“মা, তুমি কী বলতে চাইছ…” শেষ করতে পারলেন না শাসা।
“মাই গড চিন্তা করতে পারছ এত বছর ধরে ও তাহলে কতটা তথ্য পাচার করেছে? সিনেটর আর আমার অ্যাসিস্টান্ট হিসেবে আমর্সকোরের বেশির ভাগ সেনসিটিভ প্রজেক্ট ফাইলই ওর ডেস্ক ঘুরে এসেছে।”
“ক্যাপরিকর্নের সিনডেক্স প্রজেক্ট” মাথা নাড়লেন সেনটেইন। “মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ও টেস্টও দেখেছে। এখন ওকে কেন নিকোলাসের কাছে যেতে দেয়া হলো? তোমার কী মনে হয়, কোনো স্পেশাল ইনফর্মেশন দিয়েছে নিশ্চয়?”
দীর্ঘ সময় ধরে চুপচাপ বসে রইলেন শাসা আর সেনটেইন। অবশেষে স্তব্ধ শাসা জানতে চাইলেন, “কোথায় রইল তাহলে পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ততা আর দেশের প্রতি দেশপ্রেম?
“আমার মনে হয় শীঘ্রিই তুমি আর আমি এ প্রশ্নের মুখোমুখি হবো” দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সেনটেইন, “তবে আগের কাজ আগে সামলানো যাক।”
***
ওয়ালবিস বে’তে কোর্টনি ক্যানিং ফ্যাক্টরির পাশেই হসপিটাল জেটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে ল্যান্সার। ল্যান্সার ২৫০ ফুট লম্বা একটা ট্রলার হলেও লাইন আধুনিক ক্রুশ লাইনারের মত। যে কোনো মহাসাগরে তীর বেগে ছুটতে পারে ল্যান্সার। মাছ ধরার কাজে মাসের পর মাস সমূদ্রে কাটাতে হলেও ফিরে আসে আবার একই গতি আর ছন্দ নিয়ে।
জেটিতে দাঁড়িয়ে ল্যান্সারের দিকে তাকাল শন্। উজ্জ্বল হলুদ পেইন্টওয়াকটা তেমন ভাল লাগছে না। বড্ড বেশি চোখে পড়ছে। কিন্তু ল্যান্ডিং উঠানো নামানোর পক্ষে ল্যান্সারের স্টার্ন একেবারে যুৎসই হওয়াতে রঙ নিয়ে আর মাথা ঘামাল না শন্।
ট্রলারের রেইল ধরে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা স্কাউটেরা তাকে দেখেই কোরাম গেয়ে উঠল, “হোয়াই ওয়াজ হি বর্ন সো বিউটিফুল?”
আঙুল তুলে শাসাল শন; হতচ্ছাড়াগুলো একটুও শ্রদ্ধা দেখায় না! গ্যাংওয়ে ধরে উঠে গেল উপরে। সকলে মিলে ভিড় করে এলো শনের সাথে হাত মেলাবার জন্য; বোঝাই যাচ্ছে যে ওরা বেশ খুশি হয়েছে। কারণ দিনের পর দিন বসে থাকতে থাকতে একেবারে বোর হয়ে গেছে হাইলি ট্রেইনড় এসব যোদ্ধা।
সকলেরই-পরনে ট্রলারের নাবিকদের মতই রঙচটা ধূসর জিন্স। উলের জার্সি আর আটসাট পশমি টুপি।
ম্যাটাবেলে গোত্রের রক্তবহনকারী সার্জেন্ট মেজর ইসাড গনডেলে এর আগেও বহু বিপদজনক যুদ্ধে শনের সঙ্গী হয়েছিল। এবারে তাই বস’কে দেখে স্যালুট করল সাথে দাঁত বের করা হাসি।
“এখন তো তোমার শরীরে ইউনিফর্ম নেই ইসাউ, টেক ইট ইজি, ব্রাদার।” হাত ঝাঁকিয়ে জানাল শন!
