চারপাশে মনোযোগী শ্রোতাদের দিকে তাকাল শন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই সকলে একসাথে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
“গুড। তো তাহলে এদিকটা নিশ্চিত। এখন আসো প্র্যাকটিক্যাল ব্যাপারগুলোতে। ধরে নিচ্ছি নিকি’কে উত্তর অ্যাংগোলার কোনো উপকূলীয় বেসে রাখা হয়েছে। যেমনটা প্রতিবার গেছে, এবারেও সেভাবেই যাবে বেলা। পজিশন মতো পৌঁছে গেলেই ও আমাদেরকে খবর পাঠাবে।”
“কিভাবে?” জানতে চাইল গ্যারি।
“এটা তোমার সমস্যা। পুরো কোর্টনি কম্যুনিকেশন ডিপার্টমেন্ট তোমার হাতে। ওদেরকে দিয়ে কোনো একটা মিনিয়েচার রেডিও কিংবা ট্রান্সপন্ডার বানিয়ে নাও। ভেতরে ঢুকেই বেলা এটাকে অ্যাকটিভেট করে দিলে আমরা সিগন্যাল পেয়ে যাবো।”
“ওকে।” রাজি হলো গ্যারি।
“আকাশ পথে জিওলজিক্যাল সার্ভে করার সময় যে ইলেকট্রনিক পজিশন মার্কার ব্যবহার করি সেগুলোর কোনো একটা নেয়া যাবে। কিন্তু বেলা এটা কিভাবে সাথে করে নিয়ে যাবে?
“আবারো বলছি এটা তোমার সমস্যা। কাট কাট করে জবাব দিল শন। “তত বেলা আমাদেরকে টার্গের এরিয়া জানালেই আমরা রওনা হয়ে যাব।”
“কিভাবে?” আবার প্রশ্ন করল গ্যারি।
“একটাই পথ আছে। সমুদ্র।” দক্ষিণ আটলান্টিক থেকে আফ্রিকা মহাদেশের মুখ পর্যন্ত আঙুল রেখে মানচিত্র দেখাল শন।
“ওয়ালবিস বে’তে আমাদের ট্রলিং অ্যান্ড ক্যানিং ফ্যাক্টরি আছে। তোমার নতুন লং রেঞ্জ ট্রলারগুলোর একটা গ্যারি, ওই যে যেটা ভীমা সী-মাউন্টে পাঠিয়েছিলে। ত্রিশ নট গতিতে চার হাজার মাইল যেতে পারে।”
“তাই তো ইয়েস!” খুশি হয়ে উঠল গ্যারি। “এই তো কদিন আগেই কেপ টাউন ড’কে ল্যান্সার মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। ওয়ালবিস বে’তে ফিরে যাবে। ওদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি রিফুয়েল করে যাত্রার জন্য তৈরি করে রাখতে। স্কিপার, ভ্যানডার বার্গের কোনো তুলনা হয় না।”
“ওদেরকে বলো সমস্ত অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেন আনলোড় করে ফেলে।” যোগ করল শন।
“রাইট। ইনস্যুরেন্স পলিসিতে ওয়্যার আর অন্যান্য রিস্কগুলোকেও যোগ করে নেব। তুমি যে এগুলোর কী হাল করবে আমি ভালো ভাবেই জানি।” প্রশ্রয়ের হাসি হাসল গ্যারি। “গত বছর তো চারটা ল্যান্ডক্রুজারের দফা-রফা করেছ।”
“ব্যাস যথেষ্ট হয়েছে।” নাতীদেরকে খানিক বকনী দিলেন সেনটেইন-” শন এবারে বলো। তুমি কি এই নদীতেই ল্যান্সার নিয়ে চলে যাবে?”
“না, নানা। আউট বোর্ড মোটর লাগানো, ফোলানো ল্যান্ডি! ক্রাফট নিয়ে সৈকতে যাবো। সিমন্সটাউন-ন্যাভাল বেসের কাউকে চেনো তুমি?”
