“দাঁড়াও গ্যারি, এক মিনিট” বলে উঠলেন শাসা, “এটা কি সত্যিই কাজ করবে?”
“মাত্র কয়েকদিনের মাঝেই অসাধারণ কাজ দেখিয়েছে কোর্টনি ক্যুটিকেশনের ছেলেরা।” ব্রিফ কেস খুলল গ্যারি, “এই যে!”
“বাইসাইকেল পাম্প?” অবাক হয়ে গেলেন শাসা।
“সবাই জানি নিকি একজন সকার স্টার। বেলা’র কাছে নতুন বল চেয়েছে আর এও জানিয়েছে যে পুরোন বলটাকে শুধু পাম্প করতে হয়। তাই বলের সাথে পাম্প দেখলে কেউ কিছু সন্দেহ করবে না। কয়েকবার চাপ দিতেই হিস হিস করে বাতাস বেরোল পাম্পের মুখ দিয়।
“পাম্পের হ্যান্ডেলের ভেতরে ট্রান্সপন্ডারটা বসানো হয়েছে। ব্যাটারি লাইফ ত্রিশ দিন। হ্যাঁন্ডেলটাকে একটু মোচড় দিলেই অ্যাকটিভেট হয়ে যাবে।” সবাইকে কারসাজিটা দেখাল গ্যারি। তবে একটাই সমস্যা। হ্যান্ডেলের মতো ছোট জায়গায় বসানোতে সিগন্যালের পাওয়ার কমে গেছে। বারো কি.মি-এর ও কম সিগন্যাল রেঞ্জ। লিয়ারের সেন্সিটিভ অ্যান্টেনা নিয়েও এর বেশি কিছু করা যায় নি। তাই বারো কি.মি কাছাকাছি যেতে হবে। যেন সিগন্যাল ধরতে সমস্যা না হয়।”
“উত্তরের কিউবান ফাইটারদের কী অবস্থা? উদ্বিগ্নমুখে জানতে জানতে চাইলেন শাসা।
“সাউথ আফ্রিকান গোয়েন্দাদের মতে সবচেয়ে কাছের বেস্ হলো সোরিমো। উপকূর দিয়ে তাই দ্রুত ঘুরে আসতে হবে। বেলা’র সিগন্যাল পেলেই নাক ঘুরিয়ে সমুদ্রের দিকে চলে আসব। খুব ভালোভাবে হিসাব করে দেখেছি; যদি অ্যাংগোলান এয়ারস্পেসে আমাকে পেয়ে কিউবান রাডার সোরিমো থেকে মিগ পাঠিয়ে দেয়, তারপরেও আমার ফিরে আসতে কোনো সমস্যা হবে না।”
“কিন্তু এস এ এম?” এখনো দ্বিধায় ভুগছেন শাসা।
“ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট অনুযায়ী কিউবান এসএএম রেজিমেন্টের আস্তানা এখন দক্ষিণে।”
“যদি ওদের রিপোর্ট ভুল হয়?”
“কাম অন বাবা শন আমার চেয়েও বেশি রিস্ক নিচ্ছে।”
“শনের কাজই এটা। আর তাছাড়া ওর তো তোমার মতো বউ আর এক পাল ছেলে-পেলে নেই।”
“আমরা কি নিকি’কে ফেরত আনতে চাই-নাকি? বাবা’র দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়াল গ্যারি।
“অল রাইট, কোথায় যেন ছিলাম? হ্যাঁ, বেলার সিগন্যাল পেলাম; ঘুরে গিয়েই সাথে সাথে কঙ্গো নদী মুখে থাকা ল্যান্সারকে রেডিওতে জানিয়ে দিব। ওদেরকে ঘাঁটির নির্দিষ্ট অবস্থানটা বলে দিয়েই ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে।”
“আমার মনে হয়” নির্লিপ্ত স্বরে ঘোষণা করলেন শাসা,
“তোমার সাথে আমিও যাচ্ছি গ্যারি!”
