প্রায় আটটার দিকে স্যান্ডটনে গ্যারি বাড়ির গ্যারাজে গাড়ি পার্ক করল বেলা। ততক্ষণে অস্ত গেছে সূর্য।
“ড্যাম ইট” লিভিং রুমে ঢুকতেই খেঁকিয়ে উঠল গ্যারি, “কোন চুলায় ছিলে এতক্ষণ? জানো কয়টা বাজে?” গ্যারি আর হোলি দু’জনেরই পরনে ইভনিং ড্রেস। গ্যারিকে কখনো এতটা রাগ করতে দেখেনি বেলা।
“ওহ মাই গড! দ্য বল! আয়্যাম সরি!”
এরপরই বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে গলে গেল গ্যারি, “আহারে বেচারি, চোহারার কী হাল হয়েছে দেখ। যাও, আমরা অপেক্ষা করছি, চেঞ্জ করে এসো।”
“না” তাড়াতাড়ি বলে উঠল বেলা, “তোমরা রওনা দাও, আমি আসছি।”
সারা সন্ধেটা মাটি হলো। একটা বোরিং ইউনিভার্সিটি প্রফেসরকে ওর পার্টনার করে দিল হোলি। বেলা সিনেটর হওয়াতে সারা সন্ধ্যা নোকটা শুধু রাজনীতি নিয়েই বকবক করল।
তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এলো বেলা। সারারাত ঘুমের মাঝেও অসহায় বেবুনগুলোকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখল। কখন যেন আবার বেবুনের চেহারা মুছে গিয়ে ভেসে উঠল ক্যামোফ্লেজ পোশাক পরা নিকির মুখ। আতঙ্কে ঘামে নেয়ে উঠল বেলা’র শরীর।
সারা শরীর এতটাই কাঁপছে যে ঘুমোতেও ভয় লাগছে। ভোর না হওয়া পর্যন্ত চেয়ার নিয়ে জানালার কাছেই বসে রইল। এরপর হাতের বই রেখে গোসলে যাবার জন্য উঠতেই দরজায় টোকার শব্দ শুনে খুলতেই দেখল ড্রেসিং গাউন পরে দাঁড়িয়ে আছে গ্যারি। মাথার সব চুল এলোমেলো, চোখ ভর্তি এখনো ঘুম।
“এই মাত্র ওয়েন্ট্রেভেদেন থেকে বাবা ফোন করেছিল” জানাল গ্যারি।
“এই সময়ে? সব ঠিক আছে? নানা?
“না। আমাকে জানিয়েছে যে তোমাকে বলি যে ওরা দুজনেই সুস্থ আছে।”
“তো, কেন ফোন করেছে?”
“আমি আর তুমি যেন এক্ষুণি ওয়েল্টেভ্রেদেন যাই।”
“আমরা দুজনেই?
“হ্যাঁ। তুমি আর আমি। এক্ষুণি।” !
“কেন বলেনি?
“বলতে চায়নি, শুধু জানিয়েছে এটা নাকি জীবন আর মৃত্যুর প্রশ্ন।”
একদৃষ্টে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল বেলা, “কী হতে পারে?”
“কত দ্রুত রেডি হতে পারবে? আধা ঘণ্টা?”
