বাবা’র পক্ষ নিয়ে বলতে চাইল বেলা, ড্যাডি তো এখনো বেশ আকর্ষণীয়-”
“থামো, বেলা।” বোনের হাতে চাপ দিল শন। “স্যার ক্লারেন্সের কথা ভাবো। লোকে তাকে এমনি এমনি ক্যান্টরিং ক্লারেন্স মানে ঘোড়া দৌড়ানো ক্ল্যারেন্স ডাকে না!”
মনে হলো নিজের নামের খ্যাতি অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর স্যার ক্লারেন্স। হঠাৎ করেই ছুটে এসে বেলাকে একপাশে সরিয়ে নিয়ে গেলেন।
“অন্যদেরকে স্যালিসব্যুরিতে নামিয়ে দেব।” বেলা’র কাছে ঝুঁকে বিড়বিড় করে জানালেন স্যার ক্লারেন্স। “তারপর হেলিকপ্টার আমাদেরকে র্যাঞ্চে নিয়ে যাবে। ঠিক আছে?”
“হুম ঠিক আছে।” মিষ্টি স্বরে রাজি হয়ে গেল বেলা, “পাপা কিংবা লেডি ভান উইক না থাকলেই বেশি মজা হবে।”
“ঠিক তাই।” একমত হলেন স্যার ক্লারেন্স; আরো কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। শ’নের তাঁবুতে কর্কশ শব্দে বেজে উঠল রেডিও।
দৌড়ে গিয়ে রিসিভার তুলে নিল শন্।
“টাগবোট, দিস ইজ বিগ ফুট, গো এহেড।”
“বিগ ফুট, আমাদের প্ল্যান খানিকটা চেঞ্জ হয়েছে। প্লিজ মিনিস্টারকে জানিয়ে দিন যে হেলিকপ্টার নিয়ে অপারেশনে যেতে হবে। মোল মিনিটের মাঝে অন্য হেলিকপ্টার পৌঁছে যাবে। আমার কপ্টারে দশ জন স্কাউট আছে। ওভার।”
“রজার টাগবোট। আমরা পিক আপের জন্যে তৈরি থাকবো।”
“যুদ্ধ যে এত বাজে!” দীর্ঘশ্বাস ফেললেন স্যার ক্লারেন্স। রেডিও’র আলাপচারিতা সবকিছুই সকলে শুনতে পেয়েছে। “আরেকটা চপার না আসা পর্যন্ত এখানেই বসে থাকতে হবে।”
“কী হয়েছে?” জানতে চাইল বেলা।
“সন্ত্রাসী হামলা।” ব্যাখা করলেন স্যার ক্লারেন্স। “সম্ভবত শ্বেতাঙ্গদের কোনো খামারে আক্রমণ হয়েছে। ওদের পিছু ধাওয়া করছে হেলিকপ্টার। এসব বেজন্মাদের তো এমনিই ছেড়ে দেয়া যায় না-কৃষকদের মনোবল ঠিক রাখতে হবে।”
রোডেশিয়ান এয়ারফোর্সে মিলিটারি হেলিকপ্টারের কমতি’র কথা না বলে কাঁধ ঝাঁকালেন স্যার ক্লারেন্স।
“মনে হচ্ছে ভাগ্যও আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”
“হয়ত তাহলে আমাদের ট্রিপটাকেও স্থগিত-” তাবু থেকে শনকে বেরোতে দেখেই থেমে গেল বেলা। হালকা পারস্যুট হার্নেশ পরে আছে শ ক্যানভাসের পকেটে অ্যাম্বুনিশন গ্রেনেড আর পানির বোতল রাখার জায়গা আছে। এক কাঁধে ঝুলছে এফ এন রাইফেল। চিৎকার করে উঠল শন “মাতাতু, গণ্ডারের চামড়া জলদি, এখানে আয়। এবারে আমাদের সত্যিকারের কাজ পেয়েছি। বদমাইশগুলোর পিছু নিতে হবে।”
মুখে একরাশ হাসি নিয়ে হাজির হয়ে গেল জোয়োবো ট্র্যাকার। “আজ রাতে ক্যাম্প ফায়ারে কয়েকটা জানালার (ZANLA) রোস্ট খাওয়া যাবে।”
“তুমি তো খালি সে মজাতেই আছে। শয়তানের বাচ্চা, হাসতে হাসতে অন্যদের দিকে তাকাল শন।
