উদোম গায়ে থাকা তিনটা বেবুনই মাথা নাড়ছে, পা ছুঁড়ছে। জিভ আর খোলা মুখ পুরোপুরি রক্ত লাল ধারণ করেছে। আই বলের চারপাশে রক্ত জমে ফুটে উঠেছে শিরা। বমি শুরু করে দিল বেবুনের দল। প্রথমে বেলুনের পরনে থাকা ন্যাপি ভিজে গেল। প্রস্রাব পায়খানা করে দিচ্ছে অবলা জীবগুলো।
ইসাবেলার ইচ্ছে হলো চিৎকার করতে করতে পালিয়ে যায় এ আতঙ্ক থেকে।
“এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ড; এরপরই জীবনের সমস্ত স্পন্দন হারিয়ে ফেলেছে নাম্বার ওয়ান।” ঝুলতে লাগল ছোট্ট শিশুর মতো দেহ।
“দুই মিনিট পনের সেকেন্ড। নাম্বার টু টার্মিনেটেড।”
“তিন মিনিট আট সেকেন্ড। নাম্বার থ্রি টার্মিনেডেট।”
“আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে নাম্বার ফোরের বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি হয়নি। পরনের স্যুট এটিকে সুরক্ষিত রেখেছে।”
উঠে দাঁড়াল বেলা।” এক্সকিউজ মি, ছুটে বের হয়ে গেল ইসাবেলা। ধুপধাপ করে করিডোর পার হয়ে উইমেন চেঞ্জিং রুমে ঢুকে পড়ল।
মাথা থেকে হেলমেট খুলেই হাঁটু ভেঙে বসে পড়ে আঁকড়ে ধরল পোর্সেলিনের তৈরি ঠাণ্ডা টয়লেট বোল। হড়হড় করে বমির সাথে বেরিয়ে এলো যত আতঙ্ক, অনুশোচনা আর অপরাধবোধ।
***
এইমাত্র যে অভিজ্ঞতা হলো এরপর গ্যারি আর হোলি’র ওই চমৎকার বাসায় ফিরতে মোটেই ইচ্ছে করছে না।
মিনিস্টার লোথার কিংবা অন্য কারো সাথে দেখা না করেই ক্যাপরিক প্ল্যান্ট ছেড়ে চলে এলো। কোনো দিকে না তাকিয়ে কেবল পোরশে’তে তুলল। গতির ঝড়। ঘণ্টাখানেক পর আবারো জোহানেসবার্গে ফিরে পোরেশে’র গতি কমাতে বাধ্য হলো।
ফুয়েল-ট্যাঙ্ক বলতে গেলে একেবারে খালি। সার্ভিস স্টেশনে আসতেই বুঝতে পারল রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে। অ্যাটেনড্যান্টের কাছে জানতে চাইল স্যান্ডটনে ফেরার পথ। ছেলেটা রাস্তার নাম জানাতেই বেলা’র মনে হলো ওর অবচেতন মন কিংবা ভাগ্যদেবীই তাকে নিয়ে এসেছেন এখানে। আর মাত্র দুই কি তিন মাইল দূরেই মাইকেলের বাসা। কয়েক বছর আগে পঞ্চাশ একরের উপর তৈরি ভাঙ্গাচোরা একটা ফার্ম হাউজে নিয়ে এসেছিল মাইকেল। গোল্ডেন সিটি মেইলের অফিসও কাছেই। বাড়ি ভর্তি শখানেক ফলের গাছ লাগিয়েছে মিকি আর ছেড়ে দিয়েছে এক পাল মুরগী। “ওয়েল এটা ওগুলোর’ও বাসা।” রান্নাঘর। সিঙ্ক আর ফ্রিজের দরজায় মুরগির হাগু দেখে আঁতকে উঠা বেলাকে বুঝিয়েছে মাইকেল।
“মাইকেল!” ভাইয়ের কথা মনে হতেই খুশি হয়ে উঠল বেলা। হাতঘড়িতে চোখ বুলিয়ে দেখর মাত্র ছয়টা। এতক্ষণে নিশ্চয় বাসায় চলে এসেছে। এখন আমার আসলে মাইকেলকেই দরকার।”
