“আমার বাবা-মা দুজনেই ছিলেন স্কুলটিচার। ১৯৬৯ সালে কেপ টাউনে মোটর অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছেন।”
“অ্যাম সরি” চোখ নামিয়ে ফাইলের দিকে তাকাল বেলা। নির্ঘাৎ মিথ্যে কোনো বার্থ সার্টিফিকেট নিয়েছেন তারা। যাই হোক আবারো বেনের দিকে তাকাল বেলা, “আশা করছি আমার পরবর্তী প্রশ্নটা নিয়ে আপনি কিছু মনে করবেন না মিঃ আফ্রিকা। যাই হোক, ক্যাপরিক কেমিকেল আর্মসকোরের ডিফেন্স কন্ট্রাকটর। তাই এর সমস্ত কর্মী সম্পর্কেই তদন্ত করে দক্ষিণ আফ্রিকান সিকিউরিটি পুলিশ। তাই খুব ভালো হয় আপনি আমাদেরকে জানান যে কখনো কি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য ছিলেন কিংবা আছেন?”
হেসে ফেলবেন। সৌভাগ্যক্রমে পূর্ব-পুরুষদের সৌন্দর্যের সবটুকুই পেয়েছে এই সুদর্শন তরুণ।
“আপনি কি জানতে চাইছেন যে আমি এএনসি’র সদস্য কিনা?” বিরক্ত হল বেলা।
“অথবা অন্য কোন কট্টর রাজনৈতিক সংগঠন?” বাকা স্বরে উত্তর দিল বেলা।
“আমি কোনোরকম রাজনীতি করি না। ড, কোর্টনি। আমি শুধু একজন বিজ্ঞানী আর প্রকৌশলী। সোসাইটি অব ইঞ্জিনিয়ারস্ এর সদস্য। ব্যস।” আর “ মানে বেন রাজনীতিতে আগ্রহী নয়?
“এরকম সোজাসাপ্টা উত্তরের জন্য ধন্যবাদ যা কিনা পরবর্তীতে যে কোনো করনের অস্বস্তি থেকে আমাদের উভয়কেই রক্ষা করবে। দক্ষিণ আফ্রিকা’তে ভোট দিতে না পারলেও ইংল্যান্ডে আপনি কোনো রকম বর্ণবাদের স্বীকার হচ্ছেন না।”
“হ্যাঁ, আমি জানি।” একমত হল বেন।
“তাহলে এমন একটি দেশে কেন ফিরে যেতে চাইছেন যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হতে হবে আর যে কোনো অর্জনের পরিমাপক হবে আপনার গাত্রবর্ণ?”
“আমি একজন আফ্রিকান ড, কোর্টনি। আই ওয়ান্ট টু গো হোম। নিজের দেশ আর জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। বিশ্বাস করি যে জন্মস্থানে আমার জন্য সুন্দর একটা জীবন অপেক্ষা করছে।”
দীর্ঘক্ষণ একে অন্যের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার পর বেলা মোলায়েম স্বরে জানাল, “আমি এতে কোনো ভুল দেখছি না মিঃ আফ্রিকা। আমাদের সাথে কথা বলতে আসার জন্য ধন্যবাদ। আপনার ফোন নাম্বার আর ঠিকানা রইল। সময় মতো যোগযোগ করা হবে।”
বেন চলে যাবার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত বেলা কিংবা মিকীন কেউ কোনো কথা বলল না। উঠে দাঁড়িয়ে জানালার কাছে চলে গেল বেলা। নিচে তাকাতেই বেন’কে দেখতে পেল। ওভারকোট খুলে উপরে তাকিয়ে বেলা’কে দেখল বেন। বিদায়ের ভঙ্গিতে এক হাত তুলে চলে গেল বেন।
“ওয়েল”, পাশ থেকে বলে উঠলেন মিকীন, “আমরা এর নাম লিস্ট থেকে কেটে দিতে পারি।”
“কেন?” জানতে চাইল বেলা; অবাক হয়ে গেল মিকীন। ভেবেছিল বেলাও তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যাবে।
