“কাম অন, বেলা। তোমাকে বলতেই হবে, এই লোকটাই তোমার রামোন?” এবারেও কোনো উত্তর দিল না বেলা; মেয়েকে ধরে ঝাঁকুনি দিলেন শাসা। এর সবই হচ্ছে সাজানো নাটক, বিরাট বড় একটা থোকা। ওই তোমাকে ভিকটিম বানিয়েছে। আমি প্রায় নিশ্চিত যে অপহরণ আর তোমার ছেলেকে পানিতে ডুবিয়ে নির্যাতন করার বুদ্ধিও তার। তখন থেকেই তোমাকে নিয়ে খেলছে। তুমি কি জানো যে ওর নিক নেইম হল এল জোরো ভোরাডো? ও নির্ঘাৎ ক্যাস্ট্রো নিজেই দিয়েছে এই নাম, দ্য গোল্ডেন ফক্স।”
ঝট করে মুখ তুলে তাকাল বেলা। মনে পড়ল জোসের কথা, “পেলে হলো শিয়াল ছানা, এল জোরো”। এই ছোট্ট একটা বাক্যের জন্যই সত্যিটাকে স্বীকার করতে বাধ্য হলো বেলা।
“এল জোরো ইয়েস।” শক্ত হয়ে গেল বেলা’র অভিব্যক্তি। চোখে ফুটে উঠল ঘৃণার আগুন। অবচেতন ভাবেই তাকাল দাদি’র দিকে। “এখন আমরা কী করব, নানা?”
“ওয়েল আমাদের প্রথম কাজ হলো নিকোলসাকে উদ্ধার করা।” সোজা সাপটা উত্তর দিলেন সেনটেইন।
“তুমি জানো না যে কী বলছ, নানা বাধা দিল গ্যারি। হতবুদ্ধি হয়ে গেছে। দাদির কথা শুনে।
“কী বলছি তা আমি সব সময় জানি।” দৃঢ়স্বরে ঘোষণা করলেন সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকমস্।
“এ কাজের দায়িত্ব তোমাকেই দিচ্ছি গ্যারি; এটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তুমি যা যা প্রয়োজন সব কিছুই পাবে। খরচ নিয়ে আমি মাথা ঘামাবো না। শুধু আমাকে বাচ্চাটা এনে দাও। এটাই হলো আসল কথা। আমি কি পরিষ্কার ভাবে বোঝাতে পেরেছি ইয়াং ম্যান?”
ধীরে ধীরে কেটে গেল গ্যারির চেহারার মেঘ; মিটিমিটি হেসে বলে উঠল, “ইয়েস নানা, সবকিছু জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে।”
৮. অপারেশন রুম
ওয়েল্টেভ্রেদেনের গান রুমকে নিজের অপারেশন রুম বানিয়ে ফেলল গ্যারি।
অন্য আরো ডজন খানেক কোর্টনি কনফারেন্স সেন্টার কিংবা বোর্ড রুম থাকলেও এই রুমের মতো নিরাপদ পারিবারিক আবহ আর কোথাও নেই। তাদের অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু হলো এই ঘর।
“এটা পরিবারের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাক। একান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরে থেকে কাউকে ডাকা হবে না।” সবাইকে সর্তক করে দিল গ্যারি।
ডেস্কের দু’পাশে বড় বড় দুটো ইজেল এনে রাখল। একটাতে ঝুলছে আফ্রিকার মানচিত্র। দ্বিতীয় বোর্ডটাতে কয়েকটা ছবি ছাড়া আপাতত আর কিছু নেই।
নিকোলাসের সৈকতে ভোলা ছবিটা বোর্ডে পিন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।
“এটাই আমাদেরকে মনে করিয়ে দেবে আসল গন্তব্য” জানাল গ্যারি। “মনের মাঝে গেঁথে নিতে চাই এই চেহারা। যেমনটা নানা জানিয়েছে, দ্যাট ফেইস, দ্যাট চাইল্ড। ব্যস আর কিছু না।”
ছবিটার উপর ঝুঁকে বলে উঠল গ্যারি, “অল রাইট ইয়াং নিকি, বল তো বাছা তুমি কোথায়?”
