“হ্যালো বেলা।” প্রায় সাথে সাথে উত্তর দিল বেন।
“আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।” জানাল বেলা।
“কোথায়?” দ্রুত ভেবে নিয়ে জানাল “হ্যাচাডস।”
“পিকাডোলি’র বুক শপ? ঠিক আছে, কখন?”
“কাল সকাল দশটায়।”
আফ্রিকান ফিকশন সেকশন দাঁড়িয়ে আছে বেন। পাশে দাঁড়িয়ে শেল্ফ থেকে বই তুলে নিল বেলা।
“বেন, আমি এসব সম্পর্কে কিছুই জানি না।”
“আমি শুধু একটা চাকরির জন্য দরখাস্ত করেছি বেলা, ব্যস। সহজ হিসাব।” হেসে ফেলল বেন।
“আমি অন্যকিছু জানতেও চাইনা।” দ্রুত বলে উঠল বেলা, “শুধু এটুকু বল যে আফ্রিকা নামে তোমার সব কাগজ-পত্র বৈধ তো?”
“তারা তার কৃষাঙ্গ এক বন্ধু সম্পত্তির নামে আমার বার্থ সার্টিফিকেট বের করেছে। আমার বাবাকে কখনোই বিয়ে না করতে তাদের সম্পর্কটা বৈধ ছিল না। হয়তো মোজেস গামা’কে বিয়ে করা আর আমাকে জন্মদানের জন্য তাকে জেলেও যেতে হত।” বেশ সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জানাল বেন। ছেলেটার মুখে রাগ কিংবা তিক্ততার কোনো ছায়াই দেখল না বেলা। “অফিসিয়ালি তাই আমি বেনজামিন আফ্রিকা। এই নামেই বার্থ সার্টিফিকেট আর সাউথ আফ্রিকান পাসপোর্টও আছে।”
“তোমাকে খানিকটা সাবধান করে দিচ্ছি বেলা। কোর্টনি পরিবার এ বিষয়টা নিয়ে বেশ ক্ষেপে আছে। তোমার বাবা নানা মানে সেনটেইন কোর্টনি ম্যালকম এর স্বামীকে খুন করেছেন।”
“হ্যাঁ, আমি জানি।”
“দক্ষিণ আফ্রিকা তুমি আর আমি কেউ কখনো পরিচিতের মতো আচরণ করতে পারব না।”
“বুঝতে পেরেছি।”
“যদি নানা অথবা বাবা কেউ কখনো তোমার সম্পর্কে জানতে পারে-ওয়েল, কী যে ঘটবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না।”
“আমার কাছ থেকে উনারা কিছুই জানতে পারবেন না।”
“যদি আমার কথা বলো তো, আমিও…” গলার স্বর নিচু করে বেলা জানাল, “বেন, সাবধানে থেকো। আমরা কখনই পরস্পরের তেমন কাছে আসতে পারি নি। তারপরেও তুমি আমার ভাই; তোমার কিছু হোক আমি চাই না।”
“থ্যাঙ্ক ইউ বেলা।” বেনে’র মুখে এখনো হালকা হাসি দেখে বেলা বুঝতে পারল যে এ দূরত্ব কিছুতেই ঘোচাবার-নয়।
তাই বলে চলল, “মাইকেল’কেও জানাব যে তুমি দেশে ফিরছ। কিন্তু বিশ্বাস করো, সম্ভাব্য সব রকমভাবে তোমাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি; তাই দরকার হলেই মাইকেলকে জানাবে। সরাসরি যোগাযোগ না করাই ভালো।”
হঠাৎ করেই হাতের বইটা ফেলে দিয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরল বেলা, “ওহ, বেন বেন! আমরা কতটা ভয়ংকর এক পৃথিবীতে বাস করি। ভাই-বোন হয়েও… এতটা নিষ্ঠুরতা যে কী বলল, আমি ঘৃণা করি। সত্যিই ঘৃণা করি এ সিস্টেম।”
“হয়ত পৃথিবীকে বদলানোর জন্য আমরা সাহায্য করতে পারি।”
বোনের আলিঙ্গনে সাড়া দিয়েই আবার চট করে আলাদা হয়ে গেল বেন আর বেলা।
