অবশেষে মরিশাসকেই বেছে নেয়া হয়েছে। শাসামেইন কেনার পরেও দশ বছর পার হয়ে গেছে। মরিশাস সরকার আর দ্বীপের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথেও উনার চমৎকার সম্পর্ক আছে।
অসুস্থ হয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত ব্রুনো পিগটেলি নিজেও নিয়মিত মরিশাসে মাছ ধরতে আসতেন। তাই দ্বীপের সকলেই এলসা’কে চেনে আর সম্মান করে। মেইসন ডেস আলিজোসে এলসা’র আগমন নিয়ে তাই কারো কোন মাথা ব্যথাই নেই।
টপ ফ্লোরে পৃথক হলেও ইন্টারকানেকটেড দু’টি স্যুইটে থাকেন শাসা আর এলসা। লোক দেখানো এই ব্যাপারটাতে বেশ মজা পায় পুরো পরিবার। পুলের পাশের লনে সকলে তাই এ জুটিরই অপেক্ষা করছে। ইভনিং ককটেলের সময় হয়েছে।
শাসাকে গোসল করিয়ে ক্ষতস্থানে মলম লাগিয়ে দিয়েছেন এলসা। তাই খানিকটা খুঁড়িয়ে হাঁটলেও বেশ তরতাজা বোধ করছেন শাসা। একসাথে দু’জনকে সিঁড়ি বিয়ে নামতে দেখে চোখে দুষ্টুমি নিয়ে জানতে চাইল গ্যারি, “শয়তানগুলোর দিকে দেখো, মনে হচ্ছে যে তারা শুধুই ভালো বন্ধু?” একে অন্যের দিকে তাকালো হোলি আর বেলা। এমনকি হাসি লুকোতে জাপানিজ পাখা দিয়ে মুখ ঢাকলেন সেনটেইন কোর্টনি।
সিনেটের অধিবেশন চললেও মেইসন ডেস আলিজেসে ইসাবেলার না। আসার কোনো কারণ-ই নেই। চিজোরা ট্রিপের পর থেকেই সি সি আই’র ব্যাপারে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে বেলা। সিনেটের এগ্রিকালচার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নিয়োগ পাবার পর গ্যারি’কে কিছু হিন্টস্ দিতেই সি সি আই বোর্ডে জায়গা পেয়ে যায় বেলা। ক্যাপরিকর্নের ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় বেলা একটিও মিটিং মিস করে না। সিনডেক্স নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করাতে বাধা দেয়নি গ্যারি।
একই সাথে হোলি আর বাচ্চাদেরকেও নিয়ে এসেছে। টেকনিক্যাল ডিসকাশনস নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও পরিবারের সাথে অবকাশ যাপনের সুযোগও হারাতে চায় না গ্যারি। পৌত্র-পপৗত্রিদের কাছ থেকে দূরে থাকতে নারাজ সেনটেইনও তাই ল্যানসেরিয়া প্রাইভেট এয়ারপোর্ট থেকে লিয়ারে চড়ে বসেছেন।
বস্তুত পুরো পরিবার আর তাদের লাগেজ থাকায় জায়গাই পাননি ক্যাপরিকর্নের ডিরেক্টরের দল। বাধ্য হয়েছেন কমার্শিয়াল ফ্লাইট ধরতে।
শাসা আর এলসা নেমে আসতেই ক্রুগের ফোয়ারা ছুটল পুরো পার্টি জুড়ে; একই সাথে পিঠ চাপড়ানো, হ্যান্ডশেক আর চিৎকার চেঁচামেচির জ্বালায় কান পাতা দায় হয়ে উঠল।
লিয়ার পাঠিয়ে জোহানেসবার্গ থেকে ইমপেরিয়াল ক্যাভিয়ার, ক্রুগ, ফ্রেশ ফুট আর বেবী ফুড আনিয়েছেন সেনটেইন। সাথে এনেছেন ফাইব স্টার বীচ রিসোর্টের সুপ্রশিক্ষিতি স্টাফ।
