“গড আই লাভ ইট। নিষেধাজ্ঞা আরোপের জাতিসংঘের এই আহাম্মকি সিদ্ধান্ত বেশ রোমান্টিক তাই না। নিজেকে যেন ক্যাপ্টেন ব্লাড মনে হচ্ছে। ইয়ো হো হো অ্যান্ড আ বোতল, অব রাম। দেশপ্রেমের সাথে সাথে পকেটে ঢুকে যাবে। পচাত্তর মিলিয়ন পাউন্ডস হার্ড ক্যাশ, ট্যাক্সম্যানেরা যার খোঁজও পাবে না। বেশ মজা না?”
হেসে ফেলল বেলা, “তুমি আর কত ধনী হতে চাও?”
এবারে হাত সরিয়ে নিল গ্যারি, “তুমি কি বলতে চাও যে আমি অর্থ লোলুপ? সেটা না বেলা, আমি শুধু এই মহান খেলার একজন খেলুড়ে। পুরস্কারের জন্যে খেলছি না, জেতার আনন্দেই খেলছি। জীবনের অনেকটা সময়েই কেবল ব্যর্থতা পেয়েছি। এখন আমাকে জিততেই হবে।”
“তাই তো” এবারে বেলাও বেশ সিরিয়াস হয়ে উঠল,
“তুমি সম্পদ নিয়ে খেলছ আর হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হবে তোমার ইগো সামলাতে।”
“যদি আমি জিতে যাই; তাহলে ওরাও জিতে যাবে। নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীগণ নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের জন্য সাধারণ মানুষকে অনাহার আর অভাবের দিকে ঠেলে দেন। তাই আমার মতে, এটা হল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ওদের চেষ্টা ভণ্ডুল করে দিয়ে আমি দুঃস্থদের হয়েই লড়াই করছি।”
“ওহ, গ্যারি নিজেকে হোয়াইট নাইট ভেব না প্লিজ-”
“অবশ্যই, আমি তাই-না।” বেলা’কে থামিয়ে দিল গ্যারি। আমি হচ্ছি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার হোয়াইট নাইট, বুঝলে? দক্ষিণ আফ্রিকার উভয় সংকট কাটাবার একমাত্র উপায় হলো জনগণের অবস্থার উন্নতি সাধন বিশেষত শিক্ষা আর সম্পদ প্রাপ্তি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, প্রথা নয় বরঞ্চ মেধার জোরে গড়ে তুলতে হবে সমাজ। কৃষাঙ্গদেরকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করতে হবে। এমন একটি সমাজ যেখানে সবাই তার প্রাপ্য সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেই মতো অর্জন করবে-এটাই হলো পুঁজিবাদী।”
“গ্যারি, তোমাকে তো কখনো এভাবে আর কথা বলতে শুনিনি।”
“লিবারেল কিংবা ক্যাপিটালিস্ট নই। বর্ণবাদ একটা প্রাগৈতিহাসিক সামন্ত ব্যবস্থা। যে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরাপকারীদের চেয়েও এটাকে আমিই বেশি ঘৃণা করি। মধ্যযুগের ইউরোপে সামন্ততন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল পুঁজিবাদ। শ্রম আর পণ্যের অবাধ বাজার হরণকারীকে পছন্দ করে না পুঁজিবাদ। তাই সুযোগ পেলে বর্ণবাদেকেও ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে মানতে চান না নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীদের দল। তাদের উত্তম অভিপ্রায়ের পন্থা হলো ভুল।”
হা করে তাকিয়ে রইল বেলা, “এভাবে তো কখনো ভাবিনি।”
“দারিদ্রতাই দমননীতি তৈরি করে। গরিবদেরকে দমিয়ে রাখা সহজ। কিন্তু একজন শিক্ষিত আর সমৃদ্ধিশালী কাউকে চিরতরে দমিয়ে রাখা অসম্ভব।”
“তার মানে তুমি রাজনৈতিকভাবে নয় বরঞ্চ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কথাই বলছ?”