আঁকাবাঁকা রাস্তা বেয়ে মাইকেলের এস্টেটের সামনে উঠে এলো পোরশে। পার্ক করে রাখা ভোক্সওয়াগন কোমবি দেখে বোঝা গেল যে অবশেষে বিদায় নিয়েছে মিকি’র বহুদিনের সাথী ভ্যালিয়ান্ট। মনে পড়ল মাইকেল বলেছিল কিভাবে রাশ আওয়ারে রাস্তার মাঝে শর্ট সার্কিট হয়ে জ্বলে উঠে পাঁচ মাইল লম্বা ট্রাফিক জ্যাম বাধিয়ে দিয়েছিল গাড়িটা; তবে কোমরি’র অবস্থাও তার চেয়ে বেশি পদের বলে মনে হলো না।
মাইকেলের বাড়ির টিনের ছাদের অর্ধেকের রং ফ্রেশ আপেলের মতো সবুজ আর বাকি অর্ধেক মরচে পড়া। মেরাতের মাঝপথেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে মিকি।
নিজের প্রপার্টির মাঝে ল্যান্ডিং স্ট্রিপও বানিয়েছে মাইকেল। ফল বাগানের শেষ মাথায় হ্যাঙ্গারে থাকে সেসনা সেঞ্চুরিয়ন এয়ারক্রাফট।
সাদা-নীল এয়ারক্রাফটের ভেতরে ভাইকে খুঁজে পেল বেলা। ওভারঅলের পা ধরে টান দিতেই হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বের হয়ে এলো বিস্মিত মিকি। দু’ভাই-বোন পরস্পরকে প্রায় বছর খানেক হলো দেখেনি।
পুরনো রেফ্রিজারেটর থেকে ওয়াইনের বোতল এনে দুই গ্লাসে ঢালল মাইকেল। আর তখনই বেলা’র মনে হলো যে কোনো কারণে নার্ভাস হয়ে আছে মাইকেল। বারে বারে নিজের ঘড়ি আর হ্যাঙ্গারের দরজার দিকে তাকাচ্ছে। মনে মনে অসন্তুষ্ট হলো বেলা।
“তুমি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছ?” জিজ্ঞেস করল বেলা, জানাল, আই এম সরি মিকি; তোমাকে আগেই ফোন করা উচিত ছিল। আশা করি রাগ করোনি।”
“আরে নাহ্, তা না। তাড়াতাড়ি বলে উঠল মিকি “কিন্তু কেন যেন স্বস্তিও পেল, “আসলে…সত্যি কথা বলতে…” আটকে গেল মিকি’র কথা। আবারো গলা বাড়িয়ে দরজার দিকে তাকাল।
নিশ্চয় ওর লাভার, তিক্ততায় ছেয়ে গেল বেলা’র মন। মিকি ভয় পাচ্ছে যে আমি ওর ছেলে বন্ধুকে দেখে ফেলব। নাহ্ ভাল লাগছে না। ভাইকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে এলো বেলা।
গাড়ি চালিয়ে চলে আসার সময় রিয়ারভিউ মিররে ভাইয়ের একাকী দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখে অবশ্য বেলার রাগ পানি হয়ে গেল।
বেচারা মিকি, ভাবল বেলা; তুমিও আমার মতই ছন্নছাড়া।
মেইনরোডে এসে পূর্ব দিকে গাড়ি ছোটাল; গন্তব্য স্যান্ডটন। সামনে। থেকে আসছে আরেকটা গাড়ি। ধূসর রঙা ভ্যান। পাশাপাশি আসতেই ড্রাইভারকে দেখে সিধে হয়ে বসল বেলা। বেন। বেলা’কে দেখতে পায়নি বেন, পাশে বসে থাকা কৃষাঙ্গের সাথে মশগুল হয়ে গল্প করছে।
পোরশে’র গতি ধীর করে রিয়ার ভিউ মিররে তাকিয়ে রইল বেলা। হঠাৎ করেই মোড় ঘুরে ভ্যানটা চলে গেল মাইকেলের বাড়ির দিকে।
“যাক, রহস্যের সমাধান হয়ে গেছে।” পোরশে’র গতি বাড়াল বেলা। “যদিও বুঝতে পারছি না, মাইকেল কেন চায়নি যে আমি বেনকে দেখে ফেলি। কিন্তু পাশের লোকটা কে?”