আগের দিন সন্ধ্যায় সেনটেইনের সাথে দেখা করেছেন এলসা। ক্লান্ত থাকলেও একে অন্যের সাথে সহজেই মিশে গেছেন সেনটেইন আর এলসা। প্রথমে খানিক জরিপ করে নিয়ে হেসে হাত বাড়িয়েছেন সেনটেইন, “তোমার ব্যাপারে শাসা অনেক ভালো ভালো কথা বললেও বুঝতে পারছি সত্যিটুকুর অর্ধেকও জানায় নি।” সেনটেইনের ইটালিয়া ভাষায় দক্ষতা আর প্রশংসা শুনে হেসে ফেললেন এলসা।
“আমি জানতাম না যে আপনি ইটালীয় ভাষা জানেন সিগনোরা কোর্টনি ম্যালকমস।”
“দু’জনের এমন আরো অনেক কিছুই জানে যা আমরা জানি না।”
মাথা নাড়লেন সেনটেইন।
“আই লুক ফরওয়ার্ড টু দ্যাট “ উত্তর দিলেন এলসা। এখন পাটিতে এসে তাই সহজভাবেই সেনটেইনের দিকে এগিয়ে গেলেন এলসা।
ওয়েল, এলসা’র সাথে হাত মিলিয়ে ভাবলেন সেনটেইন, খুঁজে পেতে অনেক দেরি করলেও শাসা’র অপেক্ষা সার্থক হয়েছে।
একে অন্যের পেছনে ছোটাছুটি করে খেলছে গ্যারির ছেলেমেয়েরা। তাদের আনন্দ দেখে যারপরনাই বিরক্ত শাসা। “আমার মনে হচ্ছে দিনকে দিন আমি অষ্টম হেনরীর মতো হয়ে যাচ্ছি-ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে বেশি ভালো লাগে না।”
“আমার যতদূর মনে পড়ে এই বয়সে তুমিও এমন চঞ্চল ছিলে।” নাতি নাতনীদের সমর্থনে জোর গলায় বলে উঠলেন সেনটেইন।
“তাহলে তুমি আমাকে তেলের মাঝে সেদ্ধ করে ফেলার কথা ছিল। আর মা, তুমিও দিনকে দিন বেশি বেশি স্নেহ প্রবণ হয়ে যাচ্ছ।”
হেসে ফেললেন সেনটেইন। পিগটেলি ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে গল্পে ব্যস্ত ইসাবেলার দিকে এগিয়ে গেলেন শাসা।
চারপাশে তাকিয়ে কেমন বিবমিষা বোধ করল বেলা। সবাই হাসছে। চিৎকার করছে। সম্রাজ্ঞীর মতো সবকিছুর দরবার বসিয়েছেন সেনটেইন। হোলি আর এলসা’র পরনের মহামূল্যবান সিঙ্ক আর শিফনের দাম যে কোনো শ্রমিকের এক বছরের বেতনের সমান। অথচ ওর ছোট্ট নিকোলাস কমব্যাট ক্যামোফ্লেজ পোশাক পরে হাতে যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করে; সেন্য আর সন্ত্রাসীরা-ই হলো তাঁর সঙ্গী।
বেলা নিজে ফ্লার্ট করছে মাঝ বয়সী এক টাকলুর সাথে; যার সাথে মুদি দোকানদার কিংবা বার ম্যানের কোনো তফাৎ নেই। অথচ এই মুখোশের আড়ালে মৃত্যু নিয়ে খেলছে লোকটা আর এটাই হলো বাস্তবতা।
টেডি বিয়ার বড় ভাই আর বাবার দিকে তাকিয়ে হাসছে বেলা অথচ মনে মনে ষড়যন্ত্র করছে কিভাবে তার পরিবার আর দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা যায়। এই সুন্দরী আর সফল বুদ্ধিমান তরুণীর হাতেই আছে ভবিষ্যৎ আর তার চারপাশের পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ।
“একবারে মাত্র একটি দিন নিজেকে সাবধান করল বেলা,
“প্রতি পদক্ষেপে মাত্র এক পা।” আর পরের পদক্ষেপ হলো সিনডেক্স ২৫ প্রজেক্ট।