“হ্যাঁ, ঠিক আছে।”
“আমি ল্যানসেরিয়া এয়ারপোর্টে ফোন করে লিয়ার রেডি করে পাইলটকে স্ট্যান্ডবাই রাখার জন্য ফোন করে দিচ্ছি।” হাতঘড়ির দিকে তাকাল গ্যারি, “দশটার আগেই কেপ টাউনে পৌঁছে যাব।”
কেপ টাউনের ডি এফ মালান এয়ারপোর্টে নামতেই দেখা গেল গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে ক্লোনকি।
গান রুমে অপেক্ষা করছেন শাসা আর সেনটেইন। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী এই রুমেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কদর্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাই রুমে ঢোকার আগে খচখচ করে উঠল বেলা’র মন।
পুরাতন ডেস্কের পেছনে কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নানা আর বাবা। দু’জনের অভিব্যক্তিতে এমন একটা কিছু ছিল যে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে গেল বেলা, ওর সাথে পিছন থেকে ধাক্কা খেল গ্যারি।
“কী হয়েছে?” ভয়ে ভয়ে জানতে চাইল বেলা আর ঠিক তখন বুঝতে পারল ফায়ারপ্লেসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ন্যানি। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন বুড়ি মহিলা। চোখ দুটো পুরো লাল, এক হাতে ভেজা রুমাল ধরে বলে উঠল,
“ওহ মিস বেলা, নাক টানল ন্যানি, “অ্যায়াম সো সরি, চাইল্ড, তোমার জন্যই এটা করতে বাধ্য হয়েছি…”
“কী বলছ ন্যানি? “ন্যানি’র দিকে এগোতে গিয়েও থেমে গেল বেলা।
ডেস্কের উপর পড়ে থাকা জানাল দেখে মনে হলো মাথা ঘুরে পড়ে যাব।
বেলা’র চামরায় মোড়া জার্নাল ন্যানি ওর সেইফে হাত দিয়েছে।
“এটা তুমি কী করেছ ন্যানি?” হতাশায় গুমড়ে উঠল বেলা, “তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছ।”
“মাই বেবি! ওহ্, ন্যানি তুমি এটা কিভাবে করলে!”
জার্নালের খোলা পাতায় দেখা যাচ্ছে নিকি’র চুল। পাশেই পড়ে আছে ওর ছোট্ট বেলার জুতা আর বার্থ সার্টিফিকেট।
“হতচ্ছাড়া বুডি” ক্ষেপে উঠল বেলা, “এটা তুমি কী করলে, তমি আমার নিকি’কে মেরে ফেলেছ। এর জন্য কক্ষনো মাফ করব না, কক্ষনো না।”
দু’হাতে মুখ ঢেকে রুম থেকে চলে গেল ন্যানি।
“এটা করেছে কারণ ও তোমাকে ভালবাসে, বেলা।” তীব্র স্বরে চিৎকার করে উঠলেন শাসা।” ও যেটা আজ করেছে সেটা তোমার আট বছর আগেই করার কথা ছিল।”
“এটা মোটেই ওর মাথা ব্যথা নয়। তোমাদের কারোও নয়। আসলে বুঝতেই পারবে না তোমরা কেউ। তাহলে ভয়ংকর বিপদে পড়ে যাবে নিকি আর রামোন।”
দৌড় দিয়ে ডেস্কের কাছে গিয়ে ছোঁ মেরে জার্নালটা তুলে বুকের কাছে ধরে রাখল বেলা।
“এটা আমার। তুমি এর ভেতরে নাক গলাতে এসো না।”
“কী হচ্ছে? কী এসব?” বেলার পাশে এসে দাঁড়াল গ্যারি।
“কাম অন, বেলা। উই আর আ ফ্যামিলি। উই স্ট্যান্ট টুগেদার।”
হ্যাঁ বেলা, গ্যারি সত্যি কথাই বলছে।”
“যদি তুমি আমাদেরকে তাই মনে কর” শাসাকে থামিয়ে দিলেন সেনটেইন; ডেস্কের পিছনে বসে পড়ে বললেন, “একে অন্যের উপর দোষ ছুঁড়লেই কোনো লাভ হবে না। সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে। বসো, বেলা। বেশিরভাগটাই অনুমান করতে পারছি; বাকিটা আমাদেরকে তুমিই না হয় জানাও। নিকি আর রামোন সম্পর্কে সব খুলে বলল।”
ইসাবেলার মনে হল হাঁটু ভেঙে পড়ে যাবে। পায়ের নিচে কাঁপছে পুরো দুনিয়া। বোনের কাঁধে হাত রেখে সান্তনা দিতে চাইল গ্যারি।
“ইটস্ ওকে বেলা; আমরা সবাই তোমার সাথে আছি। এখন বলো নিকি কে? আর রামোনই বা কে?”
“নিকি আমার সন্তান আর রামোন ওর পিতা।” নরম স্বরে বলে উঠল বেলা; ভাইয়ের বিশাল বুকে মুখ লুকিয়ে শক্ত করতে চাইল নিজেকে।
