“আমিও যাচ্ছি।” গড় ডটারের মুখ মুছে দিয়ে উঠে দাঁড়াল বেলা; কিন্তু বোনকে থামালো গ্যারি।
“লুক বেলা, মাফ চাইছি। জানি আমি বলেছিলাম যে তুমি পারবে না। কিন্তু তুমি যে, যে কোন পুরুষের মতই শক্ত তা-ও আমি জানি। “তোমাকে তার প্রমাণ দিতে হবে না।”
“তার মানে স্বীকার করছ যে তুমি আমাকে হাঁদারাম ভেবেছ?” জানতে চাইল বেলা।
“অল রাইট” হার মানল গ্যারি।
“আমি নিজেই তো এসব দেখতে চাই না। তাই ভেবেছিলাম তোমারও দরকার নেই।”
“আমি ক্যাপরিকর্নের ডিরেকটর” হাত ব্যাগ আর ব্রিফকেস গুছিয়ে নিল বেলা, “আটটায় দেখা হবে, তোমার সাথে।”
পোরশে’তে চড়ে বসতেই অপরাধ বোধে ছেয়ে গেল বেলার মন। কিন্তু এবার যদি সিনডেক্স-২৫-এর টেস্ট সফলভাবে হয়েছে কিনা জানিয়ে রিপোর্ট করতে পারে তাহলেই নিকি’র কাছে যেতে পারবে।
নতুন হাইওয়ে ধরে জার্মিস্টনে পৌঁছাতেও প্রায় এক ঘণ্টার বেশি লেগে গেল। ক্যাপরিক কেমিকেলস্ প্রান্টের আর্কিটেক্ট হোলি হওয়াতে এটাকে মোটই কোনো ফ্যাক্টরি বলে মনে হয় না। এখানে লন্ আছে, গাছপালা আছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিল্ডিংগুলোকে আড়ালে রেখে কাঁচ আর ন্যাচারাল স্টোন দিয়ে ঢেকে রাখা দালানগুলোকে মুখ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কয়েকশত একর নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে পুরো স্থাপনা।
নিজের ইলেকট্রনিক কী-কার্ড দিয়ে গেইটের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ল বেলা। গাড়ি দেখে স্যালুট করল গার্ড। কারপার্ক ভর্তি গাড়িগুলোর বেশির ভাগই কালো লিমুজিন; মিনিস্টারিয়াল কিংবা মিলিটারি নাম্বার প্লেট লাগানো আছে প্রায় প্রতিটিতে।
লিফটে চড়ে ডিরেকটরস্ স্যুইটে ঢুকেই দ্রুত পুরো রুমে চোখ বোলালো বেলা। মাত্র বিশ জনের দলটাতে সে একাই নারী।
উপস্থিত কর্তা ব্যক্তিদের বেশির ভাগকেই চেনে বেলা। রিফ্রেশমেন্ট টেবিলে অ্যালকোহল থাকলেও কেউ কফি ছাড়া আর কিছু নেয়নি। কিন্তু তারপরেও এত নগ্ন বিভক্তি দেখে চমকে উঠল বেলা। ইংলিশ সেকশনের আলোচনার বিষয় হলো ফিন্যান্স আর কমার্স। অন্যদিকে হলে উপস্থিত আফ্রিকানারদের বিষয় রাজনৈতিক আর সামরিক শক্তি। কোর্টনিদের তুলনায় একেবারেই গরীব হলেও এদের রাজনৈতিক প্রভাব পুরো সমাজের উপর ছড়িয়ে আছে।
সেকেন্ডের মাঝেই রুমের মাঝে উপস্থিত সবচেয়ে প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে তাদের দিকেই এগিয়ে গেল বেলা। হ্যান্ড শেক আর হাসি বিনিময় করল। অন্যদের সাথে।
ডিফেন্স মিনিস্টারের সাথে হাত মিলিয়ে তাঁর ডেপুটির দিকে ফিরল বেলা।
“গুড মর্নিং জেনারেল ডিলারে” চোস্ত আফ্রিকান ভাষায় সম্ভাষণ জানাল বেলা। লোথার ডিলারের সাথে ছয় মাস লিভ টুগেদার করার পর বেলা’কে ছেড়ে ম্র ভদ্র একটা আফ্রিকান মেয়েকে বিয়ে করেছে লোকটা। নচেৎ এখন আর ডেপুটি মিনিস্টার হওয়া হত না।