“কাম অন, বাবা। তুমি সেই কবে যুদ্ধ ছেড়েছ। বয়সের কথাটাও ভাবো।”
“তোমাকে তো আমিই উড়তে শিখিয়েছি, মাই বয় আর সপ্তাহের যে কোনো দিন তোমার চারপাশে ঘুরে আসা এখনো আমার জন্য কোনো ব্যাপারই না।”
সাপোর্টের আশায় নানা’র দিকে তাকাল গ্যারি। কিন্তু পাথরের মতো মুখ করে বসে আছেন দাদি। বাতাসে হাত ছুঁড়ে তাই হেসে ফেলল গ্যারি।
“ফ্লাইটে, স্বাগতম স্কিপার।”
***
“গুড বাই, নানা, শক্ত করে দাদীকে জড়িয়ে ধরল-”বেলা, “আমাদের জন্যে প্রার্থনা করো।”
“তুমি শুধু আমার প্রপৌত্রকে নিয়ে এসো সোনা। দু’জনে মিলে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে।”
বাবা’র দিকে তাকাল বেলা, “আই লাভ ইউ ড্যাডি।”
“আমি যতটা ভালোবাসি ততটা নয়।”
“আমি এত বোকা। আরো আগেই আমার তোমার কাছে আসা উচিত ছিল।” ঢাক গিলল বেলা, “আমি অনেক ভয়ংকর সব কাজ করেছি, ড্যাডি। এখনো যা তোমাকে জানাইনি। জানি না শুনলে তুমি আমাকে মাফ করবে কিনা।”
“ইউ আর মাই গার্ল,” আবেগে কেঁপে উঠল শাসার গলা, “আমার সবচেয়ে আদরের ছোট্ট সোনা। নিজের খেয়াল রেখো-আর সাথে করে নানু ভাইকে নিয়ে এসো।”
বাবা’র গালে কিস্ করে জড়িয়ে ধরল বেলা। এরপরই কোনো কথা না বলে ঘুরে প্রায় দৌড় দিয়ে ঢুকে গেল এয়ারপোর্টের ইন্টারন্যাশনাল ডিপারচার গেইটের ভেতরে।
বেলা চলে যাবার পরেও বহুক্ষণ ধরে ওদিকে তাকিয়ে রইলেন সেনটেইন আর শাসা। মাথার উপরে ফ্লাইটের নাম ঘোষণা করছে লাউডস্পিকার।
শাসার হাত ধরলেন সেনটেইন। কোনো কিছু নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করলে পায়ের ব্যথা বেড়ে যায়। এখনো লাঠির উপর ভর দিয়েই হাঁটছেন।
মেইন এন্টার কাছে অপেক্ষারত গাড়িতে গিয়ে বসলেন শাসা আর সেনটেইন।
“একটা ব্যাপারে আমাদের এখনো কথা বলা হয়নি।” শাসার দিকে তাকালেন সেনটেইন।
“হ্যাঁ। আমি জানি তুমি কি জিজ্ঞেস করবে। ওরা বেলা’কে দিয়ে কী করিয়েছে? বেলা তাদেরকে কতটা মূল্য দিয়েছে?”
“বাচ্চাটার জন্মের পর থেকে ও তাদের হয়ে কাজ করছে। এত বছর ধরে। আর এটা তো এখন স্পষ্ট।”
“আমি আসলে এটা নিয়ে ভাবতেই চাই না।” দীর্ঘশ্বাস ফেললেন শাসা। “কিন্তু জানি আজ না হয় কাল এর মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে। এই জানোয়ারের বাচ্চাটা কেজিবি জেনারেল তার মানে বোঝাই যাচ্ছে কারা বেলাকে এতদিন নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে।”
“শাসা” প্রথমে খানিকটা দোনোমোনো করলেও স্পষ্ট স্বরে জানাতে চাইলেন-সেনটেইন, “তোমার স্কাইলাইট স্ক্যান্ডালের কথা মনে আছে?”
“আমি এটা কখনোই ভুলব না?”
“কেউ একজন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল-” একগুয়ের মতো বলে উঠল সেনটেইন।
“বেলা স্কাইলাইট সম্পর্কে কিছুই জানত না; আমি খুব সাবধানে ওকে এ ব্যাপারটা থেকে দূরে রেখেছিলাম।” খানিকটা উত্তপ্ত হলেন শাসা।
“ড্রাগনস্ ফাউন্টেনে আসা সেই ইস্রায়েলি বিজ্ঞানীর কথা মনে নেই? কী যেন নাম ছিল-অ্যারন বোধ হয়? বেলা উনার সাথে খানিকটা জড়িয়ে পড়েছিল। তুমিই তো বলেছিলে যে পেলিনডাবার সিকিউরিটি রেজিস্টারে ওর নাম ছিল। ও লোকটার সাথে রাত কাটিয়েছে।