ডেস্কের উপর জেনে’স অল দ্য ওয়ার্ল্ডস এয়ারক্রাফট’র ভারী ভলিউম খুলে ডেস্কের ওপাশে বসে আছে বেলা।
“ও’কে বেলা। ধরে নিচ্ছি তুমি একটা রাশান মিলিটারি পরিবহন বিমানে করেই লুসাকা থেকে নিকি’র কাছে গেছ। দেখা যাক, এটা দেখতে কেমন।” বলে উঠল গ্যারি।” একের পর এক বইয়ের পাতা উল্টাতে লাগল।
“এই তো” নির্দিষ্ট একটা ছবি দেখে বলে উঠল বেলা।
“তুমি নিশ্চিত?” কাঁধের উপর দিয়ে ঝুঁকে তাকাল গ্যারি।
“আই-লুশিন। ন্যাটো রিপোর্ট নেইম ক্যান্ডিড।” জোরে জোরে নামটা পড়ল গ্যারি।
নেভিগেশন প্যাডের উপর খসখস করে লিখে চলল গ্যারি। “ওকে, তুমি বলেছ কোর্স ছিল ৩০০ ডিগ্রি ম্যাগনেটিক আর ফ্লাইং টাইম দুই ঘণ্টা ছাপান্ন মিনিট। এছাড়াও আমরা জানি যে এটা আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত- চলো এবার চার্টে দেখা যাক।”
মানচিত্রের উপর ডিভাইডার আর প্রটেক্টর নিয়ে কাজ শুরু করে দিল গ্যারি।
“গ্যারি”-চিন্তায় পড়ে গেল বেলা, “নিকি গত বছর ওখানে ছিল, এর মানে তো এই নয় যে এ বছরেও এখানেই থাকবে?”
“অবশ্যই না।” চার্ট থেকে চোখ না ঘুরিয়েই উত্তর দিল গ্যারি। “কিন্তু তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে নিকি স্থায়িভাবেই ক্যাম্পে আবাস গড়েছে। ওখানকার স্কুলে যাচ্ছে বন্ধু বানাবার মতো দীর্ঘ সময় ধরে থেকেছে; এমনকি সকার প্লেয়ার হিসেবেও বিখ্যাত হয়ে গেছে পেলে। তাই না?”
বেলার দিকে তাকাল গ্যারি; চশমার ফাঁক দিয়ে হাস্যরত চোখ জোড়া মনে হলো গোল্ডফিশের মত। “ইস্রায়েল আর সাউথ আফ্রিকান গোয়েন্দা বিভাগের ধারণা তোমার বন্ধু এল জোরে এখনো অ্যাংগোলা’তেই আছে। মাত্র চৌদ্দ দিন আগেও লুয়ান্ডাতে দেখেছে এক সি আই-এ এজেন্ট। আর পরিকল্পনা শুরু করার জন্যও একটা জায়গা দরকার। তাই নিকি ওখানে নেই নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধরে নিচ্ছি ওখানেই আছে।”
মানচিত্রের কাছে সরে এলো গ্যারি, “তাহলে মনে হচ্ছে জায়গাটা উত্তরে লুয়ান্ডা আর দক্ষিণে জায়ারে সীমান্তের মাঝামাঝি কোনো একটা জায়গা। একে অনোর কাছ থেকে শ’খানেক দূরে দূরে ছয়টা নদী মুখ আছে।”
ডেস্কের কাছে ফিরে এসে দেখল বড় সড় একা আর্ট পেপারের উপর স্মৃতি হাতড়ে এয়ারস্ট্রিপ আর রিভার মাউথের ছবি এঁকেছে বেলা। মন দিয়ে দেখে মাথা নাড়ল গ্যারি, “মানচিত্রে দেখানো ছয়টা নদী মুখের যে কোনো একটা হতে পারে; কিছুই নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না।” আবারো খুব কাছ থেকে পরীক্ষা করল মানচিত্র, ‘টারি, আমাবিক্স, কাটাকানহা, চিকাম্বা, মাবুবাস আর কুইকাবো-নামগুলো শুনে কোন কিছু মনে পড়ছে বেলা?”