“অনেক ব্যাপারই আছে, যা কখনো তোমাকে বলতে পারব না বেন। এ শক্তি আমাদের নাগালের বাইরে। বিরোধিতা করতে চাইলেই ধ্বংস হয়ে যাব। ওরা অনেক শক্তিশালী।”
“তারপরেও আমাদের কাউকে না কাউকে তো চেষ্টা করতেই হবে।”
“ওহ, গড, বেন। তুমি তো এভাবে কথা বলে আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছ।”
“গুড বাই, বেলা।” বিষণ্ণ ভঙ্গিতে বলে উঠল বেন। “যদি সবকিছু খানিকটা অন্য রকম হত, আমাদের সম্পর্কটাও হয়ত মধুর হত।” হাতের বই শেঙ্কে রেখেই গট গট করে হেঁটে বের হয়ে গেল বেন। একবারও পেছন ফিরে তাকাল না।
***
জোহানেসবার্গ এলেই গ্যারি আর হোলির বাসায় উঠে ইসাবেলা; কয়েক বছর ধরে এমনটাই হয়ে আসছে।
ফুল-টাইম মা আর স্ত্রী হবার আগে হোলি ছিল দেশের প্রথম সারির স্থপতিদের একজন। ওর নকশা আন্তর্জাতিকে বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড ও পেয়েছে। তাই নিজেদের বাড়ি করার সময়ে তাকে উদার হস্তে বাজেট দিয়েছে গ্যারি। তাই অনিন্দ্য সুন্দর এই বাড়ি ওয়েন্টেভেদ্রেনের চেয়েও বেশি পছন্দ করে বেল।
ছোট্ট লেকের মাঝখানে বানানো মনুষ্য নির্মিত দ্বীপে বসে ব্রেকফাস্ট করে পুরো পরিবার। ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যাবার জন্য তৈরি গ্যারির ছেলে-মেয়েরা আর সবচেয়ে ছোটজন। এক বছর বয়সী নিজের গড-ডটারকে ফিডার খাওয়াচ্ছে বেলা। আর ভেতরটা হাহাকার করছে নিজের অতৃপ্ত মাতৃত্বের জন্য।
টেবিলের মাথায় বসে উজ্জ্বল পোশাক পরিহিত গ্যারি দিনের প্রথম সিগারেটটা ধরিয়েছে। “কে আমাকে কমজোরি বলতে চায়? আমি বুঝি সামান্যতেই আহত হই?” গড ডটারের মুখে চামচ ভর্তি ডিম ঢুকিয়ে দিল বেলা।
“ব্যাপারটা তা না।” বোনকে তোষমোদ করে উঠল গ্যারি। “আজ সকালে আমার পাঁচটা মির্টি আছে, সন্ধ্যায় হোলি’র চ্যারিটি বল।”
তুমি চাইলেই যে কোনো একটা কিংবা সবকিছুই বাতিল করে দিতে পারো।” মনে করিয়ে দিল বেলা।
“দেখো, সেখানে এত এত রাজনীতিবিদ আর জেনারেলরা থাকবেন যে আমি চাইলেই যে কোনো কিছু করতে পারবনা।
“শুধু শুধু বাহানা বানিও না, টেডি বিয়ার, সত্যিটা আমরা সকলেই জানি।”
হোলি’র দিকে তাকাল গ্যারি, “সন্ধ্যায় কখন যেতে হবে যেন?” কিন্তু ননদের পক্ষ নিল হোলি।
“কেন তুমি বেলা’কে দিয়ে এসব জঘন্য ব্যবসার কাজ করাচ্ছ?”
“আমি কিছুই করছি না।” অবাক হয়ে গেল গ্যারি।” এটা পুরোপুরি ওর সিদ্ধান্ত।” হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়েই ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে ফাঁকা গর্জন করে উঠল, “এই যে দুষ্ট ছেলে-পেলের দল, স্কুলের জন্য দেরি হচ্ছে তো!” সারি বেঁধে বাবাকে কিস করে ব্রিজের উপর দিয়ে সৈন্যদের মতো সার্চ করতে করতে চলে গেল পিচ্চিরা।