শনে’র বাছাইকৃত বিশ জনের স্কাউটের বারোজনই ম্যাটাবেলে, বাকিরা তরুণ শ্বেতাঙ্গ রোডেশীয়।
স্কাউটদের মাঝে দেহতৃক নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। ইসাউ একবার শন’কে বলেছিল : বর্ণবাদ ঘোচাবার উপায় হলো কারো গুলির মুখে পড়া। ম্যান তখন এটা কোনো ব্যাপারই না যে কোন শালা তোমাকে বাঁচাতে এসেছে। কালো কিংবা ধলা যেই হোক না কেন ফটাস করে তাকে একটা কিস দিতে তোমার কোন সমস্যাই হবে না।”
শ’নের একমাত্র দুশ্চিন্তা হলো ফোলানো ল্যান্ডিং বোটগুলো হ্যাঁন্ডেল করতে সিমন্সটাউন থেকে আসা ন্যাভাল কমান্ডোরা। এরাও সকলেই তরুণ আফ্রিকান। হয়ত এরকম বহু গোত্রীয় দলে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়ে যাবে।
“রক স্পাইডারদের সাথে কেমন দিন কাটছে?” আফ্রিকান একটা স্ল্যাং বলে উঠল শন।
“তাদের কেউ কেউ এরই মাঝে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেলেও এদের কারো সাথেই আমি আমার বোন বিয়ে দেব না।” মিটি মিটি হাসছে ইউ। “না, সিরিয়াসলি শন নিজেদের কাজ ওরা ভালই জানে। আমি বলেছি’ও যে আমাকে বাসি (Bassic) ডাকার দরকারই নেই; তা শুনে ওরা হাসে।”
“ওকে, সার্জেন্ট মেজর। রাত নামলেই আমরা বন্দর ত্যাগ করব। এখানকার কেউ হয়ত আমাদেরকে খেয়াল করছে না; তারপরও কোনো চান্স নিতে চাই না। পাল তোলার আগে তুমি আর আমি সব ইকুপমেন্ট চেক করে নেব; তারপর সমুদ্রে ভেসে যাবার পর ছেলেদেরকে সব জানাব।”
মেঝের টেবিল আর বাঙ্কে একসাথে জড়ো হয়েছে সব স্কাউটস আর কমান্ডোদের দল। বোট প্রেট্রোলিঙে সিদ্ধহস্ত শনের স্কাউটেরা আগেও লেক কারিবার পরিবর্তনশীল পানিতে ঘুরে বেরিয়েছে। কিন্তু এদের মাঝে মাতাতু নেই। তাই অপারেশনটা কেমন যেন একটু আজব ঠেকছে। পিচ্ছি নোভজারোবো মাতাতু শনের গুডলাক চার্ম। মনে হলো সেন্ট ক্রিস্টোফারকে ছাড়াই ভ্রমণে বেরিয়েছে। জোর করে চিন্তাটা মাথা থেকে তাড়িয়ে দিল শন। তাকালো ভিড়ের দিকে।
বাল্কহেডের মাথায় লাগানো ম্যাপ ইশারা করল শন, “সবাই দেখতে পাচ্ছ?”
সমস্বরে হা শোনা গেল।
“আমরা এদিকে যাচ্ছি” মানচিত্রে গন্তব্য দেখাল শন্। “আর মিশনটা হচ্ছে দু’জন বন্দিকে উদ্ধার করা একজন নারী আর এক শিশু।”
কপট অসন্তুষ্টির চিৎকার শুনে হাসল শন।
“ইটস ওকে। ভয় পেও না। ওখানে অনেক মজা হবে। চারপাশে হট গানস পাবে জেন্টেলম্যান আর এটা ওপেন সিজন।”
আনন্দে হুল্লোড় করে উঠল সকলে। চিৎকার থামার জন্য অপেক্ষা করে শন আবার শুরু করল।
“এটা হচ্ছে টার্গেট এরিয়ার স্কেচ ম্যাপ। জায়গাটা বেশ রাফ হলেও বুঝতেই পারছ কী আছে সামনে। আশা করছি বন্দিদেরকে এই কম্পাউন্ডে আটকে রাখা হয়েছে। সম্ভবত এই কুঁড়েঘরে। রেসকিউ পার্টি আমি লিড করব। তিনটা বোট নিয়ে আমরা সৈকতে নেমে পড়ব; ঠিক আছে।”
