কর্নেলের পাশে ধপ করে বসে পড়ল শন। সিট বেল্ট বেঁধে নিয়ে মুখে ক্যামোফ্লেজ ক্রীম ঘষতে ঘষতে চিৎকার করে উঠল, “গ্রিটিংস, স্কীপার। এবারে কী করেছে শয়তানগুলো?”
“গতকাল সন্ধ্যার দিকে কারোই’র একটা তামাক খামারে ঢুকে পড়েছে বদমাইশের দল। গেইটের কাছে কৃষককে আটকে ফেলে গুলি করে। ঠিক সেই সময় খামারির স্ত্রী আবার বারান্দায় এসেছিল স্বামীকে অভর্থনা জানানোর জন্য। তবে মহিলা একাই সারা রাত ওদেরকে ঠেকিয়ে রেখেছে- এমনকি রকেট ফায়ার ছোঁড়া হলেও ভয় পায়নি। সাহস বটে! মাঝরাতের খানিক পরে বাধ্য হয়ে পিছিয়ে এসেছে।”
“কত জন?”
“বিশজনের বেশি।”
“কোন দিকে?”।
“উপত্যকার উত্তরে।”
“যোগাযোগ?”
“এখনো না।” মাথা নাড়লেন রোল্যান্ড। ক্যামো ক্রিম মাখা সত্ত্বেও ঢাকতে পারেননি উজ্জ্বল আর সুদর্শন দেহসৌষ্ঠব। শনের চেয়ে বছর পাঁচেকের বড় কর্নেল বুশ ওয়ার শুরুর কিছুদিনের মাঝেই সাহসিকতার জন্য বিখ্যাত হয়ে গেছেন।
“লোকাল ইউনিট অনুসরণের চেষ্টা করলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে এগোতে পারছে না।”
“বোমা ফাটিয়ে শয়তানগুলো নিশ্চয় স্থানীয় কৃষাঙ্গদের মাঝে মিশে যেতে চাইবে, ট্রাইবাল ট্রাস্ট এরিয়াই এক্ষেত্রে ওদের লক্ষ্য হবে। আমাদেরকে ফলোআপ ইউনিটের কাছে নিয়ে চলো স্পিকার।” ভবিষ্যৎবাণী করে উঠল শন।
“হুম, যে কোনো মুহূর্তেই রেডিওতে আপডেট পাবো-” ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার সত্যি সত্যি রেডিও হ্যান্ডসেট নিয়ে হাজির হলো, “কাম অন।” সেফটি বেল্ট খুলে বেঞ্চের ফাঁকে চলে গেলেন কর্নেল। শন নিজেও তার পিছু নিয়ে কান পেতে শুনতে চাইল মাইক্রোফোনের আলাপচারিতা। “বুশ বা দিস্ ইজ স্ট্রাইকার ওয়ান।” মাউথপিসে কথা বলছেন রোল্যান্ড।
“কোনো যোগাযোগ হয়েছে?”
“স্ট্রাইকার ওয়ান, নেগেটিভ। আবার বলছি নেগেটিভ।”
“কোনো পদচিহ্ন খুঁজে পেয়েছ বুশ-বাক?”
