“ঠিক তাই।” ভারী কণ্ঠে উত্তর দিলেন স্যার ক্লারেন্স, “এই তো তুমি বুঝতে পেরেছ।”
“ওহ, ঈশ্বর আমাকে বাঁচাও!” মনে মনে নানা’র মতো স্বগতোক্তি করে উঠল বেলা। “থাক আজকের জন্য যথেষ্ট।” আস্তে করে স্যার ক্লারেন্সের বাহুজোর থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল বেলা।
“আমি একবার চেষ্টা করে দেখি” বলেই এত পরিষ্কারভাবে গুলি ছুড়ল যে ঘুঘুটা ডানা ঝাঁপটানোর সময়টাও পেল না।
“ইউ আর ন্যাচারাল” বিড়বিড় করে উঠলেন স্যার ক্লারেন্স; হাসি চাপতে চট করে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল বেলা।
“তোমার ভাইদের কাছে শুনেছি তুমি নাকি ঘোড়া চালাতেও ওস্তাদ।” বেলা’র পিছ নিলেন স্যার ক্লারেন্স। “কয়েকদিন আগেই একটা অসাধারণ আরবীয় স্ট্যালিয়ন কিনেছি। আফ্রিকাতে আর দ্বিতীয়টা আছে কিনা সন্দেহ। তোমাকে খুব দেখাতে ইচ্ছে করছে।”
“ওহ?” তেমন একটা আগ্রহ দেখাল না বেলা; শর্ট গান লোড করতে বেশি ব্যস্ত, “কোথায় আছে?”
“রুসাপে’তে আমার র্যাঞ্চে। কাল বিকেলে ফেরার সময় চাইলে অ্যালোয়েট আমাদেরকে ওখানে নামিয়ে দেবে।”
“হয়ত ভালই লাগবে” একমত হলো বেলা।” আপনার স্ত্রীর সাথেও দেখা হয়ে যাবে।”
একটুও অপ্রস্তুত হলেন না স্যার ক্ল্যারেন্স, “ধূর, আমার স্ত্রী’তো এখন ইউরোপে বেড়াচ্ছে। এবার হেসে ফেলল বেলা।
“আমাকে একটু ভাবতে হবে স্যার ক্লারেন্স।”
এবারে হেসে ফেললেন স্যার ক্লারেন্সে, “ওখানে এমন কিছু নেই যা তুমি হ্যাঁন্ডেল করতে পারবে না, মাই ডিয়ার।”
ওদিকে ঝড়ের মতো চিন্তা করে চলেছে বেলা। মনে মনে ভাবছে। অ্যান্টিসাংশন স্ট্র্যাটেজিসহ রোডেশিয়ার সম্পূর্ণ কাহিনী জানতে পারলে না জানি কি পুরস্কার দেবে তার রহস্যময় প্রভু। “কর্তবের খাতিরে সবকিছুই সই।” নিজেকে আশ্বস্ত করল বেলা।
“ব্যাগ ভরে গেছে।” চিৎকার করে এলসা’কে জানালেন শাসা। শটগান গুটিয়ে নিয়ে নিলেন হাতের মাঝে। কৃষাঙ্গ দুই শিশুকে ডেকে আদেশ দিলেন এলসা, “পাকামাইসা! দুটোকে তুলে নাও!”
শেষ দুটো পাখিকে তুলে আনার জন্য দৌড় লাগাল ছেলেরা। পার্ক করে রাখা ট্রাকের দিকে এগিয়ে গেলেন শাসা আর এলসা। ইতিমধ্যে গাছের মাথায় নেমে এসেছে সূর্য।
“অলরাইট” হঠাৎ করেই যেন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এমন ভাবে বলে উঠলেন এলসা,
“মাফ করো-” অবাক হয়ে গেলেন শাসা, “কী হয়েছে?”
“আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি।” ঘোষণা করলেন এলসা, “ শতসাপেক্ষে তোমাকে সিনডেক্স ২৫-এর ফর্মুলা আর প্ল্যান্টের ব্লু-প্রিন্ট দেয়া হবে।”
আস্তে করে শ্বাস ফেললেন শাসা, “আমি তোমার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার জন্য সবটুকু চেষ্টা করবো।”
সন্ধ্যাবেলা বাকি সদস্যদের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্যাম্প-ফায়ারের পাশে এলে বসেছেন শাসা আর এলসা। নিজের শর্তগুলো জানিয়ে দিলেন সিগনোরা।
“ব্যক্তিগতভাবে তোমাকে গ্যারান্টি দিতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রী কিংবা অফিস উনার প্রত্যক্ষ কর্মকর্তা ব্যতীত কেউ সিনডেক্স ব্যবহার করতে পারবে না।”
চারপাশে তাকিয়ে কেউ আড়ি পাতছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিলেন শাসা। “আমি তোমার নামে শপথ করে বলছি, প্রধানমন্ত্রীর লিখিত সম্মতিপত্র নেয়া হবে।”
“এবারে আসা যাক ব্যবহার নীতির ক্ষেত্রে, সিনডেক্স কখনো দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো জনগণের উপর ব্যবহার করা যাবে না।” খুব সাবধানে বলে চললেন এলসা, “অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা গৃহযুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও কোনো গৃহযুদ্ধ অথবা ঠেকানোর জন্য কোনো আন্দোলনের উপরেও ব্যবহার করা যাবে না।”
“আমি রাজি।”
“তবে হ্যাঁ, বিদেশি কোনো সামরিক বাহিনীকে পর্যদুস্ত করার জন্য চাইলে ব্যবহার করা যাবে; তখনই যখন প্রথাগত অস্ত্র দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে।”
“আমিও একমত।”
“আরেকটা শর্ত আছেএকটু বেশিই ব্যক্তিগত।”
“বলো।”
“লুজানে’তে তুমি নিজে এসে সবকিছু ঠিক করে যাবে।”
“তাহলে তো আমার চেয়ে বেশি খুশি আর আর কেউ হবে না।”
সাফারিতে আজকেই শেষ সকাল। লাগেজ প্যাক করে চিজোরা ছাড়ার জন্য সকলেই প্রস্তুত। নিজ নিজ তাঁবুর বাইরে তৃপ হয়ে পড়ে থাকা লাগেজগুলো একটু পরে ক্যাম্প স্টাফেরা এসে নিয়ে যাবে।
ব্যবসা শেষ; চুক্তিগুলোও সাইন করা হয়ে গেছে। এলসা গিগনাটেলি রোডেশিয়ান তামাক আর ক্রোমের মার্কেটিভের ব্যাপারে সাহায্য করতে রাজি হয়েছেন। অন্যদিকে শিপিং আর ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা বন্দরে পণ্য খালাসের দায়িত্ব নিয়েছে গ্যারি।
পুরো দলটাকেই স্যালিসব্যরিতে পৌঁছে দেবে রোডেশিয়ান এয়ারফোর্স হেলিকপ্টার। কিন্তু ত্রিশ মিনিট আগেই ক্যাম্পের কাছে নামার কথা থাকলেও এখনো আসেনি হেলিকপ্টার। সবাই তাই খানিটা চিন্তিত।
পিমস্ নাম্বার ওয়ানে চুমুক দিতে দিতে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সবাই এসে দাঁড়িয়েছে ক্যাম্প ফায়ারের কাছে।
একসাথে দাঁড়িয়ে আছে বেলা আর শন
“তুমি কেপ টাউনে আসবে না?” বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করল বেলা।
“এই সিজনের শেষে চেষ্টা করবো, যদি তুমি আমার জন্যে সুন্দরী নারী লাইন বসাতে রাজি থাকো। “তোমারও সাহায্য লাগে?” ভাইয়ের সাথে মজা করল বেলা। হেসে ফেলল শন্।
“দেখো আমি তো বাবার মতো খারাপ নই। বিধবাটার সাথে এখন ইউরোপে দৌড় দেবে।”
দু’জনেই তাকাল শাসা আর এলসা’র দিকে।