“গুড মর্নিং, ডঃ কোর্টনি।” নম্র স্বরে জানালেও লোহার প্রশংসার দৃষ্টিতেই দেখছে বেলা’র শরীর।
নিজের মাঝে অভিমান থাকা সত্ত্বেও বেলাও আপন মনে সুদর্শন লোহারের প্রশংসা না করে পারল না। এখনো দশ বছর আগের মতই হালকা পাতলা রয়ে গেছে।
তোমার উপর আমি প্রতিশোধ নেবই। মনে মনে ভাবল বেলা; একবার তো লোথারের জন্য সুইসাইডও করতে গিয়েছিল। তাই তাকে লাল গোলাপের ইনফর্মার বানাতে পারলেই কলজে ঠাণ্ডা হবে। এরপর হঠাৎ করেই রামোনের কথা মনে পড়ল; ওর রামোন আর চোখের সামনে থেকে মুছে গেল লোথার।
আর ঠিক সময়ে চোখ পড়ল ক্যাপরিকর্নের জেনারেল ম্যানেজারের দিকে; চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির জন্য ক্ষমা চেয়ে স্বাগত বক্তব্য দিল বেলা। এরপর প্রজেকশন রুমে সকলকে আমন্ত্রণ জানাল।
আগে থেকেই হাই কোয়ালিটি প্রফেশনাল ভিডিও ফিল তৈরি করে রেখেছে ক্যাপরিক। অন্ধকার রুমের চারপাশে চোখ বোলালো বেলা। উপস্থিত সামরিক কর্তাব্যক্তিদের মাঝে এই নতুন অস্ত্র নিয়ে উত্তেজনার শেষ নেই। হা করে গিলছেন পর্দার প্রতিটি দৃশ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে সিনডেক্ট-২৫ প্রয়োগের চলমান চিত্র দেখাচ্ছে, ভিডিও ফিল্ম।
পল সালে, তেল আবিবের ইস্রায়েলী টেকনিক্যাল ডিরেকটর, উঠে দাঁড়াতেই একের এক এক প্রশ্নবানে ভদ্রলোককে জর্জরিত করে ফেললেন সবাই। ইসাবেলা খেয়াল করে দেখলেন যে বেন নেই। রুমের পেছনে কোথাও লুকিয়ে আছে সেই বাদামি মুখ। হঠাৎ করেই বেলার মতো করেই একজন জেনারেল জানতে চাইলেন,
“এই গ্যাস কী কখনো মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছিল? আমাদেরকে সবিস্তারে জানান।”
“হয়ত জেনারেল আমাদেরকে অ্যাংগোলা থেকে ধৃত কয়েকজন কিউবিনা যুদ্ধবন্দি দেখাতে পারবেন।” ডিরেকটরের কথা শুনে হেসে কুটি কুটি হলো পুরো রুম। “সিরিয়াসলি জেনারেল, আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো না। কিন্তু ল্যাবরেটরি কন্ডিশনে দারুণ রেজাল্ট পাওয়া গেছে। আর সত্যি কথা বলতে আজই আপনাদের জন্য প্রথম টেস্ট চাক্ষুষ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
মিনিস্টারের কালো ক্যাডিলাককে সামনে রেখে পুরো দলটা চলল হাফ মাইল দূরের পেস্টিসাইড আর পয়জন ডিভিশনের উদ্দেশ্যে। মিনিস্টারের সাথে পেছনের সিটে বসে প্ল্যান্টের সম্পর্কে জানাচ্ছে ইসাবেলা।
ডিফেন্স মিনিস্টারের মেজাজ অত্যন্ত কড়া স্বভাবের হলেও তার সাথে বেলা’র সম্পর্ক বেশ সহজ আর লোকটার রাজনৈতিক সফলতাকে শ্রদ্ধা করে বেলা। অবশেষে মেইন কমপ্লেক্সের ভেতর পৃথক অংশটার সামনে এসে থামল গাড়ির বহর।