“অ্যাফারমেটিভ; কিন্তু অতর্কিত আক্রমণ করা হচ্ছে বারবার। তার মানে সন্ত্রাসী দলটা পিছু ধাওয়াকারীদেরকে সরিয়ে দিতে চাইছে। “রজার, বুশ বাক, আমাদের ইঞ্জিনের আওয়াজ শোনা মাত্রই হলুদ ধোঁয়া ছাড়বে।”
“কনফার্ম ইয়েলো স্মোক, স্ট্রাইকার ওয়ান।“
পয়তাল্লিশ মিনিট পরেই জঙ্গলের ঘন সবুজ ছাদের উপর ক্যানারি হলুদ ধোয়ার সিগন্যাল দেখতে পেল পাইলট। গাছের উপর গিয়ে পুলিশ ইউনিটকে খুঁজতে লাগল হেলিকপ্টার। এক নজর দেখেই বোঝা গেল যে এরা কারোই গ্যারিসনের সৈন্য। মাসিক বেতনভুক্ত এসব শহুরে সৈন্য ডাক পেলেই কেবল দায়িত্ব পালন করতে আসে; সন্ত্রাসী দলে’র পিছু নেয়া এদের কর্ম না।
ছয় ফুট উপর থেকে একসাথে মাটিতে লাফিয়ে নামল শন আর মাতাতু; ঠিক যেন এক জোড়া বিড়াল। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কাভার নিল দু’জনে; দুইশ ফুট উপরে পাখা ঘুরিয়ে চলে গেল হেলিকপ্টার।
পনের সেকেন্ডের মাঝেই নিশ্চিত হওয়া গেল যে ড্রপ এরিয়াকে নিরাপত্তা দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। লিডারের দিকে এগিয়ে গেল শন।
“ওকে সার্জেন্ট, বোতল খুলুন। ড্রিংক ম্যান ড্রিংক।”
অতিরিক্ত ওজনের সার্জেন্টের লাল মুখটা সূর্যের তাপে একেবারে পুড়ে গেছে। শার্টের উপর সাদা সাদা রিং হয়ে জমে আছে নোনা ঘাম। বোঝা গেল ডিহাইড্রেশন সম্পর্কে কিছু জানেন না; ঘণ্টাখানের মাঝেই চোখে মুখে অন্ধকার দেখবেন।
“পানি শেষ।” বলে উঠল তিতিবিরক্ত সার্জেন্ট। ওয়াটার বোতল ছুঁড়ে দিয়ে শন জানতে চাইল, “পদচিহ্ন কোথায় পাওয়া গিয়েছিল?”
সামনের দিকে ইশারা করলেন সার্জেন্ট কিন্তু এরই মাঝে পায়ের ছাপ খুঁজে পেয়েছে মাতাতু। মাথা নামিয়ে এমনভাবে দেখতে লাগল যা খুঁজে পাওয়া তার মতো ট্যালেন্টেড কারো পক্ষেই কেবল সম্ভব। পঞ্চাশ কদম পর্যন্ত অনুসরণ করে দৌড়ে দৌড়ে ফিরে এলো শনের কাছে।
“পাঁচজন। একজনের আবার বাম পা আহত হয়েছে…”
“ফার্মারের বউ নিশ্চয় এমন ধাওয়া দিয়েছে যে।”
“…কিন্তু চিহ্নগুলো একেবারে ঠাণ্ডা। স্প্রিং হেয়ার খেলতে হবে।” মাথা ঝকালো শন। সে আর মাতাতু আগেও কাজে লাগিয়েছে এই স্প্রিং হেয়ার কৌশল। আর মাতাতুর মতো দক্ষ কোনো ট্র্যাকারই পারে এথেকে আসল জিনিস খুঁজে পেতে।
তবে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে সন্ত্রাসীদের দলটা উত্তরে জাম্বোজি আর ট্রাইবাল ট্রাস্ট অঞ্চলের দিকেই গেছে; যেখানে খাবার আর পানির পাশাপাশি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসাও করানো যাবে। একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের নল দেখলে সবাই বাধ্য হবে তাদেরকে সাহায্য করতে।
তার মানে শনদেরকেও এখন উত্তরেই যেতে হবে। কিন্তু সামনে পড়ে আছে অত্যন্ত বন্য এক অরণ্য। দুর্গম এই অঞ্চলে কেউ লাইন থেকে কয়েক ডিগ্রি সরে গেলেই হলো, তার নাম-নিশানাও আর পাওয়া যাবে না।
খোলা জায়গায় দৌড়ে গিয়ে হাত দিয়ে ক্রুশ বানিয়ে মাথার উপর ঘুরতে থাকা অ্যালোয়েটকে সিগন্যাল দিল শন। সাথে সাথে হেলিকপ্টার থেকে উত্তর পাওয়া গেল,
“ওকে সার্জেন্ট” চিৎকার করে উঠল শন, “তাদের পিছু নিন। আমরাও সামনেই যাচ্ছি। রেডিওতে কন্ট্রাক্ট করবেন-আর পানি খেতে যেন ভুলবেন না।”
“রাইট অন, স্যার!” হেসে ফেলল সার্জেন্ট। শনে’র সঙ্গ পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠছে পুরো দল।
“ওদেরকে নরক দেখিয়ে দিন-স্যার!” শন’কে আকুতি জানালো সার্জেন্ট। অ্যালোয়েটের খোলা হ্যাচ থেকে হাত নাড়ল শন্।
