মাথা দোলালো বেলা, “বেস টাকে নিকি টার্মিও নামে ডেকেছিল।”
“এটা কোনো কোড নেইম সম্ভবত।” দ্বিতীয় বোর্ডে নিকি’র ছবির পাশে বেলার স্কেচটাকে পিন দিয়ে আঁটকে রাখল গ্যারি। “আর কোনো মন্তব্য?” সেনটেইন আর শাসার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল, “বাবা কী বলো?”
“আমাদের সবচেয়ে কাছাকাছি বন্ধু ভাবাপন্ন রাষ্ট্র নামিবিয়া থেকেও জায়গাটা প্রায় হাজার খানেক কি.মি দূর। তাই নিকি’র কাছে পৌঁছানোর জন্য স্থলপথের চিন্তা বাদ।”
“হেলিকপ্টারস?” সেনটেইনের প্রশ্ন শুনে গ্যারি আর শাসা একসাথে মাথা দোলালেন।
“আউট অব রেঞ্জ; রিফুয়েলিভেরও অপশন নেই।” গ্যারির মন্তব্যে একমত হলেন শাসা।
“যুদ্ধক্ষেত্রের উপর দিয়ে উড়ে যেতে হবে। গোয়েন্দাদের তথ্যনুযায়ী নামিবিয়া সীমান্ত পর্যন্ত কিউবানদের সলিড রাডার চেইন আর বর্ডারের উত্তরে লুবাঙ্গো বেসে পুরো এক স্কোয়াড্রন মিগ-২৩ ফাইটারস আছে।”
“লিয়ার ব্যবহার করলে কেমন হয়?” সেনটেইনের কথা শুনে হেসে ফেললেন পিতা-পুত্র।
“মিগের হাত থেকে পালাতে পারব না। নানা।” বলে উঠল গ্যারি। “আর ওদের কাছে আমাদের চেয়ে বেশি অস্ত্র আছে।”
“হ্যাঁ, কিন্তু তুমি চাইলে ওদের চারপাশে ঘুরে আটলান্টিকের উপর দিয়ে চলে আসতে পারো; আমি জানি ফাইটারস’রা বহু দূর দূরান্ত পর্যন্ত চলে যায় আর লিয়ার মরিশাসেও যেতে পারে।”
হাসি থামিয়ে একে অন্যের দিকে গকিয়ে রইলেন শাসা আর গ্যারি। “তোমার কি ধারণা সে এমনি এমনিতেই এত ধনী হয়েছে?” বাবার কাছে জানতে চাইল গ্যারী, তারপর সরাসরি তাকাল দাদি’র দিকে।
“আচ্ছা ধরে নিলাম আমরা লিয়রে চেপে ওখানে পৌঁছেও গেলাম, তারপর? আমরা না ল্যান্ড করতে পারব না টেক অফ-হাজার মিটার রানওয়ে ছাড়া লিয়ার একচুল নড়তে পারবে না। বেলার কথা মতো স্ট্রিপ’টা ছোট আর গেরিলা ট্রেনিং বেস হওয়াতে দক্ষিণ আমেরিকান, না, না, কিউবান প্যারাট্রুপার গার্ডস থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তর্কাতর্কি করা ছাড়া নিশ্চয়ই এমনি এমনি নিকি’কে আমাদের হাতে তুলে দেবে না।”
“হ্যাঁ, আমি জানি ফাইট করতে হবে” মাথা নাড়লেন সেনটেইন, “এবারে তাই শন’কে ডেকে পাঠাবার সময় হয়েছে।”
“শন?” চোখ পিটপিট করলেন শাসা, “অফকোর্স!”
