“ডাউন” হঠাৎ করেই চিৎকার জুড়ে দিল মাতাতু। ঘন-জঙ্গল ভেদ করে সামনেই দেখা যাচ্ছে কিডনির মতো গড়নের অগভীর ভূমি।
খুব সাবখানে ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলো অ্যালোয়েট। গর্তের পাশে ল্যান্ডিং জোন দেখিয়ে দিল মাতাতু।
উই-টিবিতে ভর্তি মাটির ঝোঁপ-ঝাড়গুলোও বেশ ঘন। ঠিক যেন একটা কবরস্থান। এখানে ল্যান্ডিং ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। পিচ্ছি শয়তানটা এ কোন জায়গা বেছে নিল, মনে মনে রাগ করল শন।
হেলিকপ্টার মাঝ আকাশে থাকতেই রোল্যান্ডের দিকে তাকাল শন, “হট গানস্ ম্যান!”
মাতাতুর সাথে মাটিতে লাফিয়ে নেমেই উইটিবির পেছনে কাভার নিল শন।
অন্য স্কাউটদের দিকে দৃকপাত না করেই তাক করল এফএন; বুড়ো আঙুল দিয়ে ধরে রেখেছে সেফটি লক। ল্যান্ডিং জোনের পাঁচ মাইলের মাঝে কোনো সন্ত্রাসী থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত হলেও এটাই ওদের ল্যান্ডিং ড্রিল।
“একটার’ও পাত্তা নাই।” আপন মনে ভাবল শন; আর ঠিক তখন শুরু হল গুলি বর্ষণ।
বামপাশের কাঁটাঝোঁপ থেকে ছুটে আসছে একে’র গুলি। মাথার উপর দিয়ে অবিরাম শিষ কেটে যাচ্ছে মৃত্যুদূত। শ’নের থেকে মাত্র ইঞ্চি খানেক দূরের উই ঢিবি থেকে ছিটকে উঠল ধুলা আর লাল মাটির দলা।
হেলিকপ্টারের হ্যাচ গলে মাটিতে নেমে আসা শেষ স্কাউটের পেট এফোড় ওফোড় করে দিল একে রাইফেলের গুলি। গড়িয়ে গিয়ে তিন কদম পেছনে পড়ে গেল অসাড় দেহ। গোলাপি মাংসের দলা হয়ে চলে গেল ঝোঁপের আড়ালে।
চট করেই বুঝতে পারল শন; মাতাতু একেবারে খোদ শয়তানগুলোর মাঝে এনে ফেলেছে। চিন্তাবাদ দিয়ে এফএন দিয়ে গুলি ছুড়ল শন্। পিচ্ছি শয়তানটা এবারে দেখিয়েছে বটে!
একই সাথে কনট্যাক্টদের কথাও ভাবছে। কোনো ভুল নেই যে তারাও ভড়কে গেছে। তাই ডিফেন্স কিংবা অ্যামবুশ কিছুরই সময় পায়নি।
অভিজ্ঞতা থেকে শন জানে যে শোনা গেরিলারা সৈন্য হিসেবে একেবারে ফাস্ট ক্লাস, বলব, সাহসী আর প্রাণ দিতেও পিছপা হয় না। কিন্তু দুর্বলতাও আছে। প্রথমত তাদের ফায়ার কন্ট্রোল ভালো না আর দ্বিতীয়ত খুব দ্রুত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না। শন ভালো করেই জানে যে, মিনিট খানেকের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়বে কাঁটা ঝোঁপের পেছনে লুকিয়ে থাকা গেরিলা দল।
কোমরের বেল্ট থেকে ফসফরাসের গ্রেনেড় টেনে নিল শন। পিন খুলতে খুলতেই রোল্যান্ডের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানাল, “কাম অন রোল্যান্ড, কিছু বোঝার আগেই ঘাসগুলোকে সমান করে দিতে হবে।”
একই চিন্তা নিশ্চয়ই রোল্যান্ডের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। “টেক দেম বয়েজ! অন দ্য চার্জ!”
