুনতে শুনতে সিগারেটটা ঘুরছে তিনজনের হাতে। “কোথায় গেল বর্ণবাদ?” মনে মনে হেসে ফেলল শন।
“যদি কোনো সমস্যা থাকে তবে তা নেমে আসবে এই রাস্তা দিয়ে এয়ারস্ট্রিপের কাছের টেরোরিস্ট ক্যাম্প থেকে। এই যে এখানে আর এখানে। সাপোর্ট ইউনিটের নেতৃত্ব দেবে সার্জেন্ট মেজর গনডেল। বোড় ব্লকস তৈরি করে খেয়াল রাখবে যেন কোনো শালা এপাশে না আসতে পারে। প্রথম গুলির আওয়াজ পাবার পর ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরই মাঝে আমরা বন্দিদেরকে নিয়ে চলে আসব। এরপর তোমরাও পিছিয়ে দ্রুত পায়ে আরজে করে ল্যান্সারে চলে আসবে। বেশ সহজ ব্যাপার; কিন্তু খুব দ্রুত করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক সেকেন্ডও থাকা যাবে না। কিন্তু পথিমধ্যে যদি এক দুটাকে খতম করে দিতে হয় কেউ কিছু বলবে না। এবারে ডিটেইলে আলোচনা শেষ করে আগামীকাল পানির মাঝে বোট লঞ্চিং আর রিকোভারী প্র্যাকটিস হবে। প্রতিদিন এটা প্রাকটিস করতে হবে, সাথে উইপনস্ ড্রিল আর ইকুপমেন্ট চেস। তের তারিখ মঙ্গলবার রাতে সৈকতে নামছি; সুতরাং তারিখটাকে মনের মাঝে গেঁথে নাও।”
***
প্রচণ্ড বৃষ্টির মাঝে কিনশাসা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করল কর্মাশিয়াল ফ্লাইট। প্লেন থেকে নেমে এয়ারপোর্টের বাসে উঠার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই ভিজে একশা হয়ে গেল বেলা।
কাস্টমস আর ইমিগ্রেশন ব্যারিয়ার থেকে বের হতেই দেখল সাধারণ খাকি ফ্লাইং ওভারঅল পরে দাঁড়িয়ে এক সুদর্শন তরুণ পাইলট। স্প্যানিশে বেলা’কে সম্বোধন করে উঠতেই কিউবান টান টের পেল বেলা। এয়ারপোর্টের মেইন বিল্ডিং থেকে ট্যাক্সিতে করে প্রাইভেট আর চাটার্ড সেকশনে আসতে আসতেই থেমে গেল বৃষ্টি সারা পৃথ ওর সাথে ফ্লার্ট করল তরুণ পাইলট। পুরো আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলেও বেশি ভ্যাপসা গরম হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। এরই মাঝে ছোট্ট একটা সিংগল ইঞ্জিন এয়ারক্রাফটের ব্যাক কম্পার্টমেন্টে বেলা’র লাগেজ তুলে ফেলল পাইলট।
“এই আবহাওয়াতেই আমরা রওনা হবো?” জানতে চাইল বেলা, “কোনো বিপদ হবে না তো?”
“আহ্, সিনেরা, মারা গেলেও আমার হাতের উপর আপনার মৃত্যু হবে কতটা রোমান্টিক হবে, না?”