“ছেলেটার কোয়ালিফিকেশন, অভিজ্ঞতা…”
“গায়ের রঙ?” বলে উঠল বেলা।
“হ্যাঁ, সেটাও। মাথা নাড়লেন মিকীন। “ক্যাপরিকর্নে হয়ত তার নিচে শ্বেতাঙ্গ’রা কাজ করবে। তাই শ্বেতাঙ্গ কর্মচারীদেরকে আদেশ দেয়া, শ্বেতাঙ্গ নারীদের সাথে কাজ করা; ব্যাপারগুলো তেমন ভাল দেখাবে না।”
“কিন্তু অন্যান্য কোর্টনি কোম্পানিতেও না হলেও আরো ডজন খানেক কৃষাঙ্গ ম্যানেজার আছেন।” মনে করিয়ে দিল বেলা।
“হ্যা” তাড়াতাড়ি মেনে নিলেন মিকীন।
“কিন্তু তাদের অধস্তন সকলেই তো কৃষাঙ্গ; শ্বেতাঙ্গ নয়।”
“আমার বাবা আর ভাই কালো’দের উন্নতির ব্যাপারে বেশ সচেষ্ট। বিশেষ করে আমার ভাইয়ের মতে, দেশের মাঝে শান্তি আর ঐক্য স্থাপন করার জন্য, প্রয়োজন সকলের মাঝে দায়িত্ব বোধ গড়ে তোলা আর সমৃদ্ধি অর্জন।
‘আমি’ও এ মত’কে একশ ভাগ সমর্থন করছি।”
“আমার তো মনে হয়েছে মিঃ আফ্রিকা বেশ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন তরুণ। তবে হ্যাঁ বয়সে একটু বেশিই তরুণ। আর অভিজ্ঞতারও ঘাটতি আছে। তাই সিনিয়র পোস্ট হয়ত দেয়া যাবে না, কিন্তু-”।
নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় সাথে সাথে অবস্থান বদলে ফেললেন-মিকীন “আমার ধারণা মিঃ আফ্রিকাকে ডিরেক্টর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পোস্টের জন্য শর্ট লিস্টেড করা যায়।”
“আমারও সেরকমই মনে হচ্ছে। নিজের সবচেয়ে চমৎকার হাসিটা হাসল বেলা।
বিকেল চারটায় শেষতম ক্যান্ডিডেন্ডের ইন্টারভিউ নেয়ার পর বার্কলে হোটেলে ফিরে গেলেন মিকীন। সাথে সাথে মাকে ফোন করল বেলা,
“দ্যা লর্ড কিচেনার হোটেল, গুড আফটারনুন” মায়ের গলা চিনতে পারল। বলে উঠল, “হ্যালো তারা, আমি ইসাবেলা” খানিকটা থেমে আরো জানালো, “ইসাবেলা কোর্টনি, তোমার মেয়ে।”
“বেলা, মাই বেবি। কতদিন হয়ে গেছে অন্তত আট বছর। আমি তো ভেবেছিলাম যে তুমি তোমার বুড়ি মাকে ভুলেই গিয়েছে” ইসাবেলাকে সবসময় অপরাধবোধে ফেলে দেন এই নারী। আমতা আমতা করে বেলা জানাল, “অ্যায়াম সরি, তারা। এত ব্যস্ততা, জানোই তো…”
“হ্যাঁ। মিকি জানিয়েছে যে তুমি কতটা বুদ্ধিমান আর সফলতার সাথে দায়িত্বও পালন করছ। তুমি তো নাকি এখন ড, কোর্টনি আর একজন সিনেটর” হঠাৎ করেই ফেটে পড়লেন তারা, “কিন্তু বেলা, এসব বর্ণবাদী হামবড়া ভাব দেখানো জাতী পার্টির বুড়োরগুলোর সাথে তুমি কী করো? কোন সভ্য সমাজ হলে এতদিনে জন ভরস্টারের কোনো পাত্তাই থাকত না।”
“তারা, বেন আছে?” মা-কে থামিয়ে দিল বেলা।
“আমি তো ভেবেছিলাম যে আমার মেয়েটা হয়ত আমার সাথেই কথা বলতে চেয়েছে তারা’র কণ্ঠে ঝড়ে পড়ল বিষণ্ণতা। “ঠিক আছে বেন’কে ডেকে দিচ্ছি।”
