রিপোর্টে ইসাবেলা আরো জানাল যে পুমা হেলিকপ্টারস আর ইম্পালা জেট ফাইটারস ডেলিভারী ভেহিকেল হিসেবে কাজ করবে। দুটিই দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ারফোর্সের অংশ। এছাড়া খুব শীঘ্রই শুরু হবে ১৫৫ গ্রাম এম এম সি ডব্লিউ ই আর এফবি কার্গো তৈরির নকশা আর টেস্ট করার যাবতীয় প্রস্তুতি। সর্বোচ্চ পঁয়ত্রিশ কি.মি. রেঞ্জে এগারো কিলো সিনডেক্স-২৫ ডেভিভারী করবে এই শেল।
এহেন তথের গুরুত্ব কতটা তা খুব ভালো ভাবেই জানে লাল গোলাপ। তাই ছাব্বিশ পৃষ্ঠা রিপোটের একেবারে শেষ লাইনে লিখল,
“যত দ্রুত সম্ভব ছেলের সাথে দেখা করতে চায় লাল গোলাপ।”
উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করল উত্তর পাবার জন্য। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখা গেল না।
সময় যাবার সাথে সাথে কোনো রিপ্লাই না পেয়ে সত্যি সত্যি চিন্তায় পড়ে গেল বেলা। তাই ভাবল দেখা করতে চাওয়াটা হয়ত তার অধৈর্য আর উদ্ধত আরচণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে। তাই দ্বিতীয় মাস শেষে ক্ষমা চেয়ে মেসেজ পাঠিয়ে দিল লন্ডনের ঠিকানাতে।
“লাল গোলাপ সাক্ষাতের জন্য পীড়াপীড়ি করাতে যারপরনাই অনুতপ্ত। অপেক্ষা করছে পরবর্তী নির্দেশ পাবার জন্য।”
আরো এক মাস কেটে যাবার পর এলো সেসব আদেশ।
ইসাবেলাকে যে কোনো মূল্যে সিনডেক্স প্ল্যান্টের জন্য কর্মী নিয়োগ আর বাছাই কল্পে ব্রিটেন আর ইস্রায়েলে পাঠানো ক্যাপরিকন টিমে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।
কেমন করে এই অসাধ্য সাধন করা যায় ভেবে অস্থির হয়ে গেল বেলা। গ্যারি’কে কী এমন বলবে যাতে করে বোনের উপর কোনো সন্দেহও করবে না? তবে পরবর্তী বোর্ড মিটিঙে ব্যাপারটার এত সুন্দর একটা সমাধান হয়ে গেল যে বিস্মিত হলো বেলা।
এজেন্ডাতে না থাকলেও মিটিঙে রিক্রুটমেন্টের ইস্যু উঠতেই পুরো বিষয়টা নিয়ে বেলা এত সুনিপুণ ভাষা আর যুক্তি দিয়ে সাজানো নিজের মতামত তুলে ধরল যে গ্যারি আপনা থেকেই বলে ফেলল : “সম্ভবত তোমাকেই এ দায়িত্ব দিয়ে পাঠাতে হবে, কোর্টনি।”
অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখিয়েই কাঁধ ঝাঁকাল ইসাবেলা, “কেন নয়? আমার কিছু শপিংও হয়ে যাবে কয়েকটা নতুন ফ্রক কিনতে হবে।”
“টিপিক্যাল উম্যান” দীর্ঘশ্বাস ফেলল গ্যারি; ছয় সপ্তাহ পরেই আবার কাভোগন স্কয়ারের ফ্ল্যাটে চলে এলো বেলা। ফ্ল্যাটের চাইনিং রুমে নেয়া হলো সব ইন্টারভিউ।
যে রাতে লন্ডনে পৌঁছালো, উড়ো একটা ফোন কল পেল বেলা। তবে মেসেজটা স্পষ্ট, “লাল গোলাপ, কাল তুমি বেনজামিন আফ্রিকার ইন্টারভিউ নেবে আর সে যেন অবশ্যই সিলেক্ট হয়ে যায়।”