“নানা, আই লাভ ইউ” তাড়াহুড়া করে টেলিফোন তুলে নিল বেলা।” ইন্টারন্যাশনাল, রোডেশিয়ার বুলাওয়েতে ব্যালান্টাইন ব্যারাকে আর্জেন্ট কল করতে চাই।”
উত্তর আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে গেল। এরই মাঝে এয়ারপোর্টে ফোন করে পাইলটদের সাথে কথা বলে নিল গ্যারি। অবশেষে শন যখন লাইনে। এলো ততক্ষণে বুলাওয়ের দিকে উড়ে যাচ্ছে লিয়ার।
“আমাকে ওর সাথে কথা বলতে দাও” বলে ইসাবেলার হাত থেকে টেলিফোন নিয়ে নিল গ্যারি। মিনিট খানেকের মধ্যে দুই ভাই চিৎকার চেঁচামেচি শেষ করতেই খেঁকিয়ে উঠল গ্যারি : “আমাকে অজুহাত দেখিও না শন। নেক্সট আওয়ারেই তোমাকে তুলে নেবার জন্য বুলাওয়েতে থাকবে লিয়ার দরকার হলে জেনারেল ওয়ালস কিংবা ইয়ান স্মিথের সাথেও কথা বলব। উই নিড ইউ। দ্যা ফ্যামিলি নিডস্ ইউ।”
ফোন রেখে সেনটেইনের দিকে তাকাল গ্যারি, “সরি নানা।”
“এই কথা আগেও শুনেছি।” বিড়বিড় করে উঠলেন সেনটেইন, “আর মাঝে মাঝে আসলে ঝাড়িতেই কাজ হয়।”
***
ওয়েল্টেভ্রেদেনের গান রুমে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে ভাগনের ছবি দেখছেন ব্যালান্টাইন স্কাউটস মেজর শন কোর্টনি। মাত্র তিন মাস হলো রোলান্ড ব্যালান্টাইনি তাকে ফুল টাইম রেজিমেন্টের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
“হুম, ওযে বেলা’র ছেলে তাতে কোনো সন্দেহই নেই। একেবারে বেলা’র মতো হয়েছে। উজবুক একটা।” বোনের দিকে তাকিয়ে হাসল শন্।
ভাইকে জিভ বের করে ভেংচি কাটল বেলা। কিন্তু আসল কথা হলো শনকে দেখে আবার আশা ফিরে পেয়েছে। শন এতটা আত্মবিশ্বাসী পরিশ্রমী আর স্বাবলম্বী যে ওকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বেলা।
“ওরা আবার তোমাকে কবে নিকির কাছে যেতে দেবে?” শনের প্রশ্ন শুনে একটুক্ষণ চুপ করে রইল বেলা। সিনডেক্স-২৫ এর টেস্টের সফলতার কথা জানালেই যে সুযোগ পাবে সে কথা তো ওদেরকে বলা যাবে না; তাহলে স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে বেলা কতটা বিশ্বাসঘাতক।
“মনে হয় শীঘিই। প্রায় বছর খানেক হলো নিকি’কে দেখিনি। সপ্তাহ কিংবা দিনও হতে পারে।”
“তুমি যাবে না।” তাড়াতাড়ি বাধা দিল গ্যারি। “তোমাকে আর ওই বদমাশগুলোর খোঁয়ারে যেতে দেব না।”
“ওহ, শাট আপ গ্যারি” খেঁকিয়ে উঠল শন। “বেলা অবশ্যই যাবে তা না হলে নিকি কোথায় আছে আমরা কিভাবে জানব?”
“আমি ভেবেছিলাম…রাগে গন গন করছে গ্যারির মুখ।
“ওকে মেটি। চলো আগেই কিছু জিনিস ঠিক করে নেই। অপারেশনের ভার আমার-আর সমস্ত লজিস্টিকস আর ব্যক আপের দায়িত্ব তোমার। ঠিক আছে?”
“গুড!” তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন সেনটেইন। “এভাবেই সব হবে। শ এবারে জানাও তুমি রেসকিউ অপারেশন কিভাবে করবে?”
“ওকে। আপাতত এটুকুই ঠিক হলো। ডিটেইলস নিয়ে পরে আলোচনা করব। তবে প্রথমেই বলে রাখছি এটা কিন্তু পুরোপুরি একটা আফেন্সিভ অপারেশন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বিপক্ষ দল নরক নিয়ে হাজির হবে। ওরা আমাদেরকে নির্ঘাৎ খুন করতে চাইবে-তবে আমাদেরকেই আগে কাজ সারতে হবে। যদি নিকি’কে চাই। তাহলে ফাইট করতেই হবে। কিন্তু যদি কিছু গড়বড় হয় তো দেশে আর বিদেশে রাজনীতি আর আইনি বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। সন্ত্রাসী কিংবা হত্যাকাণ্ড যে কোনো কিছুর অভিযোগ উঠতে পারে আমাদের বিরুদ্ধে। এর জন্য কি প্রস্তুত আছি আমরা?”