“ডিফেন্স মিনিস্টার আর অ্যান্ডমিরাল কেইটার’কে চিনি” আলোচনায় যোগ দিল বেলা।
“বিউটি!” মাথা নাড়ল শন “যদি তুমি বোট পাও তাহলে তো ডজন খানেক ভলান্টিয়ার ও যোগাড় করতে পারবে। কিছু একস্ট্রা কারিকুলার ফান গেমস হয়ে যাবে। ওদের কমান্ডোগুলো একেকটা হট বেবি তাই শয়তান কিউবানগুলোকে ছিঁড়ে খাওয়া কোনো ব্যাপারই না। এএনসি ট্রেনিং বেসের তলা ফুটো না করে আর আসছি না।”
মিনিস্টারকে আমিও চিনি। বেলা-র সাথে আমিও যাবো।” রাজি হলেন সেনটেইন। “স্পেশাল যত ইকুপমেন্ট দরকার তার গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি। শুধু গিভ মি আ লিস্ট, শন।”
“কাল সকালের ভেতরে রেডি করে ফেলব।”
“কিন্তু অস্ত্র-আর সৈন্য?”
“স্কাউটস” ঘোষণা করল-শন।
“এর চেয়ে ভালো আর কোনো অপশন নেই। আমি নিজে ওদেরকে ট্রেনিং দিয়েছি। প্রায় বিশ জন হলেই হয়ে যাবে। জানি কাকে কাকে চাই। রোলান্ড ব্যালান্টইনের সাথে এখনি কথা বলব। রোডেশিয়াতে এখন বর্ষা থাকায় মনে হচ্ছে আপত্তি করবেন না। তবে তার একটা পা ভাঙ্গতে হতে পারে; কিন্তু দেবেন সমস্যা নাই। স্কাউটদেরকে কয়েকদিন বোট ট্রেনিং দেব; ব্যস, আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ তৈরি হয়ে যাবে।” এবারে ইসাবেলার দিকে তাকাল শন। “এখন সবকিছু তোমার উপরে ডিপেন্ড করছে বেলা; তুমিই আমাদের হান্টিং ভগ; ওদের কাছে নিয়ে চল, ল্যাস।”
***
এগারো দিন পরেই সিনডেক্স-২৫ এর সফল টেস্টের কোডেড কনফার্মেশন পাঠিয়ে দেয়ায় নিকোলাসের সাথে দেখা করার পারমিশন আর ইনস্ট্রাকশন পেয়ে গেল লাল গোলাপ। এবারের গন্তব্য কিনশাসা এয়ারপোর্ট।
“লুকিং গুড” মানচিত্রের উপর আঙুল রাখতেই শনের চেহারায় ফুটে উঠল হাসি, “এই যে কিনশাসা। এক্সপেকটেড টার্গেট এরিয়ার তিন থেকে চারশ কি.মি ভেতরে। শেষবারের মতো নাইরোবি কিংবা লুসাকা ঘোরাবে না। এবারে সরাসরি নিয়ে যাচ্ছে।” ইসাবেলার দিকে তাকাল শন, “তো তোমাকে পরের শুক্রবারের ফ্লাইট ধরতে বলেছে? তার মানে সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে শনিবার কিংবা রবিবারেই পজিশনে পৌঁছে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব ওয়াল ভিস বে’তে গিয়ে ল্যান্সার নিয়ে রওনা হয়ে যাব আমি। ছেলেরা তাদের ট্রেনিং শেষ করে ফেলেছে। সব ইকুপমেন্টস্ ভোলা হয়ে গেছে। প্রায় সপ্তাহ খানেক আলসের মতো ঘুরে বেড়ানোতে এবারে সবাই খুশিই হবে।”
আবারো ঝুঁকে পড়ে মনোযোগ দিয়ে মানচিত্র দেখল শন। তারপর ক্যালকুলেটরে খানিক খটখট করে জানাল, “বারো তারিখ সোমবারে কঙ্গো নদীমুখ থেকে একশ নটিক্যাল মাইল দূরের পজিশনে পৌঁছে যাব। ঠিক আছে গ্যারি?”
উঠে দাঁড়িয়ে মানচিত্রের কাছে গেল গ্যারি।” আমি লিয়ার নিয়ে উইন্ডহক এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করব। সোমবার রাতে প্রথম ফ্লাই করব। ফিরে আসার আগের অন্তত পাঁচশ মাইল ঘুরে আসতে হবে। দক্ষিণ অ্যাংগোলাতে এটাই কিউবান রাডার রেঞ্জ। লুবাঙ্গোর মিগ স্কোয়াড্রনের জন্যও এরেঞ্জ কোন ব্যাপার না।” মানচিত্রে কিউবান বেস্ স্পর্শ করল গ্যারি, “বেলা’র ট্রান্সপন্ডারের সিগন্যাল না পাওয়া পর্যন্ত কঙ্গো নদী মুখ ধরে দক্ষিণের উপকূল বরাবর সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে বেড়াব।”