“ঠিক তাই।” মাথা নেড়ে হা হা করে হেসে উঠল গ্যারি।
“আর বছরে পচাত্তর মিলিয়ন পাউন্ড কামিয়ে আমি তার উদাহরণও সেট করে দেব।”
শনের পিছু পিছু ট্রাক নিয়ে পুলের কাছে চলে এলো গ্যারি।
দুই মাইল দূরের নদীর পরিষ্কার পানি অসম্ভব পছন্দ করে ঘুঘু পাখি। সূর্যাস্তের ঘণ্টাখানেক আগে তাই বাতাসে ধূসর নীল ধোয়ার মতো করে ঝাঁকে ঝকে ধেয়ে আসে এদিকে।
পানি থেকে পাঁচ কিংবা ছয়শ মিটার দূরে বন্দুক রেডি করল শন্। কিন্তু পাখিগুলোকে ভড়কে দিতেও চায় না। তার বদলে চায় পাখিগুলো যেন নির্বিঘ্নে পানি খেতে নদীতে এগিয়ে যায়।
জোড়ায় জোড়ায় সেট করা হল বন্দুক। আশা করা যায় প্রতিটি বন্দুক পঞ্চাশটা করে পাখি মারতে পারবে; তবে কেবল ফ্লাইং ডাভস।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে শাসা’র সাথে জোড়া বাধলেন এলসা; আকাশ বাতাস ছাপিয়ে শোনা গেল একে অন্যকে উৎসাহ দেয়ার চিৎকার; “বেলো! মন্টো বেলো!”
“জলি গুড শট! ওয়েল ডান!”
গ্যারি আর শন একসাথে পশ্চিমে পড়ে থাকা লম্বা কাঠের আঁড়ালে চলে গেল। একবার শন্ মিস্ করাতে চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে হেসে ফেলল গ্যারি; নিয়ে এলো বেঁচে যাওয়া পালক ছেঁড়া পাখিটাকে। মাথার চুল ঝাঁকিয়ে গ্যারিকে অগ্রাহ্য করতে চাইল শন; কিন্তু ক্রোধে কালো হয়ে গেল মুখ।
বাকিদের কাছ থেকে দূরে দক্ষিণ দিকে স্যার ক্লারেন্সের সাথে এলো ইসাবেলা। গুলি ছুঁড়তে ব্যবহার করছে বাবার দেয়া বিশ গজ হল্যান্ড এন্ড হল্যান্ড। কিন্তু প্রায় এক বছর যাবৎ প্র্যাকটিস না থাকাতে তেমন সুবিধে করতে পারছে না।
পর পর তিনটা পাখি মিস করে একটাতে গুলি লাগাতে পারল বেলা; কিন্তু নিজের উপরই বিরক্তি লাগল, আহত পাখি একদম সইতে পারে না, “ধুত্তোরি!”
জোড়া পাখি মেরে বেলার দিকে এগিয়ে এলেন স্যার ক্লারেন্স। “বলছি কি, তোমাকে যদি কয়েকটা টিপস্ দেই, তাহলে কিছু মনে করবে?”
বেলা হাসি দিতেই ওর পেছনে চলে এলেন স্যার ক্লারেন্স। “ডান হাত দিয়ে বন্দুক ধরতে হবে।” বেলা’কে প্রায় জড়িয়ে ধরে হাত দুটো নিজের বিশাল মুঠিতে নিয়ে নিলেন স্যার ক্লারেন্স। “কিন্তু মনে রাখবে সব কাজ করবে বাম হাত। ডান হাত শুধু ট্রিগার টিপবে।”
বেলা’র কাঁধে বন্দুক তুলে দিলেন, “মাথা তোল। দুই চোখ মেলে তাকাও। পাখিটাকে দেখো, বন্দুক নয়।”
আফটার শেভ লোশন’ও ঢাকতে পারেনি স্যার ক্লারেন্সের পুরুষালি গন্ধ।
“ওহ, তাই নাকি?” আস্তে করে নিজের পেছন দিক আন্দোলিত করে তুলল বেলা।