লাফ দিয়ে দাঁড়িয়েই হাত ঘুরিয়ে গ্রেনেডটাকে ছুঁড়ে মারল শন। ত্রিশ গজ দূরে পড়েই কাটা ঝোঁপটাকে ফসফরাসের সাদা মেঘে ঢেকে দিল গ্রেনেড। পুরো এলাকায় শুরু হলো অগ্নি বৃষ্টি।
সামনের দিকে ছুটল শন, পায়ের কাছে কালো ছায়ার মতো অনুসরণ করছে মাতাতু।
রাইফেল-টাইফেল ফেলে প্রাণ ভয়ে দৌড়াচ্ছে সন্ত্রাসী দল। শ’নের দশ কদম সামনে ঝোঁপের ভেতরে উবু হয়ে বসে আছে এক কিশোর। পরনে রঙচটা ব্লু জিন্স আর নরম ক্যামোফ্লেজ ক্যাপ। হাতে আর মাথায় ধোঁয়া উঠা কালো দাগ; গন্ধ মনে হচ্ছে মাংসের বার-বি-কিউ করা হচ্ছে।
গুলি ছুড়ল শন; কিন্তু খানিকটা নিচে লাগায় বাম কোমরে আঘাত পেয়ে পড়ে গেল ছেলেটা। রাইফেল ফেলে দিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলে উঠল,
“না, ম্যাম্বো! ডোন্ট কিল, মি! আমি খ্রিস্টান-ঈশ্বরের দোহাই, আমাকে ছেড়ে দাও!”
“মাতাতু” কোন দিকে না তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল শন’
“কুফা!”
পঙ্গু গেরিলার উপর ঝাঁপ দিয়ে পড়ল মাতাতু। এফএনের ম্যাগাজিন প্রায় খালি হয়ে যাওয়ায় গুলি নষ্ট করতে চায় না শন্। তারচেয়ে ছুরি দিয়েই কাজ চালিয়ে দেবে মাতাতু। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ফলাটাতে শান দেয় ডোরাবো ট্যাকার। ছোট্ট এই কিশোর ওদের কোনো কাজে লাগবে না; উপরন্তু মেডিকেল অ্যাটেনশনও পাওয়া যাবে না।
দুই মিনিটেরও কম সময়ে ময়দান ছেয়ে ফেলল স্কাউটের দল। পুরোটাই হয়ে গেল এক তরফা। মনে হল বন্য কুকুরের সামনে পড়েছে একদল পিকেনিজ কুকুর ছানা।
“পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।” আদেশ দিলেন রোল্যান্ড ব্যালানটাইন। শনের কাছ থেকে বিশ গজ দূরে দাঁড়িয়ে রাইফেলের মাজল তাক করেছেন আকাশে। “ওয়েল ডান, শন। তোমার ছোট্ট কালো বামনটা খেল দেখিয়েছে একখানা।” আড়চোখে তাকালেন মাতাতুর দিকে।
কোমরের গুলি খাওয়া সন্ত্রাসীর মৃতদেহ রেখে উঠে দাঁড়াল মাতাতু। গলার একপাশ দিয়ে ছুরি ঢুকিয়ে টেনে নিয়ে গেছে কানের করোটিড আর্টারি পর্যন্ত।
ঊরুতে নিজের ছুরির ফলা মুছতে মুছতে শনের পাশে এসে দাঁড়াল মাতাতু। রোল্যান্ড ব্যালান্টাইনের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। ভালই বুঝেছে যে কর্নেল কী বলেছেন।
ফসফরাসের আগুন লেগে মাংস আর কাপড়ের দলা হয়ে পড়ে আছে আরো কয়েকজন গেরিলা। একবার’ও না তাকিয়ে পাশে দিয়ে হেঁটে গেলেন রোল্যান্ড ব্যালান্টাইন।
***
কিন্তু হঠাৎ করে নড়ে উঠল একজন। গুঁড়ো হয়ে যাওয়া বুকের নিচে লুকিয়ে রেখেছে একটা তোকারেভ পিস্তল। শরীরের শেষ শক্তিটুকু একত্র করে রোলান্ডের দিকে তাক করল নিশানা।
“রোল্যান্ড!” দেখতে পেয়েই চিৎকার করে উঠল শন। রোল্যান্ড নড়ে উঠলেও দেরি হয়ে গেল; মাত্র তিন ফুট দূরত্ব থেকে এখনি ধ্বংস হয়ে যাবেন রোল্যান্ড।