ফাইলের অ্যাপ্লিকেশনগুলো চেক করতেই দেখা গেল বেনজামিন আফ্রিকার জন্ম হয়েছে কেপ টাউনে অন্যতম দাবিদার সে। কিন্তু অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিকেশন থাকা সত্ত্বেও ছোকরা একেবারেই ইয়াং। যাই হোক জুনিয়র পোস্ট থাকাতে বেলার জন্য কাজটা সহজ হয়ে গেল।
কিন্তু কাতোগান স্কয়ারের ফ্ল্যাটে সকাল এগারোটায় বেনজামিন আফ্রিকাকে দেখে আতঙ্কে জমে গেল বেলা।
কৃষাঙ্গ এই যুবক আর কেউ নয়, তার সৎ ভাই যাকে সে বেন গামা নামে চেনে।
এতটাই আতঁকে উঠল যে মুখ থেকে কোনো কথাই বের হল না। ওয়েভ্রেদেনের এক অন্ধকার ছায়ার নাম তারা কোর্টনি-কেউই সেখানে এ নাম উচ্চারণও করে না; তাই বেলা’কে কিনা তারই সন্তানকে কোর্টনি কোম্পানিতে চাকরি দিতে হবে? নানার তো হার্নিয়া হয়ে যাবে, বাবা আর গ্যারি…।
ভাগ্য ভালো যে ইসাবেলা’র সঙ্গী সি সি আই পার্সোনেল ম্যানেজার নিজেও বেনজামিনের গায়ের রঙ নিয়ে বিরক্ত হওয়াতে খানিকটা সময় পাওয়া গেছে। নিজেকে ধাতস্থ করে নিলো বেলা। অন্যদিকে চুপচাপ রইল বেনজামিন।
হঠাৎ করেই নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনাস্বরূপ লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন সি সি আই ম্যানেজার। বেনজামিনের সাথে হাত মিলিয়ে জানালেন,
“আমি ডেভিড মিকীন, সিসিআই পার্সোনাল হেড। আপনার সাথে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।” লোকটা বিড়বিড় করতে করতে বেনজামিনের দিকে চেয়ারও এগিয়ে দিল,
“আপনার সি ভি পড়ে আমরা মুগ্ধ-সত্যি মুগ্ধ।”
বেনজামিনকে সিগারেট অফার করল মিকীন। “ইনি হচ্ছেন সি সি আই ডিরেক্টর ড. কোর্টনি।”
সিট থেকে খানিকটা উঠে মাথা নোয়ালো যেন, “হাউ ডু ইউ ডু, ম্যাম?”
কথা বলার সাহস পেল না বেলা। মাথা নেড়েই বেনজামিনের আবেদন পত্রে চোখ নামিয়ে নিল। ইন্টারভিউ নিলেন মিকীন।
এরই মাঝে নিজের প্ল্যান সাজিয়ে ফেলল বেলা। আফ্রিকা পদবী যদি সেই চিনতে না পারে তাহলে কোর্টনি পরিবারের আর কারো চেনার কথাই নয়। উপরন্তু মাইকেল ব্যতীত বেন গামা’কে ওয়েল্টেভ্রেদেনের আর কেউ দেখেওনি। সুতরাং একটা শহরের শত শত ফ্যাক্টরির একটাতে জুনিয়র অ্যামপ্লয়ী হিসেবে ঢোকা বেন’কে নিয়ে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হবে না।
আর কোনো প্রশ্ন না থাকাতে ইসাবেলার দিকে তাকালেন মিকীন। “আপনি তো কেপ টাউনে জন্মগ্রহণ করেছেন মিঃ আফ্রিকা, তাহলে কি এখনো সে দেশের নাগরিকত্ব আছে? নাকি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন?”
“না, ড, কোর্টনি মাথা নাড়ল বেন।
“আমি এখনো একজন সাউথ আফ্রিকান। লন্ডনের সাউথ আফ্রিকা হাউজ আমার জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করে।”
“গুড। আপনার পরিবার সম্পর্কে কী কিছু বলা যাবে? তারা কি এখনো দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকেন?”