প্লেন আকাশে উঠতেই বেলা’র উরুতে হাত দিল পাইলট।
“হুইলের উপর হাত রাখো। সামনের রাস্তার দিকে চোখ দাও।” পাইলটের হাত সরিয়ে দিল বেলা। লোকটা এমন ভাবে দাঁত বের করে হেসে ফেলল যেন কোনো রাজ্য জয় করে ফেলেছে।
বেশিক্ষণ অবশ্য রাগ করে থাকতে পারল না বেলা। যতই সামনে এগুচ্ছে নিশ্চিত হচ্ছে যে গতবারের জায়গাতেই আছে নিকি।
দু’ঘণ্টা পরে উপকূল রেখা দেখে নিজ আসনে সিধে হয়ে বসল বেলা। চিনতে পেরেছে নদী মুখ। লাল কাদা মাটির স্ট্রিপে ল্যান্ড করতে যাচ্ছে এয়ারক্রাফট।
নিকি, মনে মনে ভাবল বেলা, শীঘ্রিই আমরা আবার মুক্ত হয়ে যাব।
ট্র্যাক্সিং এর সময়ে জিপের সামনের সিটে ছেলেকে দেখতে পেল বেলা। না হলেও আরো দুইঞ্চি লম্বা হয়ে গেছে। চুলও বেশ বেড়ে গেছে কিন্তু চোখ দুটো ঠিক আগের মতই আছে। এতদূর থেকেও স্পষ্ট দেখা গেল সবুজাভ চোখের দ্যুতি। বেলা’কে উইন্ডস্ক্রিনের পেছনে দেখার সাথে সাথে মাথার উপর দুহাত তুলে নাড়তে শুরু করল নিকি। চমৎকার মুখখানায় ছড়িয়ে পড়ল হাসি।
জিপে নিকি’র সাথে কিউবান প্যারাট্রুপার আর ড্রাইভার জোসে’ও আছে। নিকি’র মতই হাসছে দু’জন।
লাফ দিয়ে জিপ থেকে নেমে দৌড়ে মায়ের কাছে এলো নিকি। এক মুহূর্তের জন্য বেলা’র মনে হলো হয়তো মায়ের বুকে ঝাঁপ দিয়ে পড়বে ছেলেটা; কিন্তু না নিজেকে সামলে হাত এগিয়ে দিল নিকি।
“ওয়েলকাম মাম্মা” মনে হচ্ছে আবেগে দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে বেলা, “তোমাকে দেখে ভাল লাগছে।”
“হ্যালো নিকি” কেঁপে উঠল বেলা’র গলা, “তুমি তো বেশ লম্বা হয়ে গেছ; আমি তো চিনতেই পারিনি। পাক্কা একটা পুরুষ।”
ঠিক কথাটাই বলেছে মা। বেল্টের মাঝে বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে ড্রাইভার আর জোসের দিকে তাকাল নিকি, “এসো আমার মায়ের লাগেজ নিয়ে যাও।”
“এক্ষুণি যাচ্ছি, জেনারেল পেলে। কপট ভঙ্গিতে স্যালুট দিয়ে ইসাবেলার দিকে তাকাল জোসে, “গ্রিটিংস সিনোরা আমরা সবাই আগ্রহ নিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।”
আমি সবার ফেবারিট আন্টি হয়ে গেছি; মনে মনে হাসল বেলা।
নিজের বিশাল লটবহর থেকে ড্রাইভার আর জোসে’কে মার্লবোরো সিগারেটের দুইশ প্যাকেটের একেকটা কার্টন দিল আর যায় কোথায়। বেলার সুখ্যাতি বেড়ে গেল কয়েকশ গুণ।
গাড়ি চালাতে চালাতে খুশি মনে গল্প করে চলল নিকি। বেলাও আগ্রহ নিয়ে শুনল লাস্ট মিটিঙের পর থেকে নিকি’র করা যত কেচ্ছা কাহিনী; কিন্তু একই সাথে খুব সাবধানে চোখ বোলালো চারপাশে, যা আগে কখনো করেনি। বুঝতে পারল শ’নের জন্য যে স্কেচ ম্যাপ দিয়ে এসেছে সেখানে কত ভুল হয়েছে। ট্রেনিং এর ঘাটিটাও আগের চেয়ে বড় হয়ে গেছে। না হলেও কয়েক হাজার সৈন্য আছে এখানে; একই সাথে চোখে পড়ল ক্যামোফ্লেজ নেটের নিচে থাকা আর্টিলারী ভেহিকেল। লং ব্যারেল্ড অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান মনে হলো। পার্ক করা কিছু ট্রাকের উপরে ডিশ অ্যান্টেনার মতো রাডারও দেখা যাচ্ছে। ওহ, খোদা লিয়ার নিয়েই তো আসবে বাবা আর গ্যারি। এসব পরিবর্তনের ব্যাপারে ওদের সর্তক করার কোনো উপায় নেই।