“সরি, গাইজ। সালিসব্যুরিতে ফেরার রাস্তা তোমাদেরকেই খুঁজে নিতে হবে। আমি আর মাতা প্রেম করতে যাচ্ছি।” এবারে গ্যারির উদ্দেশ্যে বলে উঠল, “তুমি ওদেরকে বীচক্রাফটে করে নিয়ে যাও। লাগেজ থাকাতে কয়েকবার যাওয়া আসা করতে হবে। কিন্তু হেলিকপ্টারের আশায় বসে থাকার চেয়ে তো সেটাই ভালো। কান পেতে কি যেন শুনল শন্।” ওই তো আসছে।”
খুব দ্রুত গিয়ে সকলের সাথে হাত মেলালো শন।
“আগামী সিজনে আবার আপনার সাথে দেখা হবে। সিগনোরা? পরের বার, প্রমিজ করছি এত বড় একটা চিতা…”
“ডিয়ার ড্যাড। ঝামেলা থেকে দূরে…” এবারে এলসা পিগটেলিকে ইশারা করে বাবাকে বলে উঠল শন।
“বাই, লিটল সিস্টার” ইসাবেলাকে বিদায় জানাতে গেল শন; কিন্তু ভাইকে আঁকড়ে ধরে বেলা,
“সাবধানে থেকো শন। নিজের দিকে খেয়াল রেখো।”
বোনকে জড়িয়ে ধরে এসব অনর্থক কথা শুনে যেন হাসল শন্। “স্যার ক্লারেন্সের কাছ থেকে আসা ইনকামিং ফায়ারের জন্য তুমিই বরঞ্চ বেশি বিপদে আছে।” মিটমিটিয়ে হাসল শন্।
আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই গাছের উপরে কালো পোকার মতো দেখা গেল হেলিকপ্টার।
ছোট ভাইয়ের সাথে হাত মেলালো শন্। “ধুত্তোরি গ্যারি, কে চায় তোমার চাকরি-যখন আমি এসব করতে পারি?”
ইসাবেলার গলা ধরে এলো। তার লম্বা চাওড়া বীরের মতো ভাই ছোট খাটো মাতাতুর কাঁধে এমনভাবে হাত রাখল যেন এই দুই শিকারি যোদ্ধার মাঝে ভরসা নামক বিশেষ একটা সম্পর্ক আছে।
ধুলার মেঘ উড়িয়ে আকাশে উঠে গেল হেলিকপ্টার। চলে গেল দক্ষিণ পশ্চিমে।
***
হেলিকপ্টারের মেইন কেবিনে পাশাপাশি বসে আছে দশজন স্কাউট। সবারই কাছে ভারী সব অ্যামুনিশন, ওয়াটার বোটল, গ্রেনেড।
সকলেই জানে যে শ্বেতাঙ্গ আর কৃষাঙ্গ যখন কমরেড হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে তখনই ফুটে উঠে মানুষ হিসেবে আসল সৌন্দর্য। যোদ্ধা হিসেবেও একে অন্যের দক্ষতা দেখাতে তখন মরিয়া হয়ে উঠে সবাই।
ব্যালান্টাইন স্কাউটেরা রোডেশিয়ার সবচেয়ে উত্তম ফাইটিং ফোর্স হলেও কথাটা স্বীকার করতে চায় না স্পেশাল এয়ার সার্ভিস, সেলাস স্কাউট কিংবা রোডেশিয়ান রেজিমেন্ট।
কেবিনে উঠে সকলকে দেখেই চিনতে পারল শন; নাম ধরে ধরে ওদের খোঁজ খবর নিল। শ্রদ্ধাভরে উত্তর দিল স্কাউটের দল। স্কাউটদের মাঝে শন আর মাতাতু এমনিতেই বেশ বিখ্যাত। তার উপরে আবার তরুণ সৈন্যদেরকে প্রশিক্ষণও দিয়েছে শন্ আর মাতুত।
স্কাউটদের প্রতিষ্ঠাতা আর কমান্ডিং কর্নেল রোলান্ড ব্যালানটাইন শনকে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বানাবার জন্যে বহু চাল চেলেছেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। তাই যে কোনো প্রয়োজনেই দুজনকে ডেকে পাঠাতে দ্বিধা করেন না।
